logo
Advertisement

মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত হয়েছে দাবিতে ফেসবুকে ভুয়া প্রচারণা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত হয়েছে দাবিতে ফেসবুকে ভুয়া প্রচারণা
ঢাকা-৮ আসন শূন্য, মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত হয়েছে দাবিতে ভুয়া প্রচারণা। ছবি : ফেসবুক পোস্ট

‘সংবিধানের ৬৭ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে ঢাকা-০৮ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।’ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এ ঘোষণা দিয়েছেন দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়াও, সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ডের আদলে তৈরি ভিন্ন একটি ছবিতে বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ (১) এর (ক) এবং (খ) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

Advertisement

ফেসবুকে বিভিন্ন প্রোফাইল থেকে সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠের ফটোকার্ডের আদলে তৈরি একটি ছবি প্রচার করা হচ্ছে। এতে সংবিধানের ৬৭ (১) অনুচ্ছেদ এর বরাতে লেখা হয়েছে, ‘ঢাকা-০৮ আসন শূন্য ঘোষণা মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত’। ফটোকার্ডটির মাঝের অংশে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ‍মির্জা আব্বাসের চিকিৎসাধীন অবস্থার ছবি এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিদুটোর পাশে সংবিধানের দাবিকৃত অনুচ্ছেদ দুটি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে লিখা হয়েছে, ‘সংবিধানের ৬৭(১) (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করায়।’ এবং ‘নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথ বা ঘোষণা গ্রহণ ও স্বাক্ষর না করায়, ৬৭(১) (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া টানা ৯০ বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকায় আসনটি শূন্য ঘোষনা করা হয়েছে।’

অর্থাৎ বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭(১) এর (ক) এবং (খ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিয়ম প্রয়োগের যুক্তি হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, তিনি ‘৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করেননি’ এবং ‘অনুমতি ছাড়া টানা ৯০ বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত ছিলেন। তাই আসনটি শূন্য ঘোষনা করা হয়েছে।

তবে সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তাঁহার (সংসদ সদস্যের) নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন।’

752c2c27db3346d9b6d812036868c39e

‘সংবিধানের ৬৭ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে ঢাকা-০৮ আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।’ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এ ঘোষণা দিয়েছেন দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়াও, সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ডের আদলে তৈরি ভিন্ন একটি ছবিতে বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ (১) এর (ক) এবং (খ) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকে বিভিন্ন প্রোফাইল থেকে সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠের ফটোকার্ডের আদলে তৈরি একটি ছবি প্রচার করা হচ্ছে। এতে সংবিধানের ৬৭ (১) অনুচ্ছেদ এর বরাতে লেখা হয়েছে, ‘ঢাকা-০৮ আসন শূন্য ঘোষণা মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত’। ফটোকার্ডটির মাঝের অংশে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ‍মির্জা আব্বাসের চিকিৎসাধীন অবস্থার ছবি এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিদুটোর পাশে সংবিধানের দাবিকৃত অনুচ্ছেদ দুটি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে লিখা হয়েছে, ‘সংবিধানের ৬৭(১) (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করায়।’ এবং ‘নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথ বা ঘোষণা গ্রহণ ও স্বাক্ষর না করায়, ৬৭(১) (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া টানা ৯০ বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকায় আসনটি শূন্য ঘোষনা করা হয়েছে।’

অর্থাৎ বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭(১) এর (ক) এবং (খ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিয়ম প্রয়োগের যুক্তি হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, তিনি ‘৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করেননি’ এবং ‘অনুমতি ছাড়া টানা ৯০ বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত ছিলেন। তাই আসনটি শূন্য ঘোষনা করা হয়েছে।

তবে সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তাঁহার (সংসদ সদস্যের) নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন।’

শপথ নিয়েছিলেন মির্জা আব্বাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করেছিলেন। একই দিন অন্যান্য সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি ঢাকা-৮ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসও শপথ গ্রহণ করেন। সেদিন তিনি শপথগ্রহণ শেষে সংবিধান সংস্কার পরিষেদের শপথ নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলেন। দেখুন এখানে এবং এখানে। অর্থাৎ, শপথ গ্রহণ না করার দাবিটি সত্যি নয়।

অন্যদিকে প্রচারিত ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে গুজব টিভি নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক একটি পেজে ফটোকার্ডটি সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয়েছে। এরপর থেকে দাবিটি সত্য ধরে নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপ এবং প্রোফাইলে শেয়ার করতে শুরু করেন নেটিজেনরা। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠের ভ্যারিফায়েড পেজে এবং ওয়েবসাইটে সার্চ করে ‘ঢাকা-০৮ আসন শূন্য ঘোষণা’ বা ‘মির্জা আব্বাসের সংসদ সদস্য পদ বিলুপ্ত’ সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে এধরনের কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, মির্জা আব্বাসের আসন শূন্য ঘোষণা সম্পর্কিত ফটোকার্ডগুলো ভুয়া। এবং সংবিধানের ৬৭(১) এর (ক) এবং (খ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিয়ম মেনে তিনি শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ‘নতুন নিয়মে ৪৫ দিন অসুস্থ থাকায় হাইকোর্ট থেকে ঢাকা ৮ আসনে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা’ দাবিতে প্রচার করা হয়েছিল। এ বিষয়ে এশিয়া পোস্টের ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে