আওয়ামী লীগ অফিসের ৪৫ বছরের হোল্ডিং ট্যাক্স বাকি ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা

রাজধানীতে অবস্থিত দুই অফিসের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করেনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে গুলিস্তানের প্রধান কার্যালয়ের বাকি ৪৫ বছর। এ ছাড়া ধানমন্ডি ৩/এ-এর দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ের হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়া হয়নি গত ২৩ বছর ধরে। দুই কার্যালয় মিলে মোট বকেয়া এক কোটি ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮১ টাকা।
সাঈদ খোকন মেয়র থাকাকালে বকেয়া আদায়ে চিঠি দিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা। এ জন্য তাকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার পা ধরে মাফ চেয়ে চাকরি বাঁচাতে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আর কোনো কর্মকর্তা বকেয়া আদায়ের উদ্যোগ নেওয়ার সাহস করেননি।
প্রধান কার্যালয়ের বাকি ৮৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা
এশিয়া পোস্টের হাতে আসা নথিপত্রে দেখা যায়, রাজধানীর গুলিস্তানের ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের ভবনটি ১৯৮১ সাল থেকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ। ২০১৬ সালে সেখানে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ জমিতে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। ২০১৮ সালের ২৩ জুন শেখ হাসিনা ভবনটি উদ্বোধন করেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের জন্য সরকার থেকে জমিটি বরাদ্দ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই বরাদ্দ নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে। বরাদ্দের শর্ত ছিল, প্রচলিত হারে প্রতি বছর ভূমি কর দিতে হবে এবং নির্মিত ভবনের জন্যও কর দিতে হবে। ২০১৮ সালে ভবন উদ্বোধন হলেও এর আগে সেখানে ছোট ভবন ছিল। নতুন ও পুরোনো ভবনের জন্য সিটি করপোরেশনের বর্তমান হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া মোট ৮৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
হোল্ডিং ট্যাক্সের পাশাপাশি বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু মতিঝিল ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা নিরুন নাহার বেগমের সঙ্গে কথা বলে এশিয়া পোস্ট নিশ্চিত হয়েছে, এই জমির (১৮০৫ নম্বর দাগ) ওপর ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা হয়েছে ২০১৮ সাল পর্যন্ত। অর্থাৎ ভবন উদ্বোধনের পর কোনো ভূমি কর দেওয়া হয়নি।

ধানমন্ডি ৩/এ অফিসের বাকি ৩০ লাখ টাকা
অন্যদিকে ধানমন্ডির ৩/এ ছিল আওয়ামী লীগের প্রাণভোমরা। এই কার্যালয়ের জায়গাটি আফসার নামের এক ব্যক্তির নামে রেকর্ডকৃত। এখানে তিনটি ভবন রয়েছে। এই তিন ভবনের হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া ৩০ লাখ ৪৮১ টাকা।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে দলটি থেকে নির্বাচিত দুই মেয়র সাঈদ খোকন ও ফজলে নূর তাপসের আমলেও বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে কোনো তৎপরতা ছিল না। কোনো কর্মকর্তাও এই বকেয়া আদায়ের সাহস করেননি।
কর আদায়ে কেন এত নিষ্ক্রিয়তা? তারও উত্তর মিলেছে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। তারা জানান, মেয়র সাঈদ খোকনের আমলে করপোরেশনের এক কর্মকর্তা ধানমন্ডি ৩/এ-এর হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে চিঠি জারি করেছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ নেতাদের পায়ে ধরে তার চাকরি বাঁচাতে হয়েছে। মেয়ররাও এ বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না।
বকেয়া আদায় করতে গিয়ে কর্মকর্তার বিপদ
জানা যায়, সাঈদ খোকন মেয়র থাকাকালে সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বকেয়া আদায়ে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই চিঠি পেয়ে ক্ষুব্ধ হন সাঈদ খোকন ও আওয়ামী লীগের নেতারা। ওই কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা হয়। ফলে উপায়ান্তর না পেয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার পা ধরে মাফ চেয়ে চাকরি বাঁচাতে হয়। সামাজিকমাধ্যমে বিব্রতকর পরিস্থিতি পড়ার আশঙ্কায় ওই কর্মকর্তা নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। এ ঘটনার পর আর কোনো কর্মকর্তা বকেয়া আদায়ের উদ্যোগ নেওয়ার সাহস করেননি।
নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডিসির বক্তব্য
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে করপোরেশনের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি ডকুমেন্টসটা দেখিনি। তবে সেখানে শর্তানুযায়ী যদি ভূমি করসহ অন্যান্য কর অনেক বছর পর্যন্ত না দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ভূমি ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটি নেওয়া হবে।
.png)


