‘বিএনপি ব্যাংক ও জামায়াত ব্যাংক’ নিয়ে ভিন্ন ব্যক্তির পোস্ট স্পিকারের নামে প্রচার

‘দুইটা ব্যাংক খোলেন। একটার নাম দেন “বিএনপি ব্যাংক”, আরেকটার নাম দেন “জামায়াতের ব্যাংক”। এরপর এক মাস পর দুই ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ জনসম্মুখে প্রকাশ করেন। তারপর বুঝব, এই দেশের মানুষ কার কাছে তাদের আমানত রাখতে নিরাপদ মনে করে’—জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এমন প্রস্তাব দিয়েছেন দাবিতে কিছু ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জাহেদুল ইসলাম নামে একটি আইডি থেকে এসম্পর্কিত একটি পোস্টে একদিনে আড়াই হাজারের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়া আসতে দেখা গেছে। এছাড়াও পোস্টটিতে অর্ধশতাধিক মন্তব্য এসেছে যেখানে নেটিজেনদের বেশিরভাগই দাবিটি সত্য ধরে নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে।
তবে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে তৌহিদুল ইসলাম রিয়াজ নামে একটি প্রোফাইল থেকে গত ১৩ জুন পোস্টটি করতে দেখা যায়। জাতীয় সংসদের স্পিকারের বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত লেখাটি হুবহু সেই পোস্টে পাওয়া যায়। তবে সেখানে বক্তব্যটি ‘সৈয়দ মহসিন আলী রুমি’ নামে একজনের নামে ক্রেডিট দিয়ে প্রচার করা হয়। পোস্টটিতে ৪০ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ৪ হাজারের বেশি নেটিজেন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এছাড়াও ৬ হাজারের বেশিবার পোস্টটি শেয়ার হতে দেখা গেছে।
স্পিকারের বক্তব্য দাবিতে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটি সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি। এছাড়াও প্রচারিত পোস্ট গুলোতেও স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ কখন, কোথায় এমন কথা বলেছেন, তার কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ‘সৈয়দ মহসিন আলী রুমি’ নামটি সার্চ করে একই নামে ফেসবুকে একটি প্রোফাইল পাওয়া যায়। সার্চ করে দেখা গেছে এই প্রোফাইল থেকেই চলতি বছরের ১১ জুন তারিখে সর্বপ্রথম পোস্টটি করা হয়েছে। অর্থাৎ, ‘সৈয়দ মহসিন আলী রুমি’ নামে একজন ব্যক্তির করা ফেসবুক পোস্ট সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের বক্তব্য দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।


