‘ধানমন্ডি ৩২-এ মোমবাতি হাতে বৃদ্ধা’ দাবিতে ছড়ানো ছবিটি আসলে কলকাতার

‘ধানমন্ডি ৩২ এ শ্রদ্ধা জানাতে মোমবাতি নিয়ে গেলো একজন বৃদ্ধা মা’ এমন ক্যাপশনে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়াও একই ছবি ‘গত বছরের’ উল্লেখ করেও প্রচার করতে দেখা গেছে। তবে এশিয়া পোস্ট যাচাই করে দাবিটির সত্যতা পায়নি। মূলত কলকাতার একজন নারী চিকিৎসককে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদী পদযাত্রায় অংশ নেওয়া বৃদ্ধার ছবি বিভ্রান্তিকর দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে এতে।
আলোচিত দাবিতে ছবিটি ব্যবহার করে শত শত পোস্ট এবং রিলস ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। পোস্টগুলো যাচাই করে দেখা যাচ্ছে, নেটিজেনদের অনেকেই দাবিটি বিশ্বাস করে সেখানে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হাবিবুর রহমান সজল নামে একটি প্রোফাইল থেকে এমন একটি পোস্টে সাড়ে ৩ হাজারের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়া পড়েতে দেখা গেছে। এছাড়াও পোস্টটি শতাধিকবার শেয়ার করার পাশাপাশি একই পরিমাণ মন্তব্য পড়েছে। মন্তব্যগুলোর মধ্যে প্রায় শতভাগই ঘটনাটি বিশ্বাস করে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে।
তবে ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে প্রচারিত ছবির সাথে মিলে যায় এমন ছবি পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে, আলোচিত এই নারীর নাম মায়া রাণি চক্রবর্তী। তিনি ভারতের কলকাতার বাসিন্দা এবং তার বয়স ৯০ বছর।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট কলকাতার জোকা (Joka) এলাকায় তিনি তার বাসা থেকে জোকার ইএসআই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দিকে তিন কিলোমিটার পদযাত্রা করেন। “মেয়েরা রাত দখল করো” নামের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে হাজার হাজার নারী ও পুরুষের সমাগম হয়। এর আগে একই বছরের (২০২৪) ৯ আগস্ট কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৌমিতা দেবনাথ নামের একজন নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং পরবর্তিতে হত্যা করা হয়। এর প্রতিবাদেই আলোচিত আন্দোলনটি সংগঠিত হয়।
অর্থাৎ, ‘ধানমন্ডি ৩২ এ শ্রদ্ধা জানাতে মোমবাতি নিয়ে গেলো একজন বৃদ্ধা মা’ দাবিতে প্রচারিত ছবিটি আসলে বাংলাদেশেরই নয়। মূলত কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মৌমিতা দেবনাথ নামের একজন নারী চিকিৎসককে গণধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে পদযাত্রায় অংশ নেওয়া বৃদ্ধার ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারণা করা হচ্ছে।


