ব্যারিস্টার সুমন জামিন পেয়েছেন দাবি করে এআই ছবি প্রচার

সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জামিন পেয়েছেন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ছবি এবং পোস্ট ছড়ানো হয়েছে। এ সম্পর্কিত পোস্ট দেখুন এখানে এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে জামিন পাওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রচারিত ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক প্রোফাইল থেকে পোস্ট করা ছবিটিতে দেখা যায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় জেলখানা নামে একটি স্থাপনার সামনে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে। তার আশপাশে অনেক মানুষ তাকে হাসিমুখে চারপাশে ঘিরে আছে। ফেসবুকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গ্রুপে ছবিটি এবং ছবি ছাড়া একই দাবিতে লেখা পোস্ট করা হয়েছে, ‘অবশেষে জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন এমপি। জয় বাংলা।’
সর্বশেষ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করা ছবি এবং লিখিত দাবিটি ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় নামে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপে ছবি ছাড়া শুধু লেখা দাবির পোস্টে ১ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি শতাধিক মন্তব্য পড়তে দেখা গেছে। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর নামে একটি প্রোফাইল থেকে ছবিটি পোস্ট করা হলে এতে ১৩ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ১ হাজার ২ শতাধিক মন্তব্য পড়তে দেখা গেছে। সেখানে দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন নেটিজেনদের অনেকে।
তবে প্রচারিত ছবিটি একাধিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকরণ সাইটে আপলোড করে এআই বলে জানা গেছে। হাইভ-মডারেশনে আপলোড করে ছবিটির ৯৯.৯ শতাংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি বলে জানা গেছে।
এ ছাড়াও ছবিটিতে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় জেলখানা’ নামে একটি ফটক এবং কিছু ব্যানার দেখা যায়, যেখানে দুটো ক্ষেত্রেই অসংগতি লক্ষ্যণীয়। বাংলাদেশে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার’ লেখা থাকে। সেখানে ঢাকা কেন্দ্রীয় জেলখানা লেখা থাকতে দেখা যায় না। ছবিতে ফুল দিয়ে বরণ করার প্রতিবেশে থাকা ব্যানারগুলোতেও লেখাগুলো উল্টো হরফে লেখা থাকতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে দেশের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ সম্পর্কিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অর্থ্যাৎ সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জামিন পেয়েছেন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবিটি এআইয়ের সহায়তায় তৈরি এবং প্রচারিত দাবিটিও ভুয়া।