নেতানিয়াহুর ভাইয়ের মৃত্যুতে কান্নার রোল দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি দেড় বছর পুরোনো

“ভাইয়ের মৃত্যুতে নেতানিয়াহুর পরিবারে কান্নার রোল” দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং পুরোনো একটি ভিডিওর সঙ্গে দাবিটি নতুন করে ছড়ানো হচ্ছে।
প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে একজন নারী মাইক্রোফোনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্না করছেন। ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে—এমন দৃশ্যও দেখা যায়। যেখানে তাদের পেছনে নিহতের ছবি এবং ইসরায়েলি পতাকার থিমে ব্যানার থাকতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘ভাইয়ের মৃত্যুতে নেতানিয়াহুর পরিবারে কান্নার রোল’ দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে ভিডিওটি। বিভিন্ন পেজ এবং প্রোফাইল থেকে দাবিটি পোস্ট করা হলে নেটিজেনদের উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। যেমন : নিউজ ফ্লাশ৭১ নামে একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হলে মাত্র ৩ ঘণ্টায় সাড়ে ৩ হাজারের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি লক্ষাধিক বার ভিউ হয়েছে। এছাড়াও সেখানে ২ শতাধিক মন্তব্য এসেছে যাদের প্রায় সবাই দাবিটি বিশ্বাস করেছেন।
তবে প্রচারিত ভিডিওটির কি-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর পোস্ট করা একটি ভিডিওর সাথে হুবহু মিল পাওয়া যায়। আরবি ভাষায় লেখা ভিডিটির ক্যাপশনে বলা হচ্ছে, “ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা নাথানিয়েল হেরশকোভিচের জানাজা থেকে, যিনি গতকাল গাজার উত্তরে জাবালিয়ায় কাসাম (আল-কাস্সাম ব্রিগেড) কর্তৃক স্থাপিত কমিনে (অ্যামবুশ) নিহত হয়েছেন।”
এছাড়াও সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ১১ অক্টোবর, ২০২৪ সালের ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজের একটি সংবাদ পাওয়া যায়। যেখানে সংবাদটির টিজারে নিহত ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা নাথানিয়েল হেরশকোভিচের নাম পাওয়া যায়। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু নিহত সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গুলোতে দাবিটি প্রমাণিত হয় এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অর্থ্যাৎ, ভাইয়ের মৃত্যুতে নেতানিয়াহুর পরিবারে কা’ন্না’র রোল দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভুয়া। প্রচারিত ভিডিওটি ২০২৪ সালের গাজার জাবালিয়ায় হামাস যোদ্ধাদের অতর্কিত হামলায় নিহত এক ইসরায়েলি সেনার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের।