logo
Advertisement

জগদল উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষিকা-শিক্ষার্থীর মারামারির দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জগদল উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষিকা-শিক্ষার্থীর মারামারির দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়
ভারতের মালদহের জগদল উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষিকা-শিক্ষার্থীর মারামারির ভিডিও বাংলাদেশের ঘটনা দাবিতে প্রচার। ছবি : ফেসবুক পোস্ট

‘দেশ আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, জগদ্দলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীর মাঝে মুখোমুখি মারামারি।’ এবং ‘জুলাই-এর হাত ধরে নতুন বাংলাদেশ!! জগদ্দলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীদের মারামারি!’ এ ধরনের ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়াও কিছু পোস্টে ভিডিওতে দেখানো ঘটনাটি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা জগদ্দলা উচ্চ বিদ্যালয়ের বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

Advertisement

প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পরা কয়েকজন শিক্ষার্থী ও এক নারী মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছেন। একপর্যায়ে এক ব্যক্তি এসে তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। আশপাশে আরও শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওর শেষ দিকে ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষার্থীদের সরে যেতে দেখা যায়। ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হলে ঘটনাটি বাংলাদেশের বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে নেটিজেনদের অনেককে। যেমন : দ্য ওয়াল নিউজ ডটকম নামে একটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি পোস্ট করা হলে পোস্টটিতে ২৪ ঘন্টার কম সময়ে দুই হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া আসতে দেখা গেছে।

যাচাইয়ে এশিয়া পোস্ট ভিডিওটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখে। এতে গত ২২ আগস্ট ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘কলকাতা নিউজের’ ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এতে ভিডিওটিতে প্রচারিত ঘটনাটির সঙ্গে কলকাতা নিউজের প্রতিবেদনের দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়। এছাড়াও এ সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সংবাদটির শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, ‘টিসি না দেওয়ায় মহিলা কর্মীকে মার ছাত্রের! রণক্ষেত্র মালদহের স্কুল, উস্কানির অভিযোগ খোদ প্রধানশিক্ষকের বিরুদ্ধে।’

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘দেড় বছর আগে জগদলা হাই স্কুলে অশিক্ষক কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন সে নারী। শুক্রবার এক প্রাক্তন ছাত্রকে স্কুল ছাড়ার শংসাপত্র (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট বা টিসি) দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে বচসা হয়। অভিযোগ, ছাত্রছাত্রীরা স্টাফ রুমে ঢুকে তাঁকে মারধর করেন। করেছেন। সে নারীর অভিযোগ, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক অমিত হালদারের উস্কানি এবং ইন্ধনেই ছাত্রেরা তাঁকে মারার সাহস পেয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে স্থানীয় বামনগোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।’

অর্থাৎ, দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার জগদ্দলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীর মাঝে মুখোমুখি মারামারি। দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর ঘটনাটি মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহের একটি বিদ্যালয়ে ঘটেছে যা বাংলাদেশের ঘটনা দাবিতে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে।

বিষয় :