বাবাকে হত্যা করে মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দাবিতে প্রচার হচ্ছে ভিন্ন ঘটনার ভিডিও

‘ঠাকুরগাঁওয়ে বাবা-মেয়ে ঈদের মার্কেট করে বাড়ী ফেরার পথে, বাবাকে হ/ত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে, মেয়েকে গণধর্ষন করলো দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশ এবং এলাকাবাসী এসে উদ্ধার করে।’ এ ধরনের ক্যাপশনে একটি ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।
এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। পুরোনো একটি ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার করে দাবিটি ছড়ানো হচ্ছে এতে।
প্রচারিত পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে বাবা-মেয়ে ঈদের মার্কেট করে বাড়ী ফেরার পথে, বাবাকে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে, মেয়েকে গণধর্ষন করলো দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশ এবং এলাকাবাসী এসে উদ্ধার করে।’ পোস্টের সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটিতে উপস্থিত জনতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা সে নারীকে বাবার নাম, ঠিকানা সম্পর্কিত প্রশ্ন করতে দেখা যায়।
প্রচরিত ভিডিওটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য রিভার্স ইমেজ সার্চ করে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম এটিএন নিউজে গত বছরের ১১ আগস্টে পোস্ট করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এতে ক্যাপশন এবং সংবাদটি থেকে জানা যায়, বিয়ের দিন ঠিক করতে যাওয়ার পথে চোর সন্দেহে জামাই-শ্বশুরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার সংবাদ এটি। রংপুরের জেলার তারাগঞ্জে দলিত সম্প্রদায়ের দুই ব্যক্তিকে ‘ভ্যান চোর সন্দেহে’ পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুরের রূপলাল দাস (৪০) ও মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়াভাটা গ্রামের প্রদীপ দাস (৩৫)। সম্পর্কে তারা জামাই-শ্বশুর। এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ দেখুন এখানে এবং এখানে।
সংবাদসূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি মূলত চোর সন্দেহে রংপুুরে দুইজনকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও, বাবাকে হত্য করে মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও নয়। অর্থ্যাৎ, উল্লিখিত ঘটনার ভিডিও এবং ছবি বাবাকে হত্যা করে মেয়েকে ধর্ষণের দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।