logo

সৌদি যুবরাজের সঙ্গে শেখ হাসিনা খাবার খাচ্ছেন দাবিতে এআই জেনারেটেড ছবি প্রচার

সৌদি যুবরাজের সঙ্গে শেখ হাসিনা খাবার খাচ্ছেন দাবিতে এআই জেনারেটেড ছবি প্রচার

‘সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণে একসঙ্গে খাবার খাচ্ছেন শেখ হাসিনা। শিগগিরই ওমরা করে বাংলাদেশে ফিরবে।’ এমন ক্যাপশনে শেখ হাসিনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে। 

এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে। 

তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রচারিত ছবিটি এআইয়ের সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জ সংবাদপত্র নামে একটি প্রোফাইল থেকে ছবিটি সর্বপ্রথম (১৯ এপ্রিল) পোস্ট করা হয়। পোস্টটিতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাড়ে ৩ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ৪ শতাধিক মন্তব্য পড়েছে। এ ছাড়াও পোস্টটি বিভিন্ন প্রোফাইল এবং গ্রুপে ৫ শ’র কাছাকাছি শেয়ার হতে দেখা গেছে। 

অন্যদিকে, ছবিটি আমার বাংলাদেশ নামে একটি পেজ থেকে পোস্ট করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ‘সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণে একসঙ্গে খাবার খাচ্ছেন শেখ হাসিনা। অতি শিগগিরই ওমরা করে বাংলাদেশে ফিরবে চিন্তা করেন না আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরা।’ পোস্টটিতেও ২ হাজার ৭ শতাধিক প্রতিক্রিয়া এসেছে। এ ছাড়াও পোস্টটিতে ৩ শতাধিক মন্তব্য পড়েছে, যেখানে দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বেশির ভাগ নেটিজেন। যেমন : সাবিনা আক্তার নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘হে আল্লাহ দয়াময়ী শেখ হাসিনাকে শত্রুর আক্রমণে থেকে রক্ষা করুন। সৌদি যুবরাজকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

তবে একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ সাইটে আপলোড করে ছবিটি এআইয়ের সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গুগলের এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ সাইট ‘সিন্থ-আইডি’তে আপলোড করে জানা গেছে, ছবিটি গুগল এআইয়ের সহায়তায় তৈরি কিংবা সম্পদনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ডিকোপি এআই নামে ভিন্ন একটি এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ সাইটে ছবিটির ছবিটির ৯৬ শতাংশই এআই হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 

অন্যদিকে, দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে দেশের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলোতে শেখ হাসিনার ওমরা পালন করতে যাওয়া সম্পর্কিত কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। 

অর্থ্যাৎ, ‘সৌদি যুবরাজের আমন্ত্রণে একসঙ্গে খাবার খাচ্ছেন শেখ হাসিনা। অতি শিগগিরই ওমরা করে বাংলাদেশে ফিরবে।’ দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআইয়ের সহায়তায় তৈরি। এবং একইসঙ্গে প্রচারিত ‘ওমরা’ সম্পর্কিত দাবিটিরও সত্যতা পাওয়া যায়নি।