বরিশালে আ.লীগের মিছিলে যাওয়ায় বাড়ি ভাঙচুর দাবি করা ভিডিওটি বাংলাদেশেরই নয়

বরিশাল ছেলে আওয়ামী লীগের মিছিলে যাওয়ায় বিএনপি বাড়ি-ঘর ভাংচুর করেছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং ভারতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই প্রতিবেশীর সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিওকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফেসবুকে, ‘শিবলী সাদিক এমপি’ নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একটি প্রোফাইল থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এতে কয়েকজন ব্যক্তি একটি নির্মাণাধীন পাঁকাবাড়ির দেয়ালে আঘাত করতে দেখা যায়। এসময় সেখানে উপস্থিত একাধিক নারীর চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। পোস্টটির ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, ‘ছেলে আওয়ামী লীগের মিছিলে গেছিলো বিএনপি বাড়িঘর ভাঙচুর করল বরিশাল।’
এ ছাড়াও একই আইডি থেকে ভিডিওটি বিএনপির সঙ্গে এনসিপিকেও দায়ী করে পুনরায় পোস্ট করা হয়েছে। এতে ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, ‘ছেলে আওয়ামী লীগের মিছিলে গেছিলো জামাত এনছিপি বাড়িঘর ভাঙচুর করল বরিশাল।’ পোস্টটিতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এক হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ৫ শতাধিকবার শেয়ার হতে দেখা গেছে।
যাচাইয়ে, আওয়ামী লীগের মিছিলে যাওয়ায় বিএনপি-এনসিপি বাড়ি ভাঙচুর করেছে দাবি করা ভিডিওটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে হেডলাইন এইট (Headline 8) নামে ভারতের আসামভিত্তিক একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে গত ২৯ জুলাইয়ের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ৩ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের ভিডিও প্রতিবেদনটির দৃশ্যপটের সঙ্গে বরিশালের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। পোস্টটির ক্যাপশনে জানানো হয়েছে, ‘কোকড়াঝাড়ের গোসাইগাঁওয়ে জমি নিয়ে বিরোধের ভয়াবহ রূপ। ভাওরাগুড়ির উচাতারি গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারী ও বৃদ্ধসহ কয়েকজন আহত। একখণ্ড জমিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নুরুল খান এবং গনি শেখের পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।’
এই ঘটনায় ভারতীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত আরও কিছু প্রতিবেদন দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
অর্থাৎ, বরিশালে ছেলে আওয়ামী লীগের মিছিলে যাওয়ায় বিএনপি বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি মূলত ভারতের আসাম রাজ্যের একটি জমি বিরোধ সম্পর্কিত ঘটনার। সুতরাং, বাংলাদেশের ঘটনা দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো মিথ্যা।

