রাজশাহীতে চুরির অভিযোগে গাছে বেঁধে মারধরের ভিডিওকে ছাত্রলীগ নির্যাতন বানিয়ে প্রচার

‘ছাত্রলীগ নিয়ে পোস্টের জের: রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে মারধর’ এবং ‘রাজশাহীতে ছাত্রদলের তা/ন্ড/ব! ছাত্রলীগ করায় নিজ এলাকায় পাশবিক নি/র্যা/তনের শি/কার’ এধরনের ক্যাপশনে একজন যুবককে গাছের সাথে বেঁধে মারধরের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে।
এসম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুনএখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশকিছু পেজ এবং প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। ৪০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন যুবককে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করছে ২ জন মিলে। আল-আমিন ইসলাম বাপ্পী নামে একটি প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘ভিডিও টি সর্বোচ্চ শেয়ার করুন যেনো প্রশাসনের নজরে আসে।। রাজশাহীতে ছাত্রলীগ করার অপরাধে এক যুবককে গাছের সাথে বেঁধে মা*র*ধ*র! যারা মারছে, তাদেরকে যারা চিনেন দয়া করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওদের পরিচয় তুলে ধরুন, ওদেরকে সবাই চিনে রাখুক।’
প্রচারিত পোস্ট গুলোতে ব্যপক প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে নেটিজেনদের। যেমন: মো. স্বপন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘এই দিন না আরো দিন আছে।’ বেশকিছু প্রোফাইল থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, ‘এর বিচার একদিন বাংলার মাটিতে হবেই ইনশাআল্লাহ।’
তবে প্রচারিত ভিডিওটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ভিডিওটির সাথে গত সোমবার (১১ মে) প্রচারিত রাজশাহীর একটি ঘটনার মিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায়, ‘রাজশাহীতে চুরির অভিযোগে যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর’ শিরোানামে বেশকিছু সংবাদ পাওয়া যায়। জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার যুবকের নাম মো. তুষার (১৮। তিনি রাজশাহীর কাজলা বিলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। এছাড়াও এঘটনায় অভিযুক্তদের পুলিশ কতৃক গ্রেপ্তারের সংবাদ দেখুন এখানে।
অর্থ্যাৎ, ছাত্রলীগ করায় যুবককে গাছে বেঁধে পাশবিক নির্যাতন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসলে রাজশাহীতে চুরির অভিযোগ তুলে এক যুবককে মারধরের ভিডিও।