logo

নামাজ পড়লে ১০ মার্ক কম নয়, বাধ্যতামূলক করে উৎসাহ দিচ্ছিলেন প্রধান শিক্ষক

নামাজ পড়লে ১০ মার্ক কম নয়, বাধ্যতামূলক করে উৎসাহ দিচ্ছিলেন প্রধান শিক্ষক
নামাজ পড়লে ১০ মার্ক কম নয়, বাধ্যতামূলক করে উৎসাহ দিচ্ছিলেন প্রধান শিক্ষক। ছবি : ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একজন হিন্দু শিক্ষকের একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তাকে বলতে দেখা যাচ্ছে, 'যেসব স্টুডেন্ট নামাজ পড়বে তাদেরকে ১০ মার্ক করে কম দেওয়া হবে'। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে আলোচিত দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং মাত্র ৬ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে সে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য খণ্ডিত আকারে প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে সংবাদমাধ্যম কালবেলায় একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এতে জানানো হয়, ঘটনাটি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার শিরিন হক পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সমর কৃষ্ণ রায় এ বক্তব্য দিয়েছেন বিদ্যালয়ে আয়োজিত ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে নামাজ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাকে শিক্ষার্থীদের জন্য নামাজ বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিতেও শোনা যায়।

প্রতিবেদনের সূত্রে ওই প্রধান শিক্ষকের (সমর কৃষ্ণ রায়) নামে ফেসবুক একাউন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। এতে এই ঘটনার বিষয়ে তার পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যসহ একটি ভিডিও পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে তিনি লিখেছেন, "আমি শিরীণহক পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) অনুষ্ঠানে আমার বক্তব্য ছিল এ রকম। কথা বলতে গেলে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়।(slip of tongue)। আপনারা সম্পুর্ন ভিডিও দেখলে আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলটা বুঝতে পারবেন।আমি এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

পোস্টটির সঙ্গে সংযুক্ত ৪ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে তাকে বলতে দেখা যায়, "তোমাদের প্রতি আমার একটাই মাত্র অনুরোধ, এইখানে নামাজ পড়ার সুব্যবস্থা আছে। তোমরা প্রত্যেকদিন নামাজ পড়বে। এবং আমি ধর্মীয় শিক্ষককে বলেছি, যেসব স্টুডেন্ট নামাজ পড়বে তাদের ১০ মার্ক করে কম দেওয়া হবে। কারণ নামাজ এখানে বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। সুতরাং আমি তোমাদের যদি নামাজের দিকে মন নিতে পারি, এই সময় তোমাদের কিন্তু অসৎ পথে কিংবা ভুল পথে চলার সময় এই বয়সটা.. তোমরা নামাজ পড়বা দেখবা.. পরিত্রাণ পাবা।"

ফলে তার বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ শোনে পরিষ্কার বোঝা যায়, তিনি বালিকা বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের জন্য নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক করে শিক্ষার্থীদের নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নামাজ পড়তে উৎসাহিত করেছেন। অর্থাৎ, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া আলোচিত মন্তব্যটি তার সম্পূর্ণ বক্তব্যে একটি শব্দের অনুপস্থিতি বা অনিচ্ছাকৃত ভুল। সম্পূর্ণ বক্তব্য থেকে ৫ সেকেন্ড কেটে প্রচার করায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।