logo
Advertisement

‘আ.লীগ করার অপরাধে বৃদ্ধকে নির্যাতন’ দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
‘আ.লীগ করার অপরাধে বৃদ্ধকে নির্যাতন’ দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার
‘আ. লীগ করার অপরাধে বৃদ্ধকে নির্যাতন’ দাবিতে ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার। ছবি : ফেসবুক পোস্ট

সম্প্রতি একজন বৃদ্ধকে ‘জুতার মালা পড়ানো’ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, ‘আওয়ামী লীগ করার অপরাধে বৃদ্ধকে অপমান-নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।’ তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং ভিন্ন একটি ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে তাকে আটকায় গ্রামবাসী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেজ থেকে আলোচিত ভিডিওটি প্রচার করা হচ্ছে। ‘জয় বাংলা’ নামে এমন একটি পেজ থেকে ছড়ানো এ ধরনের একটি ভিডিও পোস্ট করা হলে, সেখানে সাড়ে ৪ হাজারের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়া আসতে দেখা গেছে। পোস্টটি তেরো শতাধিক বার শেয়ার করা হয়েছে। এ ছাড়াও পোস্টটিতে ৩ শতাধিক মন্তত্য এসেছে। মন্তব্যগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নেটিজেনদের অনেকেই দাবিটি সত্য মনে করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তবে প্রচারিত ভিডিওটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করেলে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে মিল আছে এমন একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। ফেসবুকে ‘ক্রাইম শেরপুর প্রতিদিন’ নামে একটি পেজে ভিডিওটির ক্যাপশনে জানানো হচ্ছে, ঘটনাটি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলা লংগার ইউনিয়নের। ভিডিওতে দেখা যাওয়া বৃদ্ধ একজন ঘটক। পোস্টটিতে অভিযোগ করা হচ্ছে, ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধকে মারধর করে স্থানীয় লোকজন।

অন্যদিকে, আরও একাধিক পেজে এবং ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি পোস্ট করতে দেখা গেছে, যেখানে শিশু ধর্ষণের অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে। এছাড়াও, ৪০ সেকেন্ডের ভিডিটিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন ব্যাক্তি অভিযুক্ত বৃদ্ধকে তার বয়স এবং শিশুর বয়স কত তা জিজ্ঞেস করতে দেখা যায়। এবং অন্য কোনো জায়গায় এ ধরনের ঘটনায় লিপ্ত না হওয়ার বিষয়ে মৌখিক স্বীকারোক্তি নিতেও দেখা গেছে। ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে শিশু ধর্ষণের অভিযোগসংক্রান্ত কথোপকথন হতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা আওয়ামী লীগ করার কারণে নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।