logo

৫৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার হিট ওয়েভ সতর্কতা জারি করেনি আবহাওয়া অফিস

৫৫ ডিগ্রি তাপমাত্রার হিট ওয়েভ সতর্কতা জারি করেনি আবহাওয়া অফিস

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তরের নামে একটি বিজ্ঞপ্তি ছড়ানো হয়েছে। এতে দাবি করা হচ্ছে, আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। 

এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে। 

তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

প্রচারিত পোাস্টগুলোতে ‘উচ্চ সতর্কতা জারি’ উল্লেখ করে দাবি করা হচ্ছে, ‘২৯ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে ১২ মে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঘরে ভিতরে থাকার অনুরোধ রইল। তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি থেকে ৫৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে (আবহাওয়া অফিস) পর্যায়ক্রমে কোনো কোনো জায়গায় আরও বাড়তে পারে। আগ্নেয়াস্ত্র, ধাতব পদার্থ,  গাড়ি চলাচল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, মোবাইল ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। খোলা আকাশের নিচে না যেয়ে ঘরে থাকুন এবং তরল খাবার খান। গাড়ির ভিতরে গ্যাস লাইটার বডি স্প্রে, অ্যালকোহল জাতীয় দ্রব্য বহন করবেন না। এ সময়ে কিউমুলাস মেঘের উপস্থিতির কারণে শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে।’

একই দাবিতে বেশকিছু ছবি এবং সবচেয়ে বেশি পরিমাণে লেখা বিভিন্ন গ্রুপে এবং পেজে পোস্ট করতে দেখা গেছে। শত শত নেটিজেন দাবিটি বিশ্বাস করে শেয়ার করতে দেখা গেছে। 

তবে এ সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’ নামে সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের আগের নাম ছিল অগ্নি নির্বাপণ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের আগাম আবহাওয়া সর্তকবার্তা জানানোর দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান নয়। 

এদিকে, প্রচারিত দাবিটির প্রেক্ষিতে ফায়ার সার্ভিস তাদের অফিসিয়াল পেজ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করে একটি পোস্ট করেছে। এতে তারা জানিয়েছে, ‘২৯ এপ্রিল হতে ১২ মে ২০২৬ এবং  ২৫ মে হতে ৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত গরমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও করণীয়সংক্রান্ত কোনো বার্তা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃক প্রচার করা হয়নি। এ বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও দেশের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলোতেও দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। 

অর্থ্যাৎ, ‘আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ সময়ে কিউমুলাস মেঘের উপস্থিতির কারণে শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে দাবিটি ভুয়া। বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তরের নামে বাংলাদেশে বর্তমানে কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নেই এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর এ ধরনের কোনো সর্তকতা জারি করেনি।