বিভ্রান্তি ছড়াতে মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা দাবির ৬ বছরের পুরোনো ভিডিও প্রচার

‘ভারতের আধিপত্য থেকে বের হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করল সেভেন সিস্টার্সের মণিপুর, নতুন দেশ হিসেবে মণিপুরকে স্বাগতম।’ বা ‘ভারত থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে মণিপুর!’ বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবিতে বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে প্রচারিত দাবিটি বিভ্রান্তিকর।
প্রচারিত দাবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সার্চ করে দেখা গেছে, বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের অফিসিয়াল পেজ এবং ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে দাবিটি ছড়ানো হয়েছে। ফটোকার্ড এবং ভিডিও সংবলিত পোস্টগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যেতেও দেখা গেছে। যেমন: বার্তা বাজার নামে একটি পেইজ থেকে সম্পর্কিত একটি ফটোকার্ড পোস্টে ২১ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি সহস্রাধিক মন্তব্য পড়তে দেখা গেছে।
আবার দাবিটি ফটোকার্ড ছাড়া শুধু লেখা অংশটি ‘ইলিয়াস হোসেন’ নামে একটি প্রোফাইলে পোস্ট করা হলে সেখানে ৫৮ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ২ হাজার ৬ শতাধিক মন্তব্য পড়তে দেখা গেছে। এ ছাড়াও দাবিটির পক্ষে করা অন্যান্য পোস্টগুলোর মন্তব্য ঘরে যাচাই করে দেখা গেছে নেটিজেনদের বেশিরভাগই দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সেখানে।
দাবিটির সাথে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে আন্তর্জাতিক ও ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণার সংবাদ সম্মেলন দাবিতে প্রচারিত ভিডিও এবং ছবি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে একটি ভিডিও পাওয়া যায়।
ভিডিওতে প্রাপ্ত তথ্য এবং সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে জানা গেছে, ঘটনাটি মূলত ২০১৯ সালের অক্টোবরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি সংবাদ সম্মেলনের। ভিডিওর ফ্রেমে দেখা যাওয়া দুই ব্যক্তির নাম ইয়ামবেম বিরেন এবং নারেংবম সামারজিত। এতে তারা দাবি করেছিলেন তারা একটি ‘গভর্নমেন্ট-ইন-এক্সাইল’ বা প্রবাসী সরকার গঠন করছেন এবং মণিপুরকে স্বাধীন ঘোষণা করছেন। বলছিলেন তারা মণিপুরের জন্য আলাদা রাষ্ট্র ঘোষণা করছেন এবং ‘মণিপুর স্টেট কাউন্সিল’ তৈরি করেছেন। উপস্থিত দুজন নিজেদের নতুন প্রবাসী সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী’ এবং ‘বিদেশ ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। যদিও তাদের ঘোষণা কিংবা সরকারের আন্তর্জাতিক কোনো স্বীকৃতির খবর পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, ভারত থেকে মণিপুর রাজ্যের স্বাধীনতা ঘোষণা দাবিতে প্রচারিত ছবি বা ভিডিওটি ৬ বছর আগের। মূলত ২০১৯ সালের পুরনো একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে দাবিটি নতুন করে ছড়ানো হচ্ছে যা বিভ্রান্তিকর। সম্প্রতি মণিপুর নিয়ে এ সম্পর্কিত কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।