‘বিএনপির হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী নিহত’ দাবিতে প্রচার হচ্ছে পাহাড়ের ভিন্ন ঘটনার ভিডিও

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, মিছিলে শেষে বাড়ি ফেরার সময় বিএনপির সন্ত্রাসী হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছে। ভিডিওটিতে ৩টি মরদেহ সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লিখা হয়েছে, ‘মনে রেখো বাংলাদেশ। মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার সময় বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করে ছাএলীগ কর্মিদের উপর।’ তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটি সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটির ক্যাপশনে প্রচারিত দাবি সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম জয় নামে একটি প্রোফাইল থেকে দাবিটি সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয়। প্রোফাইলে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জহিরুল ইসলাম জয় নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের সাভার থানা ইউনিটের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেজ এবং গ্রুপে দাবিটি ছড়িয়ে পড়ে।
যাচাইয়ে প্রচারিত ভিডিওটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও জাতীয় পর্যায়ের একাধিক সংবাদমাধ্যমে ভিডিওটির সঙ্গে মিলে যায় এমন সংবাদ পাওয়া যায়। জাতীয় দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও জন সংহতি সমিতির (জেএসএস) সদস্যদের মধ্যে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা এটি। গত ৬ জুলাই সকালে উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গল পাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে যেখানে ঘটনাস্থলেই অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়াও পার্বত্য জেলা রাঙামাটি থেকে পরিচালিত ‘সিএইচটি মিডিয়া টুয়েন্টিফোর ডটকম’ নামে একটি অনলাইনে প্রকাশিত খবরেও একই ছবি এবং ঘটনার বর্ণনা পাওয়া গেছে।
অর্থাৎ, ‘মনে রেখো বাংলাদেশ। মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার সময় বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করে ছাএলীগ কর্মিদের উপর।’ এমন ক্যাপশনে ৩ মরদেহের ভিডিওটি মূলত খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার। পাহাড়ি দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের গোলাগুলিতে নিহত মরদেহের ভিডিও বিএনপির হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী নিহত দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে, যা সত্য নয়।


