‘বইমেলায় নকল বই পেলেই লেখক-প্রকাশকের জেল’—শিক্ষামন্ত্রীর নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

“বইমেলায় চলবে ভোক্তা অধিকারের অভিযান। নকল ও নিম্নমানের লেখা বই পেলেই আটক হবেন লেখক-প্রকাশক, জেল-জরিমানা” শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এমন ঘোষণা দিয়েছেন দাবি করে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে দেখা যায়, নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রীর ছবির উপরের দিকে আলোচিত দাবিটি বসানো হয়েছে। ছবিটির উপরের দিকে দ্য নিউইয়র্ক ২৪ নামে সংবাদ প্রতিষ্ঠানের আদলে লোগো এবং স্লোগান বসানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ এবং প্রোফাইল থেকে উল্লিখিত ফটোকার্ড এবং সংবাদ আকারে পোস্ট করা লিখিত দাবিটি ছড়াতে দেখা গেছে। এসব পোস্টে দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন নেটিজেনদের অনেকে। যেমন—বাহাউদ্দিন নাজির নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “সম্পূূর্ণ অনাবশ্যক একটি বিষয়। পাঠক-ক্রেতাকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। তারা কেউ এমন নাবালক নন যে, বই বিনা যাচাই করে কিনবেন। সরকারের সব কিছুতেই নাক গলানো উচিত নয়। দামের ব্যাপারটাও তাই। একই ওজনে ইলিশ ও রুই মাছের দামে যেমন পার্থক্য আছে, বইয়ের বেলাতেও তাই। ভোক্তা অধিদপ্তরের এখানে কোনো স্থান নেই।” বৈশাখি মণ্ডল নামে অন্য একজন লিখেছেন, “এমন হলে তো দারুণ! ছাপড়ি-নকলবাজ রাইটারদের তাহলে জব্দ করা যাবে।”
তবে এ সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবিটির পক্ষে যায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ সম্পর্কিত অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ চ্যানেলগুলোতে সার্চ করে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, “বইমেলায় চলবে ভোক্তা অধিকারের অভিযান। নকল ও নিম্নমানের লেখা বই পেলেই আটক হবেন লেখক-প্রকাশক, জেল-জরিমানা” এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি শিক্ষামন্ত্রী। একই দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।