খালেদা জিয়াকে নিয়ে দেওয়া মির্জা ফখরুলের বক্তব্য শেখ হাসিনার উন্নয়ন দাবিতে প্রচার

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন দাবি করে একটি ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউবে পোস্ট করা এ ধরনের আরও কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে যাাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ সম্পর্কিত এশিয়া পোস্ট ফ্যাক্টচেকের ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখুন এখানে।
প্রচারিত ভিডিওতে মির্জা ফখরুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, “যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনি যে কাজগুলো করেছেন, তার কিছু না বললে আমি মনে করি যে অবিচার করা হবে। তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছিলেন, যেটা একট যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ছিল। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ দুটি তারই হাতে তৈরি করা হয়েছিল। একই সঙ্গে বেসরাকারি খাতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজের অনুমতি তিনি দিয়েছিলেন। তিনি কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছিলেন।”
সামাজিক মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে এ দাবিতে পোস্ট করা হয়েছে। প্রচারিত পোস্টে দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন অনেক নেটিজেন। এর মধ্যে কাকলী রানী নামে ফেসবুকে একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হলে ৬ লাখের কাছাকাছি বার ভিউ হতে দেখা গেছে। পোস্টটিতে ১ হাজারের বেশি মন্তব্যের পাশাপাশি ৩৩ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়েছে।
তবে এ সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মির্জা ফখরুলের এ সম্পর্কিত বক্তব্যের কিছু সংবাদ পাওয়া যায়। দেখুুন এখানে এবং এখানে।
সংবাদ এবং সংসদ অধিবেশনের ভিডিও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলামের বক্তব্যকে সম্পাদনা করে প্রচার করা হচ্ছে এতে। মূলত শোক প্রস্তাবে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে কথাগুলো বলেন মির্জা ফখরুল। প্রচারিত ভিডিওগুলোতে বক্তব্যের কিছু অংশ বাদ দিয়ে পরবর্তী অংশে যেখানে বেগম জিয়ার নাম বলা হয়নি সে অংশটি কেটে শেখ হাসিনার উন্নয়নের ফিরিস্তি হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছেন দাবি করে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পাদিত। শোক প্রস্তাবে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্য মিথ্যা দাবিতে শেখ হাসিনার নামে প্রচার করা হয়েছে এতে।