আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ফিলিপাইন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ফিলিপাইন
ছবি: সংগৃহীত

ভেনিজুয়েলায় শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে শত শত মানুষের মৃত্যুর একদিন পর দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তাৎক্ষণিক কোনো সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়নি।

Advertisement

শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫ টা ৪২ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে দক্ষিণ ফিলিপাইনে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিন্দানাও দ্বীপের সারাঙ্গানি শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫২ দশমিক ৪ কিলোমিটার গভীরে।

নতুন এই ভূকম্পনের তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে একই এলাকায় আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইনসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রচণ্ড ভূকম্পনের কারণে সমুদ্রের তলদেশ কিছু এলাকায় প্রায় ২ মিটার (৬.৬ ফুট) উপরে উঠে এসেছে। ফলে সমুদ্রের নিচে থাকা প্রবাল ও অন্যান্য সামুদ্রিক জীব উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে, যা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

দেশটির পরিবেশ বিভাগের মতে, ভূমিকম্পের দুই দিন পর স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। ‘উপকূলীয় উত্থান’ নামে পরিচিত এই ভূতাত্ত্বিক ঘটনার কারণে কিছু স্থানে উপকূলরেখা প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত সমুদ্রের দিকে এগিয়ে গেছে, অর্থাৎ আগে যে অংশ পানির নিচে ছিল তা এখন স্থলভাগে পরিণত হয়েছে।

ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলক্যানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি এক বিবৃতিতে বলেছে, কোটাবাটো ট্রেঞ্চের স্থানচ্যুতির ফলে সারাঙ্গানি এবং দাভাও অক্সিডেন্টাল (প্রদেশগুলোর) উপকূলরেখার একাংশ উপরের দিকে উঠে এসেছে... যার ফলে পূর্বে নিমজ্জিত সমুদ্রতল উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। মানচিত্রে প্রায় ২ মিটার উচ্চতা বৃদ্ধি চিহ্নিত করা হয়েছে।

দক্ষিণ মিন্দানাও উপকূল থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) দূরে অবস্থিত কোটাবাটো ট্রেঞ্চে ঘন ঘন ভূকম্পন ঘটে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে রেকর্ড করা হাজার হাজার ছোট ছোট ভূমিকম্পের একটি ‘ঝাঁক’ও অন্তর্ভুক্ত।

এদিকে স্থানীয় সময় বুধবার আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জন, আর আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন অর্ধলাখ।

দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকার। যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সাহায্যের হাত বাড়ি দিয়েছে। রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরপর দুটি ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরায়। ভূমিকম্পে এই রাজ্যটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার ৭০ হাজারেরও বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ধসে পড়েছে শতাধিক ভবন। ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজে প্রাণপণ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

লাতিন আমেরিকার দেশটির ২৩টি রাজ্যের মধ্যে অন্যতম লা গুয়াইরার আনুমানিক জনসংখ্যা ৪ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি। উত্তর উপকূল বরাবর অবস্থিত এই রাজ্যে ভেনিজুয়েলার অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর ও প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে।