logo

আ. লীগ নেতাকে ধরতে গেলে পুলিশকে জনতার মারধর দাবি করে কিশোরগঞ্জের ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার

আ. লীগ নেতাকে ধরতে গেলে পুলিশকে জনতার মারধর দাবি করে কিশোরগঞ্জের ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার
আ. লীগ নেতাকে ধরতে গেলে পুলিশকে জনতার মারধর দাবি করে কিশোরগঞ্জের ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার। ছবি : ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

‘আ. লীগ নেতাকে ধরতে গেলে, পুলিশকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে, মারধর করলো জনগণ। এখনো আ. লীগের জনপ্রিয়তা সবার শীর্ষে।’ এধরনের দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে ভিডিওর মূল ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি। বরং কিশোরগঞ্জে ঘটে যাওয়া ভিন্ন একটি ঘটনার ভিডিও ব্যবহার করে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।

ফেসবুকে আবুল কাশেম নামে একটি প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয়। এই প্রতিবেদন লেখার সময় (১৫ অক্টোবর, বিকেল ৫ টা ৩০ মিনিট) ভিডিওটি উল্লিখিত প্রোফাইল থেকে ১ লক্ষ ২৪ হাজারবার ভিউ হতে দেখা গেছে। এছাড়াও পোাস্টটিতে দেড় হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ৪ শতাধিকবার পুনরায় শেয়ার হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি পোস্টটির মন্তব্য সেকশনে দেড় শতাধিক মন্তব্য এসেছে, যেখানে নেটিজেনদের বেশিরভাগকেই দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে। পোস্ট দেখুন এখানে।

তবে প্রচারিত ভিডিওটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম ভিডিও যাচাইকরণ টুল ইনভিডের সহায়তায় রির্ভাস ইমেজ সার্চ করে টেলিভিশন চ্যানেল বিজয় টিভিতে একটি ভিডিও সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। সংবাদটিতে প্রদর্শিত দৃশ্যের সঙ্গে ‘আ. লীগ নেতাকে ধরতে গেলে, পুলিশকে মারধর’ দাবি করা ভিডিওটির দৃশ্য মিলে যায়। সংবাদটিতে জানানো হচ্ছে, ‘কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এক শিশুকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে প্রিয়া (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উৎসুক জনতার সঙ্গে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।’

এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কি-ওয়ার্ড সার্চ করে এশিয়া পোস্ট। এতে স্থানীয় সংবাদভিত্তিক একাধিক পেজের পাশাপাশি জাতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে এ সম্পর্কিত সংবাদ পাওয়া যায়। দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার বেথইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে অপহরণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে (প্রিয়া আক্তার) একটি শ্রেণি কক্ষে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে পিকআপ ভ্যানে উঠাতে গেলে উত্তেজিত জনতা হামলা চালায়। এতে কর্তব্যরত চার পুলিশ আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করা হয়।

অর্থাৎ, ‘আ. লীগ নেতাকে ধরতে গেলে, পুলিশকে জনতার মারধরের’ দাবিটি ভুয়া। বরং শিশু অপহরণের অভিযোগে আটক নারীকে পুলিশের গাড়িতে উঠাতে গেলে উপস্থিত উত্তেজিত জনতার হামলার ভিডিও এটি।