logo
Advertisement

গণহত্যার পর পালিয়ে গিয়ে ক্ষমতায় ফেরার নজির নেই: দিলারা চৌধুরী

এশিয়া পোস্ট সাক্ষাৎকার
গণহত্যার পর পালিয়ে গিয়ে ক্ষমতায় ফেরার নজির নেই: দিলারা চৌধুরী
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সেমিনার, টকশো ও লেখায় সংবিধান সংস্কার, জুলাই আন্দোলন এবং রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে কয়েক দশক ধরে কথা বলে আসছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী। সম্প্রতি অতিথি হয়ে এসেছিলেন এশিয়া পোস্টের ধারাবাহিক অনুষ্ঠান আলাপনে। কথা বলেছেন বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তার ভাবনা এবং সমসাময়িক নানা বিষয়ে। সঞ্চালনা করেছেন রাহাত রূপান্তর

Advertisement

এশিয়া পোস্ট: আপনি শিক্ষকতা ও গবেষণার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেছেন। দেশ-বিদেশে পড়িয়েছেন, কাছ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও প্রত্যক্ষ করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। সব মিলিয়ে এইমুহূর্তে কেমন আছেন?

ড. দিলারা চৌধুরী: আসলে ভালো থাকারই কথা। দীর্ঘ ১৭ বছরের একটি শ্বাসরুদ্ধকর রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহাওয়া থেকে মুক্তি পেয়ে দেশের মানুষ আজ কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে। এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের বাক্‌স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা চরমভাবে খর্ব করা হয়েছিল। দেশজুড়ে গুমের এক ভয়াবহ সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল এবং ‘আয়নাঘর’-এর মতো ভয়ংকর সব ঘটনা আমরা দেখেছি। এই দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির পর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার যে অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান ঘটল, তা আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখিয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, ২০২৪ সালের এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

একটি রাষ্ট্রকে যদি অত্যন্ত কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হয় এবং সেখানে যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে রাষ্ট্রের কাঠামোকে সামগ্রিকভাবে ঠিক করা জরুরি। কারণ, মানুষই রাষ্ট্র তৈরি করে আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো মানুষের মৌলিক চাহিদা, নিরাপত্তা, শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। কিন্তু আমরা দেখেছি, দশকের পর দশক ধরে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং কাঠামোগুলো অত্যন্ত ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল, প্রায় ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল। রাষ্ট্র আসলে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে নয়, বরং ব্যক্তির ইচ্ছানুযায়ী পরিচালিত হচ্ছিল। এই গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল, রাষ্ট্রের এই ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠান ও কাঠামোগুলোকে আমূল সংস্কার করা হবে। এর ফলে রাষ্ট্র এমনভাবে পরিচালিত হবে যাতে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের সময় যে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিল, যা দীর্ঘদিনেও পূরণ হয়নি, তা যেন এই ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হয়। আমি দীর্ঘদিন ধরে এই স্বপ্নই দেখে আসছি।

এশিয়া পোস্ট: আপনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রকাঠামো পর্যবেক্ষণ করছেন। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে বর্তমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চরিত্রকে কীভাবে দেখেন? বাংলাদেশ কি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পেরেছে?

ড. দিলারা চৌধুরী: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে আমরা সাধারণ অর্থে বুঝি জনগণের শাসন। যেহেতু ১৮ কোটি মানুষ একসঙ্গে বসে সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না, তাই তারা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে এমনভাবে পরিচালনা করবে, যা শেষ পর্যন্ত একটি কল্যাণকর রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে। কিন্তু আপনি যদি বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তব রাজনৈতিক চরিত্রের কথা জিজ্ঞাসা করেন, তবে এর পেছনের দীর্ঘ ইতিহাস আমাদের দেখতে হবে।

আমরা পাকিস্তান আমলের ইতিহাস কমবেশি সবাই জানি। পাকিস্তান রাষ্ট্রে যখন আমাদের মূল দাবিগুলোকে অবজ্ঞা ও লঙ্ঘন করা হলো, তখন আমরা এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে নতুন পথচলা শুরু করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মোড় ও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে আমি যা দেখছি, তা হলো আমাদের রাষ্ট্রটি আসলে গোড়া থেকেই সঠিকভাবে গঠিত হতে পারেনি। রাষ্ট্রের সঠিক কাঠামোগত ভিত্তি যেমন গড়ে ওঠেনি, তেমনি এর সমান্তরালে আমাদের জাতি গঠন প্রক্রিয়াটিও অসম্পূর্ণ থেকে গেছে।

আমরা যদি ইউরোপের ফ্রান্স বা ইতালির মতো দেশগুলোর দিকে তাকাই, তবে দেখব তারা প্রথমে একটি জাতি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলেছে। একই ভৌগোলিক সীমানায় দীর্ঘকাল বসবাস করার ফলে, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের একটি একক জাতি হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং এরপর তারা নিজেদের রাষ্ট্র তৈরি করেছে। অন্যদিকে, এশিয়া বা আফ্রিকার উত্তর-উপনিবেশবাদী রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে অনেক সময় রাষ্ট্র আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং পরে রাষ্ট্র ক্ষমতার মাধ্যমে সমাজকে একতাবদ্ধ করে জাতি গঠনের প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই দুটির কোনোটিই সঠিকভাবে ঘটেনি।

আমার এই বক্তব্য হয়তো নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, তবে আমাদের বুদ্ধিজীবী, ইতিহাসবিদ এবং বিভিন্ন বিষয়ের গবেষকদের বাংলাদেশের এই জাতি গঠন প্রক্রিয়াটি নিয়ে আরও গভীরভাবে গবেষণা করা উচিত। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে ১৮ কোটি মানুষের বিশাল অংশই ধর্মীয় ও ভাষাগত দিক থেকে অত্যন্ত সমজাতীয়, যা পৃথিবীতে বিরল। এখানে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ একই ধর্মের এবং একই ভাষায় কথা বলে। কিন্তু এত কিছুর পরও আমাদের জাতীয় পরিচয়ের মূল ভিত্তিটি দুর্বল রয়ে গেছে।

পাকিস্তানের ভিত্তি ছিল দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও ধর্মীয় আদর্শ। কিন্তু আমরা দেখলাম সেই ভিত্তি কাজ করেনি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী যখন পূর্ব পাকিস্তানের ওপর তাদের আধিপত্য চাপিয়ে দিতে চাইল, তখন আমরা বাঙালি জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের অধিকারের লড়াই শুরু করলাম এবং এভাবে বাংলাদেশের জন্ম হলো। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেখা গেল বাঙালি তো কেবল আমরাই নই, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম কিংবা ত্রিপুরাতেও বিশালসংখ্যক বাঙালি বসবাস করেন। তাহলে আমাদের স্বতন্ত্র পরিচয়টি কী হবে? এই সংকটের সমাধান হিসেবে পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা সামনে নিয়ে আসেন, যা ছিল মূলত একটি বহুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ।

এশিয়া পোস্ট: আপনি ব্যক্তিগতভাবে কোন পরিচয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, বাঙালি নাকি বাংলাদেশি?

ড. দিলারা চৌধুরী: আমি ব্যক্তিগতভাবে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়টি ধারণ করতেই সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। যদি আমি বাংলাদেশকে এবং এ দেশের সামগ্রিক অস্তিত্বকে ধারণ করতে চাই, তবে বাংলাদেশি পরিচয়টিই সবচেয়ে বেশি যুক্তিসঙ্গত। জিয়াউর রহমান যে জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, তা ছিল বহুত্ববাদী। অন্যদিকে শেখ মুজিবুর রহমানের বাঙালি জাতীয়তাবাদের ধারণাটি ছিল কিছুটা একমুখী, যার অর্থ দাঁড়ায় এ দেশের অধিবাসী কেবল বাঙালিরাই।

কিন্তু জিয়াউর রহমান দেখিয়েছেন যে, ঐতিহাসিক কারণে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের চেয়ে আমরা সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের আমাদের মতো বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান কিংবা ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি। আমরা এই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে বসবাসকারী বাঙালি, অবাঙালি, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং পাহাড়ের আদিবাসী, সবাই মিলে একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই রাষ্ট্রটি গঠন করেছি। তাই আমাদের প্রকৃত পরিচয় হওয়া উচিত বাংলাদেশি।

এই যে জাতীয় পরিচয়ের এবং রাষ্ট্রের মূল ভিত্তির দুর্বলতা, এ কারণে আমাদের রাষ্ট্র কাঠামোটি সঠিকভাবে গড়ে ওঠেনি। ফলে যারা বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছে, তারা রাষ্ট্রকে কোনো আদর্শিক বা দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে ধারণ করেনি। তারা মনে করেছে যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যখন পাওয়া গেছে, তখন জনগণের কল্যাণ বা অধিকারের দিকে মনোযোগ না দিলেও চলবে। তারা রাষ্ট্রকে তাদের ব্যক্তিগত বা দলীয় সম্পদ মনে করেছে এবং যেভাবে খুশি সেভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার করেছে। প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই রাষ্ট্রের একমাত্র মালিক হওয়ার কথা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বাংলাদেশ তার কোনোটিই নিশ্চিত করতে পারেনি, তাই একে আমরা কোনো অর্থেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে পারি না।

এশিয়া পোস্ট: আপনি ১৯৭৫, ১৯৯০, ২০০৭ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো দেখেছেন। এত বড় বড় পট পরিবর্তন বা ক্ষমতার বদল হওয়ার পরও রাষ্ট্রের মৌলিক চরিত্রের পরিবর্তন হয় না কেন?

ড. দিলারা চৌধুরী: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। এমনকি ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রেও এই প্রশ্নটি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পরেও একই সংকট তৈরি হয়েছিল। এর মূল কারণ হলো, দৃশ্যমান রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি অদৃশ্য রাষ্ট্র বাস করে, যাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ডিপ স্টেট’।

রাষ্ট্রের মালিক জনগণ হলেও এর প্রকৃত ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকে একটি নির্দিষ্টরূপে এলিট শ্রেণির হাতে। এই শ্রেণির মধ্যে রয়েছে সিভিল ব্যুরোক্রেসি, সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ, বিশেষ কিছু বুদ্ধিজীবী, একাডেমিশিয়ান এবং সংস্কৃতিকর্মী। তারা কখনোই এই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সাধারণ জনগণের হাতে চলে যাক, তা চায় না। কারণ, প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের হাতে চলে গেলে তাদের ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত এবং শ্রেণিগত যে কায়েমি স্বার্থ ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তাতে চরম আঘাত লাগবে।

এই এলিটদের সুযোগ-সুবিধা টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে দেয় না। কারণ, প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সুনির্দিষ্ট নিয়মের আইনের ভিত্তিতে চলে, তবে তারা জনগণকে সেবা দিতে বাধ্য হবে। কিন্তু বর্তমানের এই এলিট-শাসিত রাষ্ট্রে ক্ষমতা ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানো হয় যাতে পরবর্তী সময়ে যারা ক্ষমতায় আসবে, তারাও যেন ওই এলিটদেরই অংশ হয় এবং তারা কেবল নিজেদের স্বার্থই রক্ষা করে চলে।

যেমন একটি ছোট উদাহরণ দিই। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একসময় কৃষকদের জন্য ১০ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন এবং তাদের ঋণের ক্ষেত্রে কিছুটা গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমরা তৃণমূল থেকে কী খবর পাচ্ছিলাম? স্থানীয় এমপি এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সার ও সার ডিলারের অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হয়ে বসে আছেন এবং তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সার মজুত করছেন। এই এমপিরা আসলে কারা? এরাও তো সেই সুযোগসন্ধানী এলিট শ্রেণিরই অংশ। তারা জনগণকে বঞ্চিত করে নিজেদের পকেট ভারী করছে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের ক্ষুব্ধ হয়ে গোডাউন ভেঙে সার লুট করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

১৯৯১ সালে বিএনপির আমলেও আমরা সারের চরম কেলেঙ্কারি দেখেছি, যেখানে অধিকারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল এবং কৃষক মারা গিয়েছিল। অথচ এই কৃষক, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক এবং প্রবাসে দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে রেমিট্যান্স পাঠানো মানুষগুলোই আমাদের রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু এই মেহনতি মানুষগুলো রাষ্ট্রের কাছ থেকে কী সুবিধা পায়? তাদের মৌলিক অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা কিংবা মানবাধিকারের কতটুকু রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পেরেছে? সমস্ত সুযোগ-সুবিধা আর সম্পদ ভোগ করছে কেবল ওই সুবিধাবাদী এলিটরা। আর তারা বিভিন্ন কূটকৌশলের মাধ্যমে এই এলিট-শাসিত রাষ্ট্রীয় কাঠামোটিকেই টিকিয়ে রাখছে।

এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা কেন বারবার কোনো ব্যক্তি বা দলের হাতে একীভূত হয়ে স্বৈরাচারী রূপ নেয়? এর পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সমস্যা কতটা দায়ী?

ড. দিলারা চৌধুরী: এটি আসলে অনেকগুলো উপাদানের সমন্বিত রূপ। প্রথমত, আমাদের দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে কোনো গণতান্ত্রিক চর্চা নেই। দলগুলো সম্পূর্ণ ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে পরিচালিত হয়। ফলে দলের ভেতরের অন্য কোনো নেতা বা নীতিনির্ধারক শীর্ষ নেতার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সত্য কথা বা যৌক্তিক পরামর্শ দেওয়ার সাহস পান না। কারণ, ভিন্নমত প্রকাশ করলেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার বা কোণঠাসা করে দেওয়া হবে। রাজনৈতিক দলের ভেতরে যদি ন্যূনতম গণতন্ত্র না থাকে, তাহলে তৃণমূলের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বা তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কান পর্যন্ত পৌঁছায় না।

এশিয়া পোস্ট: আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা কেমন দেখেন?

ড. দিলারা চৌধুরী: কিছুটা ব্যতিক্রমী চর্চা হয়তো জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে দেখা যায়। সেখানে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ নির্বাচন ও নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটে। তবে জামায়াতের এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দলগুলোর মতো নয়, এটি মূলত কমিউনিস্ট পার্টিগুলোর সাংগঠনিক কাঠামোর মতো। দলের সুনির্দিষ্ট কাঠামোর ভেতরেই এই নির্বাচন হয় এবং তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেয়। জামায়াতে আমরা নেতৃত্বের ধারাবাহিক পরিবর্তন দেখি। তাদের শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে যখন ফাঁসি দেওয়া হলো, তখন দল হিসেবে তারা বড় ধাক্কা খেলেও দ্রুত নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করে সেই শূন্যতা পূরণ করেছে।

কিন্তু বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টির মতো বড় দলগুলোতে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা নেই। একটি রাজনৈতিক দল নিজে যদি অগণতান্ত্রিকভাবে চলে, তাহলে সে ক্ষমতায় গিয়ে দেশের গণতন্ত্র কীভাবে পুনরুদ্ধার করবে? তারাও তখন রাষ্ট্র কাঠামোকে এমনভাবে সাজিয়ে রাখতে চাইবে, যাতে কেবল তাদের নিজস্ব দল এবং তাদের সমর্থক গোষ্ঠী উপকৃত হতে পারে।

এই সহায়ক শক্তির মধ্যে থাকে আমলাতন্ত্র, সামরিক বাহিনী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শ্রেণির দলকানা শিক্ষক। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশের প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের অনুগত লোকদের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আবার ক্ষমতার পরিবর্তনের পর দেখা যাচ্ছে অন্য দলপন্থি শিক্ষকদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বে বসানো হচ্ছে। এটি কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না। এই নোংরা সংস্কৃতি মূলত কায়েমি এলিটদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটি অপকৌশল। ফলে ক্ষমতার হাতবদল হলেও শোষণের মৌলিক কাঠামোটি অপরিবর্তিত থাকে।

এশিয়া পোস্ট: মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা নেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সেটি কীভাবে শুরু হলো এবং এর প্রভাব কী?

ড. দিলারা চৌধুরী: এই সংস্কৃতিটি মূলত একটি বিশেষ দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সব ধরনের অন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও প্রাধিকার আদায়ের মানসিকতা থেকে তৈরি হয়েছে। একে বলা যেতে পারে সস্তা সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টা। আমি একটি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম এবং দেশের জন্য কোনো একটি কাজ করেছি, কেবল এই পরিচয়ের সূত্র ধরে নিজেকে রাষ্ট্রের সমস্ত সুযোগ-সুবিধার যোগ্য মনে করার যে সংস্কৃতি, তা দেশ স্বাধীনের পরপরই শুরু হয়েছিল এবং দুঃখজনকভাবে আজও শেষ হয়নি।

এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রে। যে তরুণরা রক্ত দিয়ে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিল, তাদের সেই স্বপ্নকে পদদলিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিয়োগ, বদলি কিংবা পদোন্নতি, সব ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে দলীয় আনুগত্য ও অর্থ লেনদেন প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়া বা সুবিধাজনক জায়গায় বদলি হওয়ার জন্য কোটি কোটি টাকার অনৈতিক ঘুষের লেনদেন এখন ওপেন সিক্রেট।

এর ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে দক্ষ, সৎ ও যোগ্য পেশাদার জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন ছিল, তা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান, পুলিশ, আমলাতন্ত্র ও প্রতিটি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অদক্ষ ও অযোগ্য লোকের ছড়াছড়ি। তারা সাধারণ মানুষের একটি সহজ সমস্যার সমাধান করতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নেয় এবং কোনো জবাবদিহিতা দেখায় না। চরম অদক্ষতা ও ঘুষের আগ্রাসন আমাদের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দিয়েছে।

এশিয়া পোস্ট: ১৯৭২ সালের সংবিধান নিয়ে এখন নানা বিতর্ক চলছে। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে এর কাঠামোগত মূল্যায়ন কী?

ড. দিলারা চৌধুরী: আমি মনে করি, ১৯৭২ সালের সংবিধানের শুরুতেই একটি বড় ধরনের মৌলিক গলদ বা ‘বিসমিল্লাহ গলদ’ ছিল। সাধারণত একটি স্বাধীন দেশের সংবিধান প্রণয়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট গণপরিষদ গঠিত হয়, যারা জনগণের সরাসরি প্রতিনিধি হিসেবে সংবিধান রচনা করে।

কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের পর যে গণপরিষদ গঠন করা হয়েছিল, সেটি গঠিত হয়েছিল ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এ দেশের মানুষ স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংবিধান রচনার জন্য ভোট দেয়নি, তারা ভোট দিয়েছিল মূলত পাকিস্তানের অধীনে স্বায়ত্তশাসনের জন্য। সুতরাং, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে একটি নতুন গণপরিষদ গঠন করা জরুরি ছিল। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীও তখন এই দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দাবিকে উপেক্ষা করা হয়েছিল।

এর পাশাপাশি মাত্র নয় মাসের মধ্যে অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল। এই সংবিধানের প্রধান ত্রুটি ছিল, এতে ক্ষমতার কোনো ভারসাম্য বা জবাবদিহিতার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সরকারের নির্বাহী বিভাগ তথা প্রধানমন্ত্রীর হাতে এত বেশি একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রী চাইলে রাতকে দিন আর দিনকে রাত করতে পারতেন। এর ওপর যুক্ত হয়েছিল তৎকালীন সময়ে শেখ মুজিবুর রহমানের দানবীয় ব্যক্তিত্ব।

সবকিছু মিলিয়ে ওই সংবিধানটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য নয়, বরং একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এবং তাকে সামনে রেখেই তৈরি করা হয়েছিল। এর পেছনে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতেরও সুনির্দিষ্ট প্রভাব ও মদদ ছিল, যাতে শেখ মুজিবুর রহমান একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারেন। তারা হয়তো আশা করেছিল, এই ধারা অনন্তকাল বজায় থাকবে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের যে নির্মম ট্র্যাজেডি ঘটে গেল, তা তারা আগে থেকে আঁচ করতে পারেনি।

এশিয়া পোস্ট: সংবিধান সংশোধন ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে এখন অনেক আলোচনা হচ্ছে। দুটির মধ্যে পার্থক্য কী এবং বাংলাদেশের জন্য কোনটি বেশি জরুরি?

ড. দিলারা চৌধুরী: আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন আমাদের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি এই চমৎকার বিতর্কটি সামনে নিয়ে এসেছেন। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই দুটি বিষয় আসলে একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত এবং পরিপূরক। আপনি যখন সংবিধানের কোনো নির্দিষ্ট ধারা বা অনুচ্ছেদ সংশোধন করবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার পরিণতি হিসেবে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন হবে।

উদাহরণস্বরূপ, নির্বাহী বিভাগের ওপর সংসদের নিয়ন্ত্রণ বা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানের কোনো ধারা সংশোধন করা হলে এর ফলে আমাদের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সুশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এটি সংসদ সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে এবং নির্বাহীর একচ্ছত্র ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। সুতরাং, কেবল কাগজ-কলমে সংশোধন করলেই হবে না, সেই সংশোধনের হাত ধরে যেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণগত সংস্কার আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই দুটি প্রক্রিয়া সমান্তরালভাবেই চলতে হবে।

এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের পেছনে কি শুধু আওয়ামী লীগ দায়ী, নাকি রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাও দায়ী?

ড. দিলারা চৌধুরী: রাজনৈতিক সংস্কৃতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, সংস্কৃতি কোনো সংবিধানে বা আইনে লিখে দেওয়া যায় না, এটি মানুষ তার আচরণের মাধ্যমে ধারণ করে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যেও নানা ত্রুটি বা ক্ষয় দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সেখানকার আমলাতন্ত্র এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এখনও এই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিটি ধারণ করেন যে, নির্বাচনকে প্রভাবিত বা কারসাজি করা মানে দেশের গণতন্ত্রের মূলে আঘাত করা।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই সংস্কৃতি আমরা বাংলাদেশে কখনোই ধারণ করতে পারিনি। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় নির্বাচনেও যখন শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ছিল, তখন নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হয়েছিল এবং কোনো কোনো আসনে জোর করে নিজেদের প্রার্থীদের জেতানো হয়েছিল। জাতীয় নেতৃত্ব যখন ক্ষমতার লোভে নির্বাচনকে কলুষিত করে, তখন নিচের স্তরের মানুষ বা কর্মকর্তারাও সেটিকে স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে ধরে নেয়। সমাজও ধীরে ধীরে দুর্নীতিকে স্বাভাবিকতা হিসেবে দেখতে শুরু করে।

তবে এ দেশের মানুষ সবসময় এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে এবং আন্দোলনের মুখে একসময় সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছিল। এই ব্যবস্থার অধীনে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এই নিরপেক্ষ ব্যবস্থাটিকে নষ্ট করার পেছনে বিএনপিও কম দায়ী ছিল না। তারা দলীয় স্বার্থে বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে নিজেদের অনুগত লোককে প্রধান উপদেষ্টা বানানোর চেষ্টা করেছিল এবং প্রায় দেড় কোটির বেশি ভুয়া ভোটার তালিকা তৈরি করেছিল।

বিএনপির বপন করা সেই বিষবৃক্ষ শেখ হাসিনার আমলে এসে বিশাল মহীরুহে পরিণত হলো। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেল, যা ছিল প্রহসন। ২০১৮ সালে রাতে ভোট কেটে নেওয়া হলো এবং ২০২৪ সালে এসে আমরা দেখলাম এক অদ্ভুত ডামি নির্বাচন। অর্থাৎ নির্বাচনি ব্যবস্থাকে তারা এক চরম জালিয়াতির শিল্পে পরিণত করে ফেলেছে।

এশিয়া পোস্ট: সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের ‘উগ্রবাদ’ নিয়ে বক্তব্য এবং নির্বাচন নিয়ে যে গুঞ্জন রয়েছে, সেটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

ড. দিলারা চৌধুরী: রিজওয়ানা হাসানের এই বক্তব্যটি আমি গণমাধ্যমে দেখেছি। আমি টেলিভিশনে তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রশ্ন করেছি, আসলে ‘উগ্রবাদ’ বলতে তারা কী বোঝাতে চাচ্ছেন? জামায়াতে ইসলামীকে তো কোনোভাবেই উগ্রবাদী দল বলা যায় না। তারা একটি নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাজনীতি করা দল। রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক থেকে তাদের চরম দক্ষিণপন্থি দল বলতে পারেন। যেমন আমাদের দেশে চরম বামপন্থি দলও রয়েছে।

কিন্তু ‘উগ্রবাদী’ হলো তারা, যারা আমাদের দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই মানে না। যেমন হিজবুত তাহরীর বা আনসার আল ইসলামের মতো আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠনগুলো, যারা বৈশ্বিক খেলাফত প্রতিষ্ঠার সশস্ত্র আদর্শে বিশ্বাস করে এবং সহিংসতায় লিপ্ত হয়। যারা দেশের সংবিধান মেনে রাজনীতি করছে, তাদের উগ্রবাদী তকমা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রিজওয়ানা হাসানের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট যে তারা আসলে জামায়াতকেই উগ্রবাদী দল হিসেবে ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন এবং একটি পূর্বপরিকল্পিত উপায়ে আসন বণ্টনের চেষ্টা করেছেন। ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়েও একসময় গুঞ্জন ছিল যে, তিনি একটি বিশেষ সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন এবং হয়তো একটি নির্দিষ্ট দলের হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে যাবেন, যাতে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা বা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা না হয়।

জনগণের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর গঠিত এই সরকারকে আমরা আশা করেছিলাম, তারা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নতুন ইতিহাস তৈরি করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি আবারও আসন ভাগাভাগি ও ক্ষমতার অলিখিত আপসের ঘটনা ঘটে, তবে তা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক হবে এবং এটি আবারও সংসদীয় স্বৈরাচারের জন্ম দেবে।

এশিয়া পোস্ট: আওয়ামী লীগের পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার আলোচনা এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্যের পর রাষ্ট্রের করণীয় কী হওয়া উচিত?

ড. দিলারা চৌধুরী: আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের একটা চেষ্টা পর্দার আড়াল থেকে চালানো হচ্ছে, তা আমরা অনেকেই লক্ষ্য করছি। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, ব্যক্তি শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতৃত্ব আর কোনোদিনও এই দেশের রাজনীতিতে সম্মানের সঙ্গে ফিরে আসতে পারবে না।

এই অবস্থায় রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান কাজ হলো রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড, বিগত দিনের প্রতিটি গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা। আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচারের দিকে এগোতে হবে, যেমনটি অতীতে ল্যাটিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা বা চিলির ক্ষেত্রে সামরিক জান্তাদের বিচারের মাধ্যমে করা হয়েছিল।

এটি জরুরি, কারণ রাষ্ট্রে বন্দুকের জোরে মানুষের ওপর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হলে সমাজের নৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। যারা বিচারের বাইরে থেকে যায়, তারা মনে করে তাদের হাতে বন্দুক থাকলে তারা যে কোনো অন্যায় করতে পারে। এই নৈতিক অবক্ষয় রোধ করতে এবং ভবিষ্যতে কোনো সরকার যাতে এই ধরনের ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি করতে না পারে, তার জন্য কঠোর বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার। আইসিসিতে ইতোমধ্যে এই গণহত্যার মামলা গিয়েছে এবং জাতিসংঘের একটি বিস্তারিত স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনও রয়েছে। সুতরাং, বিচারই হচ্ছে একমাত্র পথ।

এশিয়া পোস্ট: আপনি জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় কীভাবে দেখেন? এটি কি সফল বিপ্লব, গণ-অভ্যুত্থান, নাকি কেবল সরকার পরিবর্তন?

ড. দিলারা চৌধুরী: আমি একে একটি ‘অসমাপ্ত বিপ্লব’ হিসেবেই অভিহিত করব। কারণ, একটি বিপ্লব তখনই সম্পূর্ণ বা সফল হয়, যখন তার চূড়ান্ত ফসল সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছায়। আমরা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করতে পেরেছি ঠিকই, কিন্তু যে স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করে এই আন্দোলন হয়েছিল, রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন, একটি বৈষম্যহীন কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তোলা, আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বিপ্লব একদিনে সফল হয় না, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। যদি এই স্বপ্নগুলো পূরণ না হয়, তবে কিছুদিন পর মানুষ আবার তাদের অধিকারের দাবিতে জেগে উঠবে। তবে আমি আশা করি, আমাদের এই অসমাপ্ত বিপ্লব অবশ্যই পূর্ণতা পাবে।

এশিয়া পোস্ট: জুলাই আন্দোলনের পর যে অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি হয়েছিল, ৫ আগস্টের পর এত দ্রুত সেই ঐক্যে বিভক্তি দেখা দিল কেন?

ড. দিলারা চৌধুরী: এর মূল কারণ হলো, আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই অভ্যুত্থানের যে মূল চেতনা বা ‘জুলাই সনদ’, তা মানতে চাইছে না। তারা কেবল দ্রুত ক্ষমতার পরিবর্তন এবং নির্বাচন আদায়ের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। এর পাশাপাশি যারা এখন ক্ষমতায় বসেছেন, তারাও সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের যাপিত জীবনের বাস্তব কষ্টগুলো থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন।

যে কোনো সরকারের সবচেয়ে বড় পুঁজি হলো জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখা। সেখানে যদি ফাটল ধরে, তবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। আমি সবসময় বলেছি এবং এখনও বলি, আপনারা যারা এখন ক্ষমতায় আছেন, তারা যেন ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা না করেন এবং ইতিহাসের পাতায় নিজেদের সুন্দরভাবে টিকিয়ে রাখার জন্য জুলাইয়ের সেই পবিত্র চেতনাকে সম্মান জানান।

এশিয়া পোস্ট: সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় সাত মাসের কার্যক্রমকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ও ব্যর্থতা কী?

ড. দিলারা চৌধুরী: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আমাদের অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ ৫ আগস্টের পর দেশ যখন একটি চরম নেতৃত্বহীন ও ভয়াবহ অরাজক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল এবং বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপের বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন তার মতো একজন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব এগিয়ে আসার কারণেই বাংলাদেশ সেই বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে। এটি ছিল এই সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য। কিন্তু তাদের প্রধান ব্যর্থতা হলো, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে ধরনের যোগ্য, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক একটি জাতীয় টিম তার তৈরি করা উচিত ছিল, তিনি তা করতে পারেননি। উনার কিছু মন্ত্রীর মধ্যে চরম অহংকার দেখা গেছে। সম্প্রতি যে মন্ত্রিসভার রদবদল করা হলো, তাতেও জনগণ গভীরভাবে হতাশ হয়েছে। যারা গত কয়েক মাসে বিভিন্ন সেক্টরে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ, গ্যাস কিংবা ব্যাংকিং খাতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, তাদের বাদ না দিয়ে উল্টো বিতর্কিত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মন্ত্রণালয়ের মতো জায়গায় বসানো হয়েছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।

এশিয়া পোস্ট: আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে ‘মক্কা প্যাক্ট’ নিয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের এই সামরিক জোটে যুক্ত হওয়া উচিত কি না?

ড. দিলারা চৌধুরী: মক্কা প্যাক্ট নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কিছুটা তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। যারা এর পক্ষে কথা বলছেন, তারা মনে করেন তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর এই সামরিক জোটে অংশ নিলে আমাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে একক কোনো দেশের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমবে। এর ফলে আমাদের সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব বাড়বে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, বাংলাদেশ তার সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আসছে। এটি একটি সামরিক জোট হওয়ায় এখানে যুক্ত হলে আমাদের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির মূল চেতনার সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক হতে পারে। পশ্চিমা শক্তিগুলো বা ইসরায়েল এই জোটকে তাদের বিরুদ্ধে একটি সুন্নি ব্লক হিসেবে দেখছে। এখানে শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বের মতো কোনো ভূরাজনৈতিক ফাঁদ তৈরি হচ্ছে কি না, তাও আমাদের গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।

তাছাড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কোনো সদস্য রাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে আমাদের সেখানে সৈন্য পাঠাতে হবে কি না, এমন অনেক সূক্ষ্ম ও স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে। তাই তাড়াহুড়ো না করে আমাদের অপেক্ষা করে পরিস্থিতি দেখা উচিত এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এশিয়া পোস্ট: একসময় আপনাকে বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী হিসেবে মূল্যায়ন করা হতো। কিন্তু ৫ আগস্টের পর বিএনপির বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন। বিএনপির সঙ্গে আপনার এই দূরত্ব কেন তৈরি হলো?

ড. দিলারা চৌধুরী: প্রথমত, আমাকে ‘বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী’ তকমা দেওয়াটাই ভুল ছিল। আমি কখনোই কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি করিনি। তবে আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ, তার প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, পররাষ্ট্রনীতি এবং দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের কর্মসূচির একজন কট্টর সমর্থক ছিলাম এবং এখনও আছি। আমি বেগম খালেদা জিয়ার আন্দোলনের প্রতিও সহানুভূতিশীল ছিলাম।

কিন্তু বর্তমান বিএনপির সঙ্গে আমার দূরত্বের মূল কারণ হলো, আমি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে মন থেকে ধারণ করেছিলাম এবং একে রাষ্ট্রের ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ মনে করেছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, এই ঐতিহাসিক আন্দোলন ও সংস্কারের আকাঙ্ক্ষার পাশে আমি বিএনপিকে যেভাবে দেখতে চেয়েছিলাম, সেভাবে পাইনি। তারা তাদের সেই পুরনো দলকানা ও সংকীর্ণ রাজনীতির গণ্ডি থেকে বের হতে পারেনি। ফলে আমি একজন স্বাধীন চিন্তার মানুষ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে তাদের এই নীতিহীন রাজনীতির সমালোচনা করতে বাধ্য হয়েছি।

এশিয়া পোস্ট: একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে আপনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও গবেষণার আলোকে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে কেমন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান?

ড. দিলারা চৌধুরী: আমি ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত ও ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের এই কল্যাণকর রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে আমাদের নিজস্ব সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা উচিত। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের যে ইসলামিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি রয়েছে, তাকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। এটি কোনো উগ্রবাদ নয়, বরং আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিতুমীর বা শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলনের যে ঐতিহাসিক সংগ্রামী ঐতিহ্য রয়েছে, তা আমাদের তরুণদের জানা উচিত। আমি এমন একটি বাংলাদেশ রাষ্ট্র দেখতে চাই, যা তার ঐতিহাসিক গৌরব ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ধারণ করে বিশ্ব দরবারে একটি আত্মমর্যাদাশীল ও বৈষম্যহীন কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

উপস্থাপক: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ম্যাডাম, আপনার মূল্যবান সময় থেকে আমাদের সময় দেওয়ার জন্য এবং এত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ তুলে ধরার জন্য।

ড. দিলারা চৌধুরী: আপনাকে এবং আপনার দর্শকদেরও অনেক ধন্যবাদ।