logo
Advertisement

পর্দাঘেরা মহিলা রিকশা চালু হয়েছে দাবিতে শোভাযাত্রার ছবি প্রচার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
পর্দাঘেরা মহিলা রিকশা চালু হয়েছে দাবিতে শোভাযাত্রার ছবি প্রচার
পর্দাঘেরা মহিলা রিকশা চালু করেনি জামায়াত শোভাযাত্রার ছবি দিয়ে অপপ্রচার। ছবি : ফেসবুক পোস্ট

‘মহিলা বাসের পর এবার শুরু হলো মহিলা রিকশা’ ,‘পর্দাঘেরা মহিলা রিকশা চালু করল জামাত’, ‘বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের আরেকটি যুগোপযোগী সাফল্য, মহিলা বাসের পর এবার মহিলা রিকশা চালু হলো রাজধানীতে। ইসলামি শরীয়াহ আইনের আরেকটি মাইলফলক অর্জন হলো।’ এ ধরনের ক্যাপশনে পর্দাঘেরা রিকশার কিছু ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

Advertisement

এ ছাড়াও এ সম্পর্কিত ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করে দেশের পরিস্থিতি আফগানিস্থানের সঙ্গে তুলনা করে প্রতিক্রিয়া জানাতেও দেখা গেছে অনেককে। তবে যাচাইয়ে দাবিগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি। মূলত রাজধানী হিসেবে ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা ছবি ছড়িয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে এতে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ধর্মহীন ও সংশয়বাদীদের উন্মুক্ত আলোচনা ১‘ নামে একটি গ্রুপে এ সম্পর্কিত একটি ভিডিও সংবাদ-ছবি পোস্ট করে ঘটনাটি ইসলামি শরীয়াহ আইনের আরেকটি মাইলফলক অর্জন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে পোস্টটির ক্যাপশনে লিখা হয়েছে, ‘বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের আরেকটি যুগোপযোগী সাফল্য, মহিলা বাসের পর এবার মহিলা রিকশা চালু হলো রাজধানীতে। ইসলামি শরীয়াহ আইনের আরেকটি মাইলফলক অর্জন হলো। ইরান কাজাকিস্তানের নারীরা যেখানে পর্দা আড়াল থেকে বেরিয়ে আসছে সেখানে আমাদের দেশে।’ পোস্টটিতে সর্বশেষ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি দুই শতাধিক মন্তব্য আসতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, জ.ই মামুন নামে একটি প্রোফাইল থেকে এ সম্পর্কিত এক পোস্টের ক্যাপশনে লিখা হয়েছে, ‘দেশ আফগানিস্তান হতে কত দেরি, পাঞ্জেরী? একই রাস্তায় একই সময়ে একসাথে ভিন্ন ভিন্ন ওয়ার্ডের এত “মহিলা রিকশা” নামানোর উদ্দেশ্য তো সুবিধার মনে হচ্ছে না। আর কেবলমাত্র নারী যাত্রীবাহী এসব হিজাবী রিকশার জন‍্য পুরুষ চালকের বদলে গোলাপী বাসের মতো নারী রিকশা চালক দিলে ভালো হতো না!’

তবে প্রচারিত পোস্ট গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে, গতকাল (২৮ আগস্ট) শুক্রবার প্রকাশিত এ সম্পর্কিত বেশকিছু ভিডিও এবং সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে জানানো হচ্ছে, ‘পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে নগর ভবনে শেষ হয়। শোভাযাত্রা’য় পর্দাঘেরা এই ‘মহিলা রিকশা’ বিশেষভাবে নজর কাড়ে। শুধু এই রিকশাই নয়, শোভাযাত্রায় ছিল স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি ও পালকিও। ইতিহাসের নানা অধ্যায়, পুরোনো দিনের বাহন, স্থাপত্য, খাবার ও ঐতিহাসিক চরিত্রের প্রতীকী উপস্থাপনায় কয়েক ঘণ্টার জন্য যেন বদলে যায় ঢাকার চেনা দৃশ্যপট।’

অর্থাৎ, ঢাকার রাস্তায় মহিলা বাসের পর মহিলা রিকশা চালু হওয়া বা জামায়াতে ইসলামী কতৃক পর্দাঘেরা মহিলা রিকশা চালু করার দাবি গুলো ভিত্তিহীন। মূলত রাজধানী হিসেবে ঢাকা শহরের ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উপস্থাপনা হিসেবে দেখানো ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে আলোচিত দাবিগুলো প্রচার করা হচ্ছে।

বিষয় :