সুইজারল্যান্ডে ‘সারকো ক্যাপসুল’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার দাবিটি ভুয়া

সারকো ক্যাপসুল। দেখতে অনেকটা ছোটো আকারের মহাকাশযানের মতো। স্বেচ্ছায় মৃত্যু বরণে ইচ্ছুক ব্যক্তি এই ক্যাপসুলে প্রবেশের পর প্রথমে সেটির ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারপর ওই ব্যক্তির নিঃশ্বাসের জন্য ক্যাসুলের ভেতরে প্রবাহিত হতে থাকবে নাইট্রোজেন গ্যাসে পরিপূর্ণ একপ্রকার বিশেষ বাতাস। সেই বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার এক মিনিটের মধ্যে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু ঘটবে ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা ব্যক্তির।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে, সুইজারল্যান্ড সরকার আইনগতভাবে আত্মহত্যার এই মেশিন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এশিয়া পোস্ট যাচাই করে জানতে পেরেছে দাবিটি সত্য নয়।
দেশটিতে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে সহায়তামূলক আত্মহত্যা বা মারাত্মক শারীরিক, মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে একজন চিকিৎসকের সহায়তায় স্বেচ্ছায় নিজের জীবনাবসান ঘটানো বৈধ। কোনো ব্যক্তি মানসিকভাবে সুস্থতা পরীক্ষার পর এবং কোনো চাপ ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কিনা, তা নিশ্চিত করার পরই কেবল এর অনুমতি দেওয়া হয়। তবে দেশটির সরকার ও আদালত এই ক্যাপসুলটিকে সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এ সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যন্ত্রটি সম্পর্কে বেশকিছু প্রতিবেদন পাওয়া যায়। দ্য গার্ডিয়ানে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ‘২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুইজারল্যান্ডে প্রথমবারের মতো এই ক্যাপসুলটি ব্যবহারের মাধ্যমে একজনের জীবনাবসান ঘটার পর স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। এই ঘটনার সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়।’
এছাড়াও সুইসইনফো ডট সিএইচ নামে সুইজারল্যান্ডের একটি পত্রিকায় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের বরাতে জানানো হয়েছে, যন্ত্রটি দেশটির পণ্য সুরক্ষা আইন অনুযায়ী অনুমোদিত নয়। এছাড়াও, ক্যাপসুলটিতে রাসায়নিক উপাদান (নাইট্রোজেন) প্রয়োগ সুইজারল্যান্ডের রাসায়নিক পণ্য বিষয়ক আইনও লঙ্ঘন করে। আরও বিস্তারিত দেখুন এখানে এবং এখানে।
অর্থাৎ, সুইজারল্যান্ড সরকার আইনিভাবে আত্মহত্যা মেশিন বা সারকো ক্যাপসুল ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে দাবিতে প্রচারিত দাবিটি ভুয়া। দেশটিতে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে সহায়তামূলক আত্মহত্যা বা মারাত্মক শারীরিক, মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে একজন চিকিৎসকের সহায়তায় স্বেচ্ছায় নিজের জীবনাবসান ঘটানো বৈধ হলেও ক্যাপসুল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার দাবিটি সত্য নয়।


