Advertisement

বিএনপিকে ঘিরে গুজব ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ, এপ্রিলে নিম্নগামী 

এশিয়া পোস্ট নিউজ
বিএনপিকে ঘিরে গুজব ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ, এপ্রিলে নিম্নগামী 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। সে হিসেবে গত ১৭ এপ্রিল দলটির ক্ষমতায় আসার দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানের যাচাইকৃত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই দুই মাসের শুরুর দিকে বিএনপি নিয়ে গুজবের তীব্রতা বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে আসছে। 

Advertisement

ডেটার উৎস ও বিশ্লেষণ পদ্ধতি 

দেশের প্রতিষ্ঠিত ছয়টি ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানের গত দুই মাসে যাচাইকৃত গুজবের ডেটা বিশ্লেষণ করেছে এশিয়া পোস্ট। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে: ফ্যাক্ট ওয়াচ, দ্য ডিসেন্ট, রিউমার স্ক্যানার, বাংলা ফ্যাক্ট, ডিসমিসল্যাব এবং এপি ফ্যাক্টচেক। প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণে ক্যালেন্ডারভিত্তিক ফেজিং বা টেম্পোরাল ফেজিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। 

মোট ৬০ দিন সময়কে ফেব্রুয়ারির শেষ ১২ দিন, পুরো মার্চ মাস এবং এপ্রিলের প্রথম ১৭ দিন; এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে গুজবের প্রবণতা তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের কার্যক্রম, মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, দল হিসেবে বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠনগুলোকে নিয়ে গুজবের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। 

সর্বোচ্চ গুজব ফেব্রুয়ারিতে 

১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিএনপি সম্পর্কিত ২৪৪টি গুজবের খবর দিয়েছে উল্লিখিত ছয়টি প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে সরকারের শপথগ্রহণ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ দিনে ১১৭টি গুজব পাওয়া গেছে। মার্চ মাসে পাওয়া গেছে ৮৭টি। চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৭ দিনে পাওয়া গেছে ৪০টি। 

মার্চের ৩১ দিন এবং এপ্রিলের ১৭ দিন মিলিয়ে মোট ৪৮ দিনে গুজব যাচাই করা হয়েছে ১২৭টি। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারির শেষ ১২ দিনে অর্থাৎ, সরকার গঠনের প্রথম ১২ দিনে গুজব ধরা পড়েছে ১১৭টি। স্পষ্টতই প্রথম ১২ দিনে ছড়ানো গুজবের পরিমাণ অতিক্রম করতে পরের প্রান্তিকে চার গুণ বেশি সময় লেগেছে। অর্থাৎ, গুজবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছে। 

সবচেয়ে বেশি গুজব তারেক রহমানকে নিয়ে 

সরকার ও বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুজব ছড়ানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে। মোট গুজবের মধ্যে অন্তত ৫৯টিতে তার নাম জড়ানো হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০টি গুজব ছড়ানো হয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে। একই সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামে ছড়ানো হয়েছে ১০টি। সরকার কিংবা দলের কোন পদে না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমানের নামে ছড়ানো হয়েছে ১৬টি গুজব। সরকারের বিভিন্ন নীতি সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের জড়িয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে ৫৫টি। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির নামেও ছড়ানো হয়েছে ৫৫টি। 

নেতিবাচক গুজব বেশি

যাচাইকৃত গুজবগুলোর মধ্যে ২১৫টিতে বিএনপি, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নাম নেতিবাচকভাবে প্রচার করা হয়েছে। অন্যদিকে ৩০টি দাবি সরকার ও বিএনপি সংশ্লিষ্টদের পক্ষে গেছে। সে হিসাবে মোট গুজবের ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ বিএনপির পক্ষে ছড়ানো হয়েছে। বাকি ৮৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ ছড়ানো হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। 

ছাত্রদলকেন্দ্রিক অর্ধেক গুজব আবিদের নামে 

গুজবের টার্গেট হিসেবে ছাত্রদলের নাম খুব বেশি আসেনি। ৬০ দিনের মধ্যে তাদের নিয়ে ১৪টি গুজব পাওয়া গেছে। এরমধ্যে সাতটি ছড়ানো হয়েছে ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের নামে। কোনো নেতার নাম উল্লেখ না করে সংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের নামে গুজব ছড়ানো হয়েছে চারটি। একটি করে গুজব পাওয়া গেছে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেত্রী জাহিন বিশ্বাস এষার নামে। 

গুজবের ধরন 

প্রাপ্ত উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এআই-জেনারেটেড ছবি, ভিডিও, সম্পাদিত ফটোকার্ড, পুরোনো ভিডিও ব্যবহার এবং বানোয়াট উদ্ধৃতি প্রচার করে বেশির ভাগ গুজব প্রচার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মিথ্যাচার ছড়ানো হয়েছে বানোয়াট উদ্ধৃতি ও সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার করে।