ফ্লাইওভারে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে মেলেনি প্রমাণ

চট্টগ্রামের সাগরিকা ফ্লাইওভার থেকে কাউসার আহমেদ নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানা শাখার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। গত ১১ মে (সোমবার) রাত ৩টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। তার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রোফাইল এবং পেজ থেকে ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ ‘হত্যা করে ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে’ ইত্যাদি দাবিতে প্রচারণা করা হচ্ছে।
এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুনএখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের দাবিটি গুজব, আত্মহত্যা করেছেন কাউসার। ঘটনাটির সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও ঘটনার সময় তার আশপাশে অন্য মানুষজনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটির সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১২ মে, সোমবার রাত অর্থাৎ, তখন মঙ্গলবার রাত ১ টা ১৬ মিনিটের পরে ঘটনাটি ঘটে। ফ্লাইওভারটিতে সে সময় গাড়ি চলাচল করতে দেখা যাচ্ছিল। এতে একটি ল্যাম্পপোস্টের কয়েক ফিট দূরত্বের মধ্যে একজন ব্যক্তিকে নড়াচড়া করতে দেখা যায়। ফুটেজ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রাত ১ টা ১৬ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড থেকে ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত ল্যাম্পপোস্টটির আশপাশে তার উপস্থিতি বা নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে বেশকিছু গাড়ি তার পাশ দিয়ে যাতায়াত করে। তবে ১টা ১৯ মিনিটের পর সেখানে আর তাকে দেখা যায়না এবং ল্যাম্পপোস্ট থেকে ফ্লাইওভারের নিচের অংশে অন্ধকার থাকায় কিছু দেখা যায়নি।
অন্যদিকে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে, পাহাড়তলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান জানান, নিহত ব্যক্তি বিএসআরএমে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তারপরও নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জেনেছে, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন। এসম্পর্কিত সংবাদ দেখুন এখানে।
অর্থাৎ, চট্টগ্রামের সাগরিকা ফ্লাইওভার থেকে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বা ‘হত্যার পর ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে’ ইত্যাদি দাবিতে প্রচারণা বিভ্রান্তিকর। সিসিটিভি ফুটেজ এবং পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ীও এতে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।