নিজেদের টাকায় উপদেষ্টাকে চীন নিতে চায় বিটিআরসি

নিজস্ব তহবিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদকে চীন সফরে নিতে চায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
চীনের সাংহাইতে আগামী ২৪ থেকে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস সাংহাই ২০২৬ এবং নীতিনির্ধারক ফোরাম শীর্ষক আয়োজন। এতে অংশ নিতে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বিটিআরসি।
উপদেষ্টাকে চীন নেওয়ার বিষয়ে সংস্থাটির আভ্যান্তরীণ একটি চিঠি এশিয়া পোস্টের হাতে এসেছে।
মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস সাংহাই মূলত বিশ্বব্যাপী মোবাইল প্রযুক্তি, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং টেলিযোগাযোগ নীতিমালা সংক্রান্ত আলোচনার একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ। আগামী মাসে প্ল্যাটফর্মটির এবারের আয়োজন সম্পন্ন করতে এরইমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছে আয়োজক সংস্থা গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশনস অথরিটি (জিএসএমএ)।
এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য জিএসএমএর তরফে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু বিটিআরসি নিজ উদ্যোগে প্রতিনিধিদলে উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। শুধু তাই নয়, সফরের পুরো ব্যয় বিটিআরসির নিজস্ব তহবিল থেকে বহনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের সাম্প্রতিক এক নথিতে দেখা যায়, সংস্থাটি প্রস্তাবিত প্রতিনিধিদলের অনুকূলে জিও জারির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল বিটিআরসির পরিচালক (সেবা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল হাসান মামুন ওই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন। নথিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই সফরের সব খরচ বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট খাত থেকে বহন করা যেতে পারে।
সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ আপাতত বন্ধ থাকবে। শুধু বিদেশ নয়, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অব্যয়িত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। এছাড়া, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য সব সংস্থার জন্য বিদেশ সফর নিষিদ্ধ।
এই পরিপত্র বহাল থাকা অবস্থায় বিটিআরসি তার নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করে সফরের পরিকল্পনা করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি অর্থ না নিয়ে বিটিআরসির নিজস্ব খাত ব্যবহারের এই পরিকল্পনা মূলত বিধিনিষেধ এড়ানোর কৌশল।
বিটিআরসির তরফে এই সফরের পক্ষে কয়েকটি ‘যুক্তি’ তুলে ধরা হয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইকোসিস্টেমে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় হবে। আসন্ন আইটিইউ কাউন্সিল মেম্বারশিপ নির্বাচনেও বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। এছাড়া প্রযুক্তি-সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে প্রস্তাবে।
বিটিআরসির বক্তব্য
বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল কামরুল হাসান মামুন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান সম্ভবত এই সফরে যাচ্ছেন না।’
তাহলে কারা যাচ্ছেন? এমন প্রশ্নে তিনি মিডিয়া বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
পরে যোগাযোগ করা হলে বিটিআরসির উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মো. আব্দুস শাহীদ চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে জানান, এই সফরের বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো জিও হয়নি। তাই কাগজপত্র ছাড়া আমি কিছু বলতে পারছি না।’



