জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে যুবতীর লাশ উদ্ধার দাবিতে ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার

‘নারায়ণগঞ্জ জামাত নেতার বাড়ি থেকে প্রতিবেশী যুবতীর লাশ ট্রাঙ্কের মধ্যে থেকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর বক্তব্য যুবতীকে ধর্ষণ করে হত্যা করে! লাশ গুম করার জন্য ট্রাঙ্কের মধ্যে রেখে আড়াল করার চেষ্টা করতেছিল। বিভৎস নতুন বাংলাদেশ।’ এ ধরনের ক্যাপশনে নারায়ণগঞ্জে জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে যুবতীর লাশ উদ্ধার দাবিতে একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।
এ সম্পর্কিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। ভিন্ন জেলায় লাশ উদ্ধারের ভিডিও নারায়ণগঞ্জে জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার দাবিতে প্রচার হচ্ছে।
প্রচারিত ভিডিওটিতে একটি ট্রাংকের ভেতর তোশক মোড়ানো লাশ দেখানো হয়। ফেসবুকে গুরুদাশপুর উপজেলা যুবলীগ নামে একটি পেজ থেকে সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয়েছে। এরপর থেকে ভিডিওটি আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেজ এবং গ্রুপে শেয়ার করতে দেখা যায়। পোস্টগুলোতে দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানান নেটিজেনদের অনেকে। প্রতিবাদী যোদ্ধা নামে একটি পেজে আব্দুলকে হোসাইন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘কিংস পার্টি এনসিপি,স্বাধীনতাবিরোধী জামাতশিবির এবং বিশ্বাসঘাতক বিএনপি আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রি করে নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসেছে। হত্যা ধর্ষণ হুমকি অগ্নিসংযোগ চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে হবে।’
তবে প্রচারিত ভিডিওটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘শেরপুরে ট্রাংকের ভেতরে গলিত লাশ’ শিরোনামে একটি সংবাদের ভিডিওর সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়। এ ছাড়াও গত ২ এপ্রিল প্রকাশিত একাধিক সংবাদে ঘটনাটি প্রকাশিত হয়। দেখুন এখানে এবং এখানে। পরে ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত এক সংবাদে এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী দুজনকে গ্রেপ্তারের খবর জানা যায়। ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার নারীর নাম ডলি আক্তার (৩৬)। অসামাজিক কাজে দর-কষাকষির কারণেই ডলি আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
অন্যদিকে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে নারায়ণগঞ্জে জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে যুবতীর লাশ উদ্ধার সম্পর্কিত কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
অর্থ্যাৎ, ‘নারায়ণগঞ্জ জামাত নেতার বাড়ি থেকে প্রতিবেশী যুবতীর লাশ ট্রাঙ্কের মধ্যে থেকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী’ দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি মূলত শেরপুর জেলায় লাশ উদ্ধারের ভিন্ন ঘটনার একটি ভিডিও।