গণভোটের রায় না মানলে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র—এ ধরনের বক্তব্য দেননি শহিদুল আলম

‘গণভোটের রায় না মানলে বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিএনপির উচিত হবে সময় থাকতে মেনে নেওয়া।’ ডিপ স্টেট এজেন্ট উল্লেখ করে ফটোসাংবাদিক শহিদুল আলমের নামে একাধিক ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
প্রচারিত ফটোকার্ডটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে, ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’ নামে একটি পেজ থেকে ফটোকার্ডটি সর্বপ্রথম (৩০ মার্চ) রাত ৮টায় পোস্ট করা হয়। এতে, শহিদুল আলমের ছবির ওপর আলোচিত দাবিটি বসিয়ে নিচে পরিচয় হিসেবে লেখা হয়েছে, শহিদুল আলম, ডিপ স্টেট এজেন্ট। উল্লিখিত পেজ থেকে দাবিটি আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করতে দেখা গেছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ২ শতাধিক বার শেয়ার হতে দেখা গেছে। এ ছাড়াও পোস্টটিতে ২ হাজারের বেশি মন্তব্য পড়েছে, যেখানে নেটিজেনদের অনেককেই দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। যেমন—গোলাম হোসেন গোলাম নামে একজন লিখেছেন, জুলাই আন্দোলনের সময় মনে হয়েছিল এরা প্রকৃত দেশপ্রেমিক। কিন্তু এখন দেখছি এরা নিজেদের স্বার্থে নিজের দেশকে ব্যবহার করছে।’ স্বদেশ দাশ নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘এরাই ইউনূস সাহেবকে দিয়ে দেশটাকে আমেরিকার কাছে ইজারা দিয়েছেন, এখন ১ লিটার তেল আনতে আমেরিকার অনুমতি লাগে।’
এ ছাড়া, তার নামে প্রচারিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে, ‘জুলাই সনদ মানলে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য বাংলাদেশকে অনুমতি দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।’
তবে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দেশের কোনো সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যের সঙ্গে মিলে এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। কি-ওয়ার্ড সার্চে গত ২৯ মার্চ প্রকাশিত ‘জনগণ রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা ভিন্ন বাংলাদেশ চায়’ এবং কাছাকাছি ভিন্ন শিরোনামে বেশকিছু সংবাদ পাওয়া যায়। প্রকাশিত এসব সংবাদে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তার বক্তব্য প্রকাশ করা হয়।
এতে তিনি সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘কেন আপনারা গদিতে আছেন চিন্তা করেন। কেন স্বৈরাচার দেশ থেকে চলে গেছে তা আপনাদের স্মরণে থাকা দরকার। বিপ্লব, গণ-অভ্যুত্থান, সরকারের দেশ থেকে পালানো এগুলোও সংবিধানে নেই। আপনার আর আমার মত মিলতে নাও পারে; কিন্তু জনগণের রায় আপনাদের মানতে হবে। স্বৈরাচারের সৈন্য-সামন্ত, টাকা-পয়সা সব ছিল; কিন্তু জনগণের রায় না মানার ফলে তাদের পতন হয়েছে।’ তার বক্তব্যের ভিডিওটি দেখুন এখানে।
অর্থ্যাৎ, ‘গণভোটের রায় না মানলে বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিএনপির উচিত হবে সময় থাকতে মেনে নেওয়া।’ এবং ‘জুলাই সনদ মানলে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য বাংলাদেশকে অনুমতি দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।’ ইত্যাদি দাবিতে ফটোসাংবাদিক শহিদুল আলমের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো ভুয়া। এ ধরনের কোনো বক্তব্য তিনি দেননি।