চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে বিএনপি অফিসে নিয়ে মারধর দাবি করা ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার

চাঁদা না দেওয়ায় কাপড় ব্যবসায়ীকে বিএনপির পার্টি অফিসে তুলে আনা হয়েছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। একটি কক্ষের মধ্যে একজনকে বেধড়ক মারধরের ৬ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি লালমনিরহাট জেলায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার দেওয়ার কারণে অফিসে ডেকে নিয়ে মারধর দাবিতেও প্রচার করা হয়েছে। তবে এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে দাবি গুলোর একটিরও সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ফেসবুকে দাবিটির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দেখা গেছে, মো. নাজমুস সাকিব নামে একটি ভ্যারিফায়েড ফেসবুক একাউন্ট থেকে সর্বপ্রথম (৩ জুলাই) ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এতে ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘কাপড় ব্যবসায়ী দোকানদার চাঁদা দেয়নি-তুলে আনা হয়েছে বিএনপির পার্টি অফিসে তাঁর পর।’ পোস্টটি ৭ হাজারের বেশিবার শেয়ার হয়েছে এবং আড়াই হাজারের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়া এসেছে।
অন্যদিকে, লালমনিরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার দেওয়ায় মারধর দাবিতেও ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে জহির আহমেদ নামে একটি আইডি থেকে গত ১৯ আগস্ট লালমনিরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ায় মারধর দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। তবে গাজীপুর নিউজ ২৪ নামে একটি পেজ থেকে কাপড় ব্যবসায়ীকে বিএনপির পার্টি অফিসে মারধর দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এতে ভিডিওটি মাত্র কয়েক ঘন্টায় সাড়ে চার লক্ষাধিকবার দেখা হয়েছে এবং ২ হাজারের কাছাকাছি পুনরায় শেয়ার হতে দেখা গেছে।
তবে প্রচারিত ভিডিওটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ফেসবুকে এবং ইনস্টাগ্রামে গত ২৭ জুনের একাধিক পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্ট গুলোতে বিএনপির পার্টি অফিসে মারধর দাবিতে প্রচারিত ৬ সেকেন্ডের ভিডিওটির একটি পূণাঙ্গ ভার্সন (১ মিনিট ৪১ সেকেন্ড) পাওয়া যায়। এতে ক্যাপশনে জানানো হয়, ‘পুরান গোগনগর ৬ নং ওয়ার্ড পঞ্চায়েত কমিটির সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বহুল প্রত্যাশিত চুরির কান্ডের মূল হোতা হাবিবুর চোরের বিচার ৬ নং ওয়ার্ড এর জনগণের উপস্থিতিতে পরিচালিত হয়েছে।’ সার্চ করে জানা গেছে, পুরান গোগনগর এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের অবস্থিত।
অর্থাৎ ভিডিওটি একটি চুরি সংক্রান্ত ঘটনার বিচারের। নারায়ণগঞ্জ সদরের একটি চুরি সংক্রান্ত ঘটনার বিচারের ভিডিও লালমনিরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ায় এবং চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে বিএনপির পার্টি অফিসে মারধর দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

