‘শিশুদের টিকা দেওয়া ইসলামবিরোধী’ এ ধরনের কথা বলেননি সাবেক প্রেস সচিব

“শিশুদের টিকা দেওয়া ই'সলাম ধর্ম বিরোধী। ইসলামিক স্কলার আহমাদুল্লাহ ও আজহারী হুজুরের পরামর্শে টিকা দেওয়া বন্ধ করেছিল ড. ইউনূস সরকার।’’ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম এমন মন্তব্য করেছেন দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং টুইটারে ছড়ানো হচ্ছে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
প্রচারিত ফটোকার্ডটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা গেছে, ‘ব্যঙ্গবাজার’ নামে একটি স্যাটায়ার পেজ থেকে দাবিটি সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয়েছে। উল্লিখিত পেজ থেকে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করতেও দেখা গেছে। প্রচারিত দাবিটি বিশ্বাস করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনদের অনেকে। যেমন: ক্র্যাক প্লাটুন নামে একটি গ্রুপে ছবিটির পোস্টে জয়া শারমিন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, “এরা কোন দুনিয়ায় বাস করে বুঝি না। সব কিছুর মধ্যে ধর্ম টানে।” রিমন বড়ুয়া তপু নামে ভিন্ন একজন লিখেছেন, “তাহলে দেশের বাকি সব সিদ্ধান্ত কি উনাদের পরামর্শ অনুযায়ী হয়েছে?”
অন্যদিকে কথিত স্যাটায়ার পেজটিতে পোস্ট করা দাবিটির মূল থিম অপরিবর্তিত রেখে একাধিক ফটোকার্ড ছড়াতে দেখা গেছে। ‘মিল্লাত বাম্প’ নামে একটি পেজ থেকে একই দাবিতে ভিন্ন একটি ফটোকার্ড ভিডিও হিসেবে পোস্ট করা হয়েছে। এতে শফিকুল আলমের বক্তব্য দাবি করে লেখা হয়েছে, ‘শিশুদের টিকা দেওয়া ই'সলাম ধর্ম বিরোধী। ইসলামিক স্কলার আহমাদুল্লাহ ও আজহারী হুজুরের পরামর্শে টিকা দেওয়া বন্ধ করেছিল ড. ইউনূস সরকার।’
পোস্টটি এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লক্ষাধিকবার ভিউ হওয়ার পাশাপাশি হাজারের বেশি শেয়ার হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া পোস্টটিতে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া পাশাপাশি অন্তত ৪ শতাধিক মন্তব্য এসেছে।
তবে এ সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দেশের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবিটির পক্ষে যায় এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া শফিকুল আলমের ভ্যারিফায়েড প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করে এ ধরনের কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, ‘শিশুদের টিকা দেওয়া ই'সলাম ধর্ম বিরোধী। ইসলামিক স্কলার আহমাদুল্লাহ ও আজহারী হুজুরের পরামর্শে টিকা দেওয়া বন্ধ করেছিল ড. ইউনূস সরকার।’ সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবি করে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো ভুয়া। এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।