বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা কিংবা আ.লীগের মিছিল নয়, ভিডিওটি ভারতের একটি উৎসবের

‘অলরেডি খেলা শুরু হয়ে গেছে। কর্মসূচিতে বাধা এলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের মাধ্যমেই তার জবাব দিতে হবে। কাফনের কাপড় পরে আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ মশাল মিছিল।’ এ ধরনের ক্যাপশনে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিগুলোর কোনোটির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং ভারতের একটি ধর্মীয় উৎসবে সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও এটি। এ ছাড়াও একই ভিডিও ‘সোনার বাংলাদেশ এভাবে জঙ্গি সন্ত্রাসীদের হাতে ধ্বংস হচ্ছে’ দাবিতেও প্রচার করতে দেখা গেছে।
তবে প্রচারিত ভিডিওটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে টাইমস অব ইন্ডিয়ায় সহ একাধিক ভারতীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, গত ২১ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলায় ঐতিহ্যবাহী বন্নি উৎসব চলাকালে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা এটি। এতে পোথু রাজু (৩২) একজন ভক্ত মারা যান এবং ৬০ জনেরও বেশি আহত হয়। ফলে উৎসবটি সহিংসতা ও মর্মান্তিক দৃশ্যে পরিণত হয়।
অন্যদিকে, ভারতের ত্রিপুরাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘জাগরণ ত্রিপুরা ডটকম’-এর প্রতিবেদনে জানানো হচ্ছে, অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলায় মালা মল্লেশ্বর স্বামী মন্দিরে বন্নি উৎসবে প্রতিবছর এই লাঠিযুদ্ধের আয়োজন করা হয়। প্রতি বছর মন্দির-সংলগ্ন পাঁচ গ্রামের মানুষ দুটি দলে ভাগ হয়ে এই উৎসবে অংশ নেয়। উৎসবের রীতি অনুযায়ী, মধ্যরাতে দেবতা মল্লাম্মা ও মল্লেশ্বর স্বামীর প্রতীকী বিবাহের পর তাঁদের মূর্তি নিজেদের দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে লাঠির লড়াই হয়। প্রতি বছর মন্দির সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ দুটি দলে ভাগ হয়ে এই সংঘর্ষে অংশ নেন।
অর্থাৎ, ‘কাফনের কাপড় পরে আওয়ামীলীগের বিক্ষোভ মিছিল বা বাংলাদেশে জঙ্গি সন্ত্রাসীদের’ দাবি করা ভিডিওটি মূলত ভারতের একটি ধর্মীয় উৎসবের। অন্ধ্রপ্রদেশে বন্নি উৎসবে সংঘর্ষের ভিডিও বিভ্রান্তিকরাভাবে বাংলাদেশের ঘটনা বলে দাবি করা হচ্ছে।