logo

শেখ হাসিনার কাছে জামায়াত আমিরের ক্ষমা চাওয়ার দাবিটি ভুয়া, টকশোর বক্তব্য ডিজিটালি সম্পাদনা করে প্রচার

শেখ হাসিনার কাছে জামায়াত আমিরের ক্ষমা চাওয়ার দাবিটি ভুয়া,
টকশোর বক্তব্য ডিজিটালি সম্পাদনা করে প্রচার
শেখ হাসিনার কাছে জামায়াত আমিরের ক্ষমা চাওয়ার দাবিটি ভুয়া, টকশোর বক্তব্য ডিজিটালি সম্পাদনা করে প্রচার। ছবি : ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

‘জামাত ইসলামের আমির দেশটা ধ্বংস করে নিজের ভুল নিজে স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন। দেশের জনগণ আপনারা কি বুঝলেন আপনাদের মতামত।’ এ ধরনের ক্যাপশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিনের এক টকশো অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য ডিজিটালি সম্পাদনা করে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।

ছড়িয়ে পড়া ২০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘শেখ হাসিনাকে তাড়িয়ে আমরা বড় ভুল করেছি। আজ সেটা অকপটে স্বীকার করছি।’ ভিডিওটিতে তাকে আরও বলতে দেখা যায়, সময়ের বাস্তবতায় বুঝতে পারছি, বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগই অনেক ভালো ছিল। আপনাকে সরিয়ে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড়ো ভুল বলে মনে হচ্ছে। সে ভুলের জন্য আপনার কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।’ ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্মে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রোফাইল বা চ্যানেল থেকে একযোগে প্রচার করা হয় ‘ক্ষমা চাওয়ার’ দাবিটি।

এছাড়াও একই ধরনের ভিডিও প্রচার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করা হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নামেও। ইউটিউবে প্রচারিত এমন একটি টকশো অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং গণ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একসঙ্গে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকতেও দেখা যায়। ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ নামে খালেদ মুহিউদ্দিনের একটি বিশেষ টকশো অনুষ্ঠানে তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এ সম্পর্কিত পোস্ট দেখুন এখানে। অন্যদিকে জামায়াত আমিরের নামে শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি একযোগে ৭টি ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করতে দেখা গেছে।

তবে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো সংবাদমাধ্যম কিংবা তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক একাউন্টে পাওয়া যায়নি। অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় তার কাছে (শেখ হাসিনা) এমন ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা দেশি বিদেশি মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হওয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

ফলে, অধিকতর অনুসন্ধানে আমরা প্রচারিত ভিডিওটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। এতে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিনের বিশেষ টকশো অনুষ্ঠান ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দিন’ নামে একটি চ্যানেলে এ সম্পর্কিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটি ২০২৫ সালের ২৪ জুন চ্যানেলটিতে পোস্ট করা হয়। শেখ হাসিনার কাছে জামায়াতের আমিরের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে প্রচারিত বক্তব্যে জামায়াত আমিরের পোশাক এবং ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দিনের ভিডিওটির পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়। তবে ৪৬ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের পূণাঙ্গ ভিডিওটির কোথাও শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চাওয়া কিংবা তার প্রসঙ্গে কোনো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি জামায়াত আমিরকে।

তবে ছড়িয়ে পড়া ২০ সেকেন্ডের ভিডিওটি এবং এর অডিও অংশ আলাদাভাবে একাধিক এআই সৃষ্ট কন্টেন্ট শনাক্তকরণ সাইটে আপলোড করা হয়। এতে অডিওটির ৯৯ শতাংশের বেশি এআই সৃষ্ট বলে জানানো হয়। অন্যদিকে ভিডিওটির প্রথম ০৮ সেকেন্ড আপলোড করে এর অডিও এবং ভিডিও মিলিয়ে ৫৮ শতাংশের বেশি এআই বলে জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ, ‘শেখ হাসিনাকে তাড়িয়ে আমরা বড় ভুল করেছি। আজ সেটা অকপটে স্বীকার করছি। বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগই অনেক ভালো ছিল।’ দাবি করা ভিডিওটি এআই সৃষ্ট। তিনি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।