বিলই উত্থাপন হয়নি, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী গুম অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন দাবিতে মিথ্যা প্রচারণা

‘গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রীও গুম অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছে।’ এমন দাবিতে বেশকিছু পোস্ট এবং ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
প্রচারিত পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, ‘গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রীও গুম অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।’ ফটোকার্ড এবং লেখা পোস্টগুলোর পাশাপাশি পডকাস্ট এবং ভিডিওতে একই দাবি ছড়াতে দেখা গেছে। ফেসবুকে ইংরেজিতে লেখা ‘মো. নেয়ামত উল্লাহ’ নামে একটি প্রোফাইল থেকে দাবিটি পোস্ট করা হলে, সেখানে ২৪ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ২ হাজারের বেশিবার শেয়ার হতে দেখা গেছে। এ ছাড়াও পোস্টটিতে ২ হাজারের কাছাকাছি মন্তব্য পড়েছে যেখানে দাবিটি বিশ্বাস করে মন্তব্য করেছেন বেশির ভাগ নেটিজেন।
তবে সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে প্রচারিত দাবিটির পক্ষে যায় এমন কোনো সংবাদ দেশের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলোতে পাওয়া যায়নি। উপরন্তু গত ৩০ মার্চ প্রকাশিত একাধিক সংবাদে জানানো হয়, ‘ইলিয়াস আলীর’ সন্ধান জানতে চেয়ে সংসদে প্রশ্ন করেছেন তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর (লুনা)। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে গুমের বিচারও দাবি করেন তিনি। এ সম্পর্কিত সংবাদ দেখুন এখানে এবং এখানে।
অন্যদিকে, প্রচারিত পোস্টগুলোতে তিনি ‘গুম অধ্যাদেশ’ বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করা হলেও যাচাইয়ে দেখা গেছে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে বিলটি সংসদে উত্থাপনই করা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয় যেগুলো নিয়ম অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন করা না হলে তার কার্যকারিতা লোপ পাবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ। সে হিসেবে ১০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে বিলগুলো অনুমোদনের শেষদিন ছিল।
তবে সেদিন (১০ এপ্রিল) পর্যন্ত, জাতীয় সংসদ ৮৭টি বিলের মাধ্যমে ১১০টি অধ্যাদেশের (কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনীসহ) বৈধতা দেওয়া হয়েছে। চারটি বিলের মাধ্যমে সাতটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এবং নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় ১৬ টি অধ্যাদেশ। স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং এর সংশোধনী, অধ্যাদেশও রয়েছে।
এদিকে, গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশসহ নির্ধারিত সময়ে সংসদে অনুমোদন বা অননুমোদন না হওয়া ১৬ টি অধ্যাদেশ আরও যাচাই–বাছাই করে নতুন বিল আনার কথা জানিয়েছে সরকার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।
ফলে বিষয়টি স্পষ্ট যে, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং এর ‘সংশোধনী’ বিল সংসদে বিল আকারে উত্থাপন না হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এতে পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগই ছিল না। অর্থ্যাৎ, গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রীও গুম অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো মিথ্যা।