বিএনপি সরকার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ফ্রিডম রাসু’ এখন বিএনপির ‘নির্যাতিত নেতা’

বিএনপিতে ভিড়েছেন দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও পুলিশের খাতায় ‘ওয়ান্টেড পারসন’ খোরশেদ আলম রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু। বিগত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ঘোষিত দেশের শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর একজন তিনি। তাকেও ধরিয়ে দিতে পারলে নগদ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল তৎকালীন সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি বিএনপির ‘ত্যাগী ও নির্যাতিত’ কর্মীর স্বীকৃতি পেয়েছেন। এমন স্বীকৃতি দিয়ে তার পক্ষে পুলিশের কাছে চিঠি লিখেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মামলা, গুম, খুন ও তথ্য সংরক্ষক সমন্বয়ক শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মো. সালাহউদ্দিন খান। ওই চিঠিতে ফ্রিডম রাসুকে যারা গ্রেপ্তার করেছিলেন উল্টো তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর যে তালিকা ঘোষণা করেছিল। সেখানে শুরুর দিকেই ছিল খোরশেদ আলম রাসুর নাম—ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে যিনি কুখ্যাত ফ্রিডম রাসু নামে পরিচিত। ওই সময় রাজধানীজুড়ে অপরাধের রাজত্ব গড়ে তোলা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে রাসু অন্যতম। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। তালিকা ঘোষণার পরের বছর ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের আমলেই কারাবন্দি হন রাসু। এরপর কয়েক ধাপে কারাগারে ছিলেন প্রায় ২৩ বছর। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামিনে মুক্তি পেলেও এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি ফের গ্রেপ্তার হন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জেল থেকে বেরিয়ে বিএনপি আমলে শীর্ষ সন্ত্রাসীর তকমা পাওয়া সেই ফ্রিডম রাসু এখন নিজেকে দাবি করছেন ‘বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মী’ হিসেবে। তার সেই দাবিকে স্বীকৃতিও দিয়েছে বিএনপি!
দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মামলা, গুম, খুন ও তথ্য সংরক্ষক সমন্বয়ক শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মো. সালাহউদ্দিন খান দলীয় প্যাডে পুলিশের কাছে লেখা চিঠিতে রাসুকে বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা বলে অভিহিত করেছেন। ওই চিঠিতে রাসুকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সম্পৃক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা গ্রহণের সুপারিশও করেছেন সালাহউদ্দিন। যদিও পুলিশের ‘ওয়ান্টেড পারসন’ তালিকায় এখনও নাম রয়েছে রাসুর।
পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন রাসুর
২৩ বছর কারাভোগের পর ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন খোরশেদ আলম রাসু। কিন্তু কারাফটক থেকেই তাকে তুলে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শুরুতে এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও পাঁচ দিন পর নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাসুকে ফের কারাগারে পাঠানো হয়।
ওই ঘটনায় গাজীপুরের কোনাবাড়ি থানায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন করেন রাসু। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারামুক্ত হলেও মামলার সিদ্ধান্ত নিতে প্রায় দেড় বছর সময় লেগেছে তার। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নিজেকে জাতীয়বাদী যুবদলের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক ও বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে মামলার আবেদন করেন তিনি। রাসুর অভিযোগ, যুবদল নেতা হিসেবে বিএনপির পক্ষে কাজ করায় জামিন পাওয়ার পর তাকে জেলগেট থেকে অপহরণ করেন ডিবি পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা। সেখান থেকে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি অফিসে আটকে নির্যাতন করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সপ্তাহব্যাপী নির্যাতনের পর তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত ডিবির তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তাকে মামলায় আসামি করেন রাসু।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ফ্রিডম রাসুর একটা লিখিত অভিযোগ থানায় জমা আছে। অভিযোগটি এজাহার হিসেবে এখনও গ্রহণ করা হয়নি।’ এই অভিযোগ মামলা হিসেবে নেওয়া হবে কি না সে সিদ্ধান্ত তার সিনিয়র কর্মকর্তরা নেবেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আবু নাসের আল-আমিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘গোপালগঞ্জ জেলা যুবদলের ফ্রিডম রাসু নামের এক নেতা একটা অভিযোগ আমাদের কাছে আছে। বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো তদন্ত শুরু হয়নি। মামলা দায়ের হলে কিংবা তদন্ত শুরু হলে গণমাধ্যমে জানানো হবে।’
বিএনপির প্যাডে মামলা গ্রহণের সুপারিশ
খোরশেদ আলম রাসুর অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ডের জন্য তার আবেদনের সঙ্গে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন খানের একটি চিঠিও জমা দেওয়া হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি দলীয় প্যাডে ‘বিএনপি মামলা সংগ্রহ তথ্য উপাত্ত সেল’ থেকে কোনাবাড়ি থানার ওসি বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে সালাউদ্দিনের স্বাক্ষর ও সিলও রয়েছে। চিঠিতে তিনিও ফ্রিডম রাসুকে গোপালগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ও বিএনপির সক্রিয় সদস্য বলে আখ্যায়িত করেছেন।
চিঠিতে খোরশেদ আলম রাসুর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন লিখেছেন, ‘বিএনপি মহাসচিব বরাবর আবেদন করেন যে তিনি (রাসু) যুবদলের জেলা শাখার আহ্বায়ক ও বিএনপির সক্রিয় সদস্য থাকা অবস্থায় গত ১৭ বছরে প্রায় ৬টি মামলায় কয়েক বছর জেলহাজতে ছিলেন। তিনি বিএনপির একজন জনপ্রিয় সাবেক যুবদল জেলা আহ্বায়ক থাকায় বিএনপির সব কর্মসূচিতে গোপালগঞ্জ ও ঢাকা মহানগরে বিএনপি সব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করায় কিছু অসাধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ডিবিসহ তার বিরুদ্ধে নজরদারি শুরু করে এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় বারবার আটক করে জেলহাজতে পাঠায়। গত ১৮-০৯-২০২৩ তারিখ ঢাকা মেট্রোপলিটন বিশেষ দায়রা মামলা নং-২৮৩/২০২২ মামলায় জামিন পাওয়ার পর কাশিমপুর কারাগার থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা মিন্টু রোডস্থ ডিবি কার্যালয় থেকে এসআই আফতাবুল ইসলাম, বিপি-৮৯১৭১৯৯৭০৬, এনআইডি-৪১৭৮০৬৯৩২৬ সহ তার একটি টিম মাইক্রোবাসে করে চোখ বেঁধে মিন্টু রোড ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসে। সেখানে ১৮-০৯-২০২৩ থেকে ২৭-০৯-২০২৩ তারিখ পর্যন্ত ডিবি কার্যালয়ে আটক রেখে নির্যাতন করে ইলেকট্রিক শর্ট দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।’
সালাহউদ্দিন খান চিঠিতে আরও লেখেন, ‘এই সংক্রান্তে আইনি সহায়তা চাহিয়া বিএনপির মহাসচিব বরাবর আবেদন করলে তিনি আইনগত সহায়তার জন্য বিএনপি মামলা, খুন, গুম ও তথ্য সেলের প্রধান সমন্বয়ক বরাবর প্রেরণ করেন। তার নিকট থেকে প্রাপ্ত আপনার বরাবর একটি এজাহার যাহা পাতা নং ১ থেকে ৩ পর্যন্ত এজাহারের মূল কপি অত্র শাখার মো. মিজানুর রহমান পাটয়ারীর (সহকারী সমন্বয়ক মামলা, খুন, গুম ও তথ্য সেল) মাধ্যমে মূল এজাহারের কপি মামলা গ্রহণের জন্য আদিষ্ট হয়ে আপনার বরাবর বাদী মো. খোরশেদ আলম রাসুসহ প্রেরণ করা হলো। উক্ত দরখাস্তকারী মো. খোরশেদ আলম রাসুর দরখাস্তটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে পরবর্তীতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও এজাহারের একটি কপি বাদীকে অত্র অফিসে সরবরাহ করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করা হলো।’
এ বিষয়ে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন খানের সঙ্গে কথা হয় এশিয়া পোস্টের। তিনি বলেন, ‘গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি খোরশেদ আলম রাসু জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে বিএনপি মহাসচিব বরাবর প্রত্যয়ন দিয়েছে। মামলার আবেদনে খোরশেদ আলম রাসু উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৩ সালে তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন এবং লালবাগের ডিসি মশিউর তাকে রিমান্ডে নিয়ে সীমাহীন নির্যাতন ও নিপীড়ন করেছেন এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘উক্ত মামলার আবেদনটি আমি কোনাবাড়ি থানার ওসির কাছে ফরোয়ার্ড করেছি। প্রতিদিন এ ধরনের অনেক মামলার আবেদন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমার কাছে আসে। এসব আবেদনের ক্ষেত্রে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট থানার ওসির ওপর ন্যস্ত।’
ফ্রিডম রাসু কেন আলোচনায়
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত পুরোনো খবর থেকে জানা যায়, খোরশেদ আলম রাসুর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে। কথিত আছে, ঢাকায় এসে মগবাজারের টিএন্ডটি কলোনিতে বেড়ে ওঠা রাসু প্রথম জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ক্যান্টিনে কাজ করতেন। পরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
একসময় শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী ফারুক-রশিদের নেতৃত্বাধীন ‘ফ্রিডম পার্টির’ সঙ্গে মিলে অস্ত্রবাজিতে হাত পাকান রাসু। ১৯৮৮ সালে তার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে গুলি চালায়। ওই ঘটনার পর ‘ফ্রিডম রাসু’ নামে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেন তিনি। ফ্রিডম পার্টির প্রভাব কমলে যুবদলের রাজনীতে যুক্ত হন রাসু।
নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে ঢাকার অপরাধ জগতে বাড়তে থাকে তার দাপট। বেইলি রোড, মগবাজার এবং মালিবাগ এলাকা ঘিরে বিশাল বাহিনী গড়ে তোলেন। সে সময় রাসুর বাড়ি ছিল মৌচাক মার্কেটের পেছনে। দীর্ঘকাল ধরে মালিবাগ, মৌচাক-আনারকলি মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় হকার বসানো, মার্কেটের ভেতরে জায়গা দখল করে দোকান তৈরি এবং চাঁদাবাজির পুরোটাই ছিল রাসুর নিয়ন্ত্রণে। ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ‘ফাইভ স্টার গ্রুপের’ গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন রাসু। হত্যা, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে তার নামে।
২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে দেশের টালমাটাল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। ঢাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণকারী ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা তৈরি করে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তালিকার প্রথম আটজনকে ধরিয়ে দিতে ১ লাখ টাকা করে এবং ১৫ জনের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। তালিকাভুক্তদের নাম তোলা হয় পুলিশের ‘ওয়ান্টেড পারসন’ তালিকাতেও। এখনও পুলিশের ওয়েবসাইটে সে তালিকায় নাম রয়েছে খোরশেদ আলম ওরফে ফ্রিডম রাসুর।
তালিকার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তোড়জোড় শুরুর পর ২০০২ সালের ২৮ মে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন রাসু। কিন্তু কারাবন্দি অবস্থাতেও তার দৌরাত্ম্য থেমে থাকেনি। চাঁদাবাজি ও দখলদারি চলতে থাকে তার নামে। এর মধ্যে ২০০৩ সালে মালিবাগের একটি আবাসিক হোটেলে ডিবি পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার সময় শীর্ষসন্ত্রাসী জিসান আহমেদ মন্টি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কারাবন্দি রাসু ও তার বাহিনীর নামও উঠে আসে এ হত্যাকাণ্ডে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত হওয়া রাসু নতুন করে মগবাজার ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এসব বিষয়ে এশিয়া পোস্টের পক্ষ থেকে খোরশেদ আলম রাসুর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তার মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি কল ধরেননি। পরে এশিয়া পোস্টের পরিচয় দিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে চেয়ে তার মোবাইল নম্বরে ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হয়। তার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ ডেলিভারিও হয়। কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দেননি। এ ছাড়া তিনি থানায় দেওয়া অভিযোগপত্রে যে বর্তমান ঠিকানা ব্যবহার করেছেন সেখানে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
-17728054999320.jpeg)
-17728054999331.jpeg)
