১৯৫৬ সালের ইরানি মিসাইল দাবিতে ভাইরাল ইয়েমেনের পাইপলাইনের ছবি
‘‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ৭০ বছরের পুরোনো মিসাইল ব্যবহার করছে ইরান! সেই মিসাইল আঘাত হেনেছে ইসরায়েলের বুকে।” এমন দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে , এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
প্রচারিত ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে (বর্তমান এক্স) ইরান টাইমস নামে একটি ভ্যারিফাইড হ্যান্ডেল থেকে ছবিটি সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয়েছে। ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে, “Iran is still using missiles from 1956. What will happen in 2026?” টুইটারে পোস্টটি ৩ হাজার বারের বেশি রিপোস্টের পাশাপাশি ২৩ লক্ষাধিক বার দেখা হয়েছে।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএইচএস টিভি ডিজিটাল নামে একটি প্রোফাইল থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে। “ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ৭০ বছর পুরোনো মিসাইল ব্যবহার করছে ইরান! সেই মিসাইল আঘাত হেনেছে ইসরায়েলের বুকে” এমন ক্যাপশন ব্যবহার করা হয়েছে এতে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে লক্ষাধিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ২ হাজার ৭ শতাধিক বার শেয়ার করা হয়েছে। এছাড়াও এতে হাজারের বেশি নেটিজেন মন্তব্য করেছেন।
প্রচারিত ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে, ইয়েমেনের এডেন শহর ভিত্তিক একটি সংবাদ ওয়েবসাইটের একটি সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০১৮ সালের জুনে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পুরোনো পাইপের ছবি যুক্ত করে দুর্দশার সংবাদ প্রতিবেদন করা হয়েছে। সংবাদটি দেখুন এখানে। মূলত পানির লাইনগুলো কতটা পুরোনো এবং তা দ্রুত মেরামত বা পরিবর্তন করা প্রয়োজন তাই তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।
অন্যদিকে ইরান ওয়াচ নামে উইসকনসিন প্রজেক্টের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মিসাইল কর্মসূচি সর্বপ্রথম শুরু হয় ১৯৮৪ সালের আগস্টে। সেসময় ইরানের প্রতিবেশী সিরিয়া এবং লিবিয়ার সহায়তায় কার্যক্রম শুরু করে দেশটি।
সুতরাং, ‘‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ৭০ বছরের পুরোনো মিসাইল ব্যবহার করছে ইরান! সেই মিসাইল আঘাত হেনেছে ইসরায়েলের বুকে।” এমন দাবিতে প্রচারিত ছবিটি মিসাইলের নয়। ইয়েমেনের একটি পুরোনো পানি সরবরাহ লাইনের ছবি ব্যবহার করে দাবিটি ছড়ানো হয়েছে।