হাসপাতাল থেকে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়

‘নোয়াখালী সরকারি হাসপাতাল থেকে একজন মাকে, টাকা না দেয়ার কারণে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত পেটের ব্যথায় রাস্তায় বাচ্চা জন্ম দিতে বাধ্য হয়েছেন।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ ধরনের ক্যাপশনে একটি ছবি প্রচার করা হচ্ছে। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ফেসবুকে মানিক চৌধুরী নামে একটি প্রোফাইল থেকে এ সম্পর্কিত একটি পোস্টে নেটিজেনদের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ১৬ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি অন্তত ২ হাজারবার পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করা হয়েছে। এ ছাড়াও পোস্টটিতে হাজারের বেশি মন্তব্য এসেছে যেখানে মন্তব্যকারীরা বেশির ভাগই দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে।
তবে প্রচারিত ছবিটি রির্ভাস ইমেজ সার্চ করে প্রাইম টেলিভিশন নামে নেপালি একটি সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর প্রকশিত নোয়াখালীর দাবিতে প্রচারিত ছবিটির সঙ্গে মিলে যায় এমন দৃশ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়াও নেপালি সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টসহ একাধিক মিডিয়ায় সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে নেপালের সপ্তরী জেলার রাজবিরাজের পারসাহী গ্রামের বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা ববিতা কুমারী পাসওয়ানের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। এসময় প্রসব ব্যথা নিয়ে তিনি তার স্বামী হরেরাম পাসওয়ান এবং এক প্রতিবেশীর সঙ্গে গজেন্দ্র নারায়ণ সিং হাসপাতালে যান। সেখানকার প্রসূতি বিভাগ থেকে তাকে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেওয়া হলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় করতে পারেননি। পরে তার স্বামী হরেরাম পাসওয়ান টাকার ব্যবস্থা করতে বাইরে গেলে ববিতা কুমারীও পেছন পেছন যান। বিভিন্ন জায়গায় সাহায্য চেয়েও না পেয়ে একপর্যায়ে ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ ববিতার প্রসব ব্যথা অসহ্য হলে তখন কয়েকজন মহিলার সাহায্যে তিনি ফুটপাতে শুয়ে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
অন্যদিকে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে বাংলাদেশের জাতীয় বা নোয়াখালীর স্থানীয় কোনো সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, ‘নোয়াখালী সরকারি হাসপাতাল থেকে একজন মাকে, টাকা না দেওয়ার কারণে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত পেটের ব্যথায় রাস্তায় বাচ্চা জন্ম দিতে বাধ্য হয়েছেন।’ দাবিতে প্রচারিত ঘটনাটি মূলত নেপালের। বাংলাদেশের নোয়াখালীর ঘটনা দাবি করে প্রচারিত পোস্টগুলো মিথ্যা।

