logo

মুসলিম নারীকে নগ্ন করে মন্দিরে ঘণ্টা বাজানোর দাবিটি সঠিক নয়

মুসলিম নারীকে নগ্ন করে মন্দিরে ঘণ্টা বাজানোর দাবিটি সঠিক নয়
মুসলিম নারীকে নগ্ন করে মন্দিরে ঘণ্টা বাজানো হচ্ছে দাবিতে আর্ট পারফমেন্সের ভিডিও প্রচার। ছবি : সংগৃহীত

একটি বিশালাকার ঘণ্টার ভিতর একজন নারী ঝুলন্ত অবস্থায় ঘণ্টাটি বাজাচ্ছেন এমন একটি ভিডিও নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ‘মুসলিম মেয়েকে লেংটা করে মন্দির ঘন্টার বাজনা ব্যবহার’ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়ানো হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।

তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং চলতি বছরে ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার একজন শিল্পীর ভিডিও এটি।

ফেসবুকে আয়েশা সাজু নামে একটি প্রোফাইল থেকে সম্প্রতি (১ জুন, ২০২৬) ভিডিওটি মুসলিম নারীকে নির্যাতন দাবিতে পোস্ট করা হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২০ লক্ষাধিকবার দেখা হয়েছে। ভিডিওটি উল্লিখিত প্রোফাইল থেকে ৪৫ হাজারের বেশি নেটিজেন শেয়ার করেছে। এ ছাড়াও পোস্টটিতে ৫ শতাধিক মন্তব্য পড়েছে যেখানে বেশির ভাগই দাবিটি সত্য ধরে নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে।

তবে ভিডিওটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ঘটনাটির সঙ্গে সম্পর্কিত বেশকিছু সংবাদ এবং ম্যাগাজিনে প্রকাশিত আর্টিকেল পাওয়া যায়। দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে। সংবাদ সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই পারফরম্যান্স আর্টটি করেছেন অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত কোরিওগ্রাফার এবং পারফরম্যান্স আর্টিস্ট। তার নাম ফ্লোরেনটিনা হোলজিঞ্জার।

প্রচারিত ভিডিওটি ২০২৬ সালের ইতালিতে অনুষ্ঠিত ভেনিস বিয়েনালে উৎসবে তার দেশ অস্ট্রিয়াকে প্রতিনিধিত্ব করা একটি প্রর্দশনীর। ঘণ্টার ভেতরে নগ্ন হয়ে উল্টো ঝুলে থাকা এবং শরীর দিয়ে ঘণ্টায় আঘাত করা মূলত একটি ‘সতর্ক সংকেত’ বা অ্যালার্ম হিসেবে রূপক অর্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের সর্তকবার্তা দিচ্ছেন।

অর্থ্যাৎ, মুসলিম নারীকে নগ্ন করে মন্দিরে ঘণ্টা বাজানো হচ্ছে দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সঠিক নয়। মূলত এটি ইতালিতে অনুষ্ঠিত একটি শিল্প প্রদর্শনীর ভিডিও। জলবায়ু সংকটের সতর্কবার্তা: