ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ডিগ্রি বিএসসি সমমান করার কথা বলেননি শিক্ষামন্ত্রী

‘৪ বছরের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আবার ৪ বছরে বিএসসি করা চরম বৈষম্য। এজন্য আমরা সমমান দেওয়ার কথা ভাবছি।’ শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমন ঘোষণা দিয়েছেন দাবিতে একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হচ্ছে। পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপে ছবিটি প্রচার করা হচ্ছে। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে করে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশলী পেশায় বিএসসি ডিগ্রি এবং ডিপ্লোমাধারীদের সনদের মান নিয়ে বিরোধ জটিলতা বেশ পুরোনো। এই সমস্যা নিরসনে অতীতের অনেক সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও সমাধান মেলেনি। উল্টো প্রতিবারই এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি আন্দোলনে নেমেছে দুই পক্ষ। এরমধ্যে গত শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় অংশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এমন ঘোষণা নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করছে।
তবে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো সংবাদমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। সার্চ করে দেখা গেছে, রাজধানীর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে শিক্ষামন্ত্রী বক্তব্যের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এতে তাকে বলতে দেখা যায়, ‘আগে ৩ বছর ছিলো, এটাকে ৪ বছর করা হলো। বুয়েটে ভর্তির পর তোমাদের আবারও ৪ বছর পড়তে হচ্ছে। তাইনা? ভুল বলছি? তাহলে তোমরা ক্লাস টেন প্লাস ফোর ইয়ারস ডিপ্লোমা পড়লে, ১৪ বছর। আর টুয়েলভ ইয়ারস (১২ বছর) ইন্টারমিডিয়েট পড়ে ৪ বছরে ইন্জিনিয়ারিং ডিগ্রী পাওয়া যায়। তাহলে তোমাদেরকেও তো দু ক্রেডিট দেওয়া প্রয়োজন ছিলো নিশ্চয়ই। এই বিষয়টি নিয়েও আমি কথাবার্তা বলছি। যেহেতু পলিটেকনিক ইনসস্টিটিউট গুলোকেও হায়ার স্কেলে পড়ার সুযোগ করে দিতে হবে। তা নাহলে টেকনিক্যাল এডুকেশনের ওপর ইন্টারেস্ট হারিয়ে ফেলবে মানুষ।’
অর্থাৎ, ‘৪ বছরের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আবার ৪ বছরে বিএসসি করা চরম বৈষম্য। এজন্য আমরা সমমান দেওয়ার কথা ভাবছি। সরাসরি এমন কোনো ঘোষণা দেননি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সুতরাং প্রচারিত দাবিটি ভুয়া।
.png)
