মেসিকে বর্ণনা করার ভাষা হারাচ্ছেন স্কালোনি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
মেসিকে বর্ণনা করার ভাষা হারাচ্ছেন স্কালোনি
মেসি ও স্কালোনি। ছবি : সংগৃহীত

লিওনেল মেসিকে নিয়ে নতুন করে বলার মতো শব্দ যেন ফুরিয়ে আসছে লিওনেল স্কালোনির। জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে আবারও ইতিহাস গড়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। ৩-১ গোলের জয়ে ৮০ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন তিনি।

Advertisement

ডালাস স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘জে’-এর শেষ ম্যাচে শুরু থেকে খেলেননি মেসি। স্কালোনি একাদশে ৯ পরিবর্তন আনেন। আর্জেন্টিনা আগেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছিল। তাই এই ম্যাচে নিয়মিতদের বিশ্রাম দিয়ে স্কোয়াডের অন্যদের সময় দেওয়াই ছিল পরিকল্পনা। ঘণ্টাখানেক পর মাঠে নামেন মেসি। এরপর নিজের কাজটা আবারও করে দেন ৩৯ বছর বয়সী তারকা।

মেসির ৮০ মিনিটের ফ্রি-কিক শুধু আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেনি, বিশ্বকাপ ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় লিখেছে। এর আগে টানা ছয় বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ছিল ফ্রান্সের জুস্ত ফঁতেন ও ব্রাজিলের জাইরজিনিওর সঙ্গে ভাগাভাগি। জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে সেই রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেন মেসি।

ম্যাচ শেষে মেসি প্রসঙ্গে স্কালোনির কণ্ঠে ছিল বিস্ময়। বারবার একই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আর্জেন্টিনা কোচ যেন নতুন শব্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তার কথায়, মেসিকে নিয়ে কথা বলা কখনো কখনো অস্বস্তিকর হয়ে যায়, কারণ কী বলা যায় তা আর বুঝে ওঠা কঠিন।

স্কালোনির মতে, মেসি চাইলে পুরো ৯০ মিনিটই খেলতে পারতেন। তবে প্রতিপক্ষকে ছোট না করেও তিনি সতীর্থদের মাঠে সময় দিতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে সামনে নকআউট পর্ব থাকায় নিজেকেও সতেজ রাখতে চেয়েছেন। স্কালোনি আরও জানান, মেসি সংখ্যা বা রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি ভাবেন না। তার কাছে দলই আগে।

আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রথমার্ধেই। জিওভানি লো সেলসোর ফ্রি-কিক ও লাউতারো মার্তিনেজের পেনাল্টিতে বিরতির আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি ছাড়া অন্য কারও করা প্রথম গোল ছিল এগুলো।

জর্ডান অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে একবার ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। বদলি মুসা আল তামারির গোলে ব্যবধান কমায় তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেসির ফ্রি-কিক জর্ডানের ফেরার আশা শেষ করে দেয়।

এই গোলের পর চলতি বিশ্বকাপে মেসির গোল হলো ছয়টি। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের গোলদৌড়ে তিনিই এগিয়ে। ২০২২ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব থেকে শুরু হওয়া তার গোলের ধারাবাহিকতা ২০২৬ বিশ্বকাপেও থামছে না। অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া, ফ্রান্সের পর এবার আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষেও গোল করলেন তিনি।

আর্জেন্টিনার জন্য এই ম্যাচের আরেকটি স্বস্তি স্কোয়াডের গভীরতা। স্কালোনি একাদশে ৯ পরিবর্তন এনেও জয় পেয়েছেন। যারা টুর্নামেন্টে খুব বেশি সুযোগ পাননি, তাদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট আর্জেন্টিনা কোচ। তার মতে, সবাই বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য এবং জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ দেখিয়েছে, প্রয়োজনে তাঁদের ওপরও ভরসা করা যায়।

তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে গ্রুপ ‘জে’ শেষ করেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। অভিষেক বিশ্বকাপেই নকআউটে ওঠা দলটিকে হালকা করে দেখছেন না স্কালোনি। তার মতে, কেপ ভার্দে দ্রুতগতির, ভালো ফুটবল খেলা দল এবং গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো প্রতিপক্ষকেও কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে।

আর্জেন্টিনা তাই নিখুঁত গ্রুপ পর্ব শেষ করলেও সামনে সতর্ক। কিন্তু সতর্কতার মধ্যেও তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা সেই পুরোনো নাম। বয়স ৩৯, তবু মেসির পা এখনও ইতিহাস লিখছে। আর স্কালোনি যেন সেই ইতিহাস বর্ণনা করার ভাষাই খুঁজে চলেছেন।