জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ড. ইউনুস জাতিসংঘে প্রস্তাব দিয়েছেন দাবিতে ভুয়া সংবাদ ভাইরাল

“জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘে প্রস্তাব জমা দিয়েছেন” দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি “জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন না হলে আবার নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা” দিয়েছেন দাবি করে সংবাদের আদলে ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।
এসম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে। এছাড়াও একই দাবিতে সংবাদ প্রতিবেদনের আদলে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি।
প্রচারিত দাবিটির সাথে সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে দেখা গেছে ফেসবুকে ‘নিউজ ফাদার” নামে একটি পেইজ থেকে দাবিটি সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয়। দশ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয়, ১৬ মার্চ তারিখে। এতে বলা হচ্ছে, আজ সকালে(১৬ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। এই প্রস্তাবে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই গণভোটে ৬৮.৫৯ শতাংশ মানুষ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ভোট দিয়েছে।
তিনি আরো বলেছেন বলেছেন দাবি করে এতে বলা হয়,“এটা জনগণের স্পষ্ট রায়। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন করছে না। তারা নানা অজুহাত দেখাচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের প্রতি অবমাননা এবং জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান। আমি যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলাম তখন আমি এই গণভোটের ব্যবস্থা করেছিলাম।”
সর্বশেষ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, ভিডিওটি ফেসবুক এবং ইউটিউবে বেশকয়েকটি পেইজ এবং চ্যানেল থেকে পোস্ট করা হয়েছে। এরমধ্যে ‘কেএনআর বুলেটিন’ নামে একটি পেইজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হলে এতে ১০ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ১৪ হাজারের বেশিবার শেয়ার হতে দেখা গেছে। এছাড়াও ভিডিওটি ৬ লক্ষ ২৩ হাজার বার দেখা হয়েছে। অন্যন্য পেইজ এবং চ্যানেল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হলে সেখানে দাবিটি বিশ্বাস করে মন্তব্য করেছেন শত শত নেটিজেন।
অন্যদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ড. মুহাম্মদ ইউনুস আবারও নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন নেটিজেনরা।
তবে সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে দেশের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম গুলোতে এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের ওয়েবপেইজেও এধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের ব্যাক্তিগত ফেসবুক পেইজ এবং ইউনুস সেন্টারের অফিশিয়াল পেইজেরও এসম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওতে দাবি করা তারিখে (১৬ মার্চ,২০২৬) ইউনুস সেন্টারের অফিশিয়াল পেইজ থেকে করা এক পোস্টে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ঢাকায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের সাথে সাক্ষাৎ সম্পর্কিত তথ্য জানানো হয়।
অর্থ্যাৎ, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘে প্রস্তাব জমা দিয়েছেন” এবং তিনি জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন না হলে আবার নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা” দিয়েছেন দাবি করে প্রচারিত ভিডিও এবং ফটোকার্ড গুলো ভুয়া। এধরনের কোনো বক্তব্য কিংবা প্রস্তাব তিনি দেননি।