কুষ্টিয়ায় পীরের মাজার ভাঙচুরের ঘটনাকে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা বানিয়ে প্রচার

‘বাংলাদেশ ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে সংখ্যালঘুদের অবস্থা’ ইংরেজিতে এমন ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় একটি পীরের মাজার ভাঙচুরের ঘটনাকে ভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রচার করা হচ্ছে এতে।
প্রচারিত ২০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, একদল লোক একটি স্থাপনার ছাদে এবং আশপাশে হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং এক্সে নেটিজেনরা ঘটনাটি বাংলাদেশে হিন্দুদের বাড়িঘরে মুসলিমদের বা সাম্প্রদায়িক হামলা দাবিতে প্রচার করছেন। ‘স্ট্যাটাস সনাতন’ নামে একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হলে, এতে ৪ হাজারের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি হাজার খানেকবার শেয়ার করা হয়েছে। এ ছাড়াও পোস্টটিতে সাড়ে ৪ শতাধিক মন্তব্য পড়েছে, যেখানে দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেক নেটিজেন।
তবে প্রচারিত ভিডিওটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার একটি ঘটনার সঙ্গে হুবহু মিল পাওয়া যায়। এ সম্পর্কিত দুুটি সংবাদ দেখুন এখানে এবং এখানে। সংবাদসূত্রে এবং উভয় ভিডিওর ফুটেজ যাচাইয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ এনে একটি দরবার বা আস্তানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনার ভিডিও এটি। পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (শনিবার) দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ এ এই ঘটনা ঘটে।
অর্থ্যাৎ, ‘বাংলাদেশ ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে সংখ্যালঘুদের অবস্থা’ ইংরেজি ক্যাপশনে সংখ্যালগু হিন্দুদের ওপর মুসলিমদের হামলার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভুয়া। মূলত কুষ্টিয়ায় কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ এনে ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ এ হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনার ভিডিও এটি।