logo
Advertisement

জঙ্গি অভিযানে নেতৃত্বে নিয়েছেন পুরস্কার, তদন্তে দায় চাপালেন অধস্তনের ঘাড়ে!

জঙ্গি অভিযানে নেতৃত্বে নিয়েছেন পুরস্কার, তদন্তে দায় চাপালেন অধস্তনের ঘাড়ে!
ছবি: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিকস।

একসময় যা ছিল কৃতিত্ব, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তাই যেন হয়ে উঠেছে দায়। আর সেই দায় চাপানোর চেষ্টা অধস্তনের ওপর। ঘটনা পুলিশ বাহিনীর এক কর্মকর্তার, যিনি জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে পেয়েছিলেন পুলিশের সাহসিকতার পদক। গৌরবোজ্জ্বল সেই ভূমিকার কথা উল্লেখ করে গণমাধ্যমে বক্তব্যও দিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গিবিরোধী সেই অভিযান নিয়ে তদন্ত শুরু হলে নিজের নেতৃত্ব দেওয়ার কৃতিত্ব এখন আর তিনি স্বীকার করতে চাইছেন না। বরং বলছেন, তিনি নন, ওই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারই সঙ্গে কর্মরত আরেক অধস্তন কর্মকর্তা।

আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মোহাম্মদ আশিকুর রহমান। ঝিনাইদহ জেলার সাবেক পুলিশ সুপার এবং পুলিশের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ—সোয়াতের সাবেক কমান্ডার আশিক এখন অ্যাডিশনাল ডিআইজি হিসেবে কর্মরত আছেন ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহীতে।

ঘটনা ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার নোয়াগাঁও পাটারটেক এলাকায় পরিচালিত জঙ্গিবিরোধী ‘অপারেশন স্পেট-৮’-কে ঘিরে। ওই অভিযানে সে সময় ৭ জন জঙ্গি নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। তবে কাউকে সে সময় জীবিত গ্রেপ্তার করা যায়নি।

২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার নোয়াগাঁও পাটারটেক এলাকায় পরিচালিত জঙ্গিবিরোধী ‘অপারেশন স্পেট-৮’ এ অ্যাকশনে আশিকুর রহমান।
২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার নোয়াগাঁও পাটারটেক এলাকায় পরিচালিত জঙ্গিবিরোধী ‘অপারেশন স্পেট-৮’ এ অ্যাকশনে আশিকুর রহমান।

এই অভিযানেরই নেতৃত্ব দিয়ে ২০১৭ সালে ‘বাংলাদেশ পুলিম মেডেল (বিপিএম)-সাহসিকতা’ পেয়েছিলেন আশিক। প্রতিবছর অসীম বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ এবং অনন্যসাধারণ পেশাদারি প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের এই পদক দেওয়া হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়ে। তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তে গাজীপুরের ওই ঘটনা নিয়ে আশিক যে জবানবন্দি দিয়েছেন, সেখানে নিজের ভূমিকার কথা অস্বীকার করার চেষ্টা করেছেন তিনি। জবানবন্দিতে দেওয়া আশিকুরের বক্তব্য ও সরকারি নথির মধ্যে দেখা যাচ্ছে বিস্তর অসংগতি।

কেবল গাজীপুরের ওই ঘটনাতেই নয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কল্যাণপুরসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানের ঘটনায় নিহতদের, যাদের এক সময় জঙ্গি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল পুলিশ, তাদের পরিবারের কিছু সদস্য মামলা করেছেন। সেসব মামলায় অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদেরই আসামি করা হয়েছে।

এই বাড়িটি ঘিরেই ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার নোয়াগাঁও পাটারটেক এলাকায় পরিচালিত হয় জঙ্গিবিরোধী ‘অপারেশন স্পেট-৮’।
এই বাড়িটি ঘিরেই ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার নোয়াগাঁও পাটারটেক এলাকায় পরিচালিত হয় জঙ্গিবিরোধী ‘অপারেশন স্পেট-৮’।

এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)-এর একাধিক কর্মকর্তা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং অন্তত ২০ জন ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিরাপত্তার কারণে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। সিটিটিসিরই একটি বিশেষায়িত দল সোয়াত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। ফলে বাছবিচারহীনভাবে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।

গাজীপুরের অপারেশন স্পেট-৮

গাজীপুরের আলোচিত সেই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘স্পেট-৮’। সেই অভিযানে ৭ জঙ্গি নিহত এবং পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছে বলে সে সময় জানিয়েছিল পুলিশ।


অভিযান শেষে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গাজীপুরে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নিহতদের মধ্যে ‘নব্য জেএমবির’ তৎকালীন শীর্ষ নেতা ‘আকাশ’ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত সাতজনই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং কোনো নাশকতার পরিকল্পনায় সেখানে অবস্থান করছিল।


তবে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গাজীপুরের ওই অপারেশনে নিহত ইব্রাহীমের বাবা ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। তিনি দাবি করেন, ২০১৬ সালে মাদ্রাসাপড়ুয়া সাত শিক্ষার্থীকে গুম করে জয়দেবপুরের একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয় এবং পরে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়। সেখানে তার ছেলেও ছিল।

অপারেশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন কে?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অভিযানে গুলির ঘটনা ঘটলে, কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছে এবং তার বৈধতা যাচাইয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত প্রতিবেদন নেওয়ার বিধান রয়েছে। গাজীপুরের ওই অভিযানের বিষয়ে ২০১৬ সালের অক্টোবরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম যে প্রতিবেদন জমা দেন, তাতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৬টায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে মোহাম্মদ আশিকুর রহমান গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন নোয়াগাঁও আপারখোলা এলাকায় যান। একই দিন সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে জনৈক সোলাইমান সরকারের দ্বিতলবিশিষ্ট ভবন ঘেরাও করলে জঙ্গিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গ্রেনেড ও গুলি ছোড়ে। এর পর পুলিশ আত্মরক্ষা ও সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।


একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায় থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) থেকেও। সেখানে দেখা যায়, সোয়াতের কমান্ডার আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযানের প্রস্তুতি, অবস্থান গ্রহণ, ঘেরাও এবং পরবর্তী গুলিবিনিময়ের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।


এই ধরনের অভিযানে নেতৃত্ব সাধারণত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাই দিয়ে থাকেন। সেই বিবেচনায়, সোয়াত ইউনিটের কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে অপারেশনটি পরিচালিত হওয়াই স্বাভাবিক; দুটি সরকারি নথিতেই যার উল্লেখ পাওয়া যায়।


ট্রাইব্যুনালে ভিন্ন তথ্য

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই ঘটনার ভিন্ন একটি বর্ণনা দিয়েছেন আশিকুর রহমান। এশিয়া পোস্টের হাতে এসেছে সেই জবানবন্দির একটি কপি, যাতে তিনি দাবি করেছেন, অভিযানে নেতৃত্ব দেননি তিনি; বরং নেতৃত্ব দিয়েছেন তার অধীনস্থ কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (এসি) এসএম জাহাঙ্গীর হাসান। নিজেকে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে অপারেশনের কমান্ড ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়ও অস্বীকার করেছেন। তবে তার এই বক্তব্য পদকের সাইটেশন, পুলিশের জিডি এবং নির্বাহী তদন্ত প্রতিবেদনের বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে আশিকুর রহমান বলেন, ‘গত ০৮/১০/২০১৬ ইং তারিখে আমি অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ (সোয়াত), সিটিটিসি, ডিএমপি, ঢাকায় কর্মরত ছিলাম। উক্ত তারিখে আনুমানিক সকাল ১০ ঘটিকার সময় আমি (পিওএম) মিরপুরে একটি বিশেষ দলে প্রশিক্ষণকালীন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, সিটিটিসি, আমাকে অবহিত করেন যে, গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানাধীন নোয়াগাঁও এর আফরখোলা, পাটারটেক এলাকায় একটি জঙ্গি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। তিনি আরও জানান যে, সেখানে ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার (এসি) এসএম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে সোয়াত একটি টিম অবস্থান করছে এবং আমি উক্ত টিমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভিযানে অংশগ্রহণ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমি দেখতে পাই সিটিটিসি চিফ মো. মনিরুল ইসলাম, গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন আর রশীদ এবং সোয়াত টিম লিডার এসএম জাহাঙ্গীরসহ জয়দেবপুর থানা ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে রেখেছেন। পরবর্তী সময়ে সিটিটিসি চিফ মো. মনিরুল ইসলাম এবং গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন আর রশীদ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে অভিযানে সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। অভিযানে নেতৃত্ব প্রদান করেন এসএম জাহাঙ্গীর হাসান। এই অভিযানে আমি কোনো অস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করিনি। তবে সিটিটিসি চিফ মনিরুল ইসলাম স্যার তার পরিকল্পনা অনুযায়ী জিডিতে সকলের জন্য সমহারে গুলি বণ্টন দেখিয়ে আমাকে এম-৪ রাইফেল থেকে ৩০ রাউন্ড এবং গ্লক-১৭ পিস্তল থেকে ৮ রাউন্ড গুলি দেখান।’


কিন্তু গাজীপুরের ওই ঘটনার নির্বাহী তদন্ত প্রতিবেদন এবং পুলিশের জিডিসহ দুটি সরকারি নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযানের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে আশিকুর রহমানের নামই উল্লেখ রয়েছে। নথিগুলোর কোথাও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়নি।


গুলিবিদ্ধ হয়েও নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর?

আশিকুরের জবানবন্দিতে যেই এসএম জাহাঙ্গীর হাসানকে নেতৃত্বদানকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তিনি অভিযানের শুরুতেই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বলে নিশ্চিত হয়েছে এশিয়া পোস্ট। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, গুলিবিদ্ধ হয়ে জাহাঙ্গীর কার্যত অপারেশন থেকে ছিটকে পড়েন। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রসঙ্গটি জবানবন্দিতে এড়িয়ে গেছেন আশিকুর।


এ বিষয়ে ওই অভিযানে উপস্থিত তৎকালীন একাধিক সোয়াত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে এশিয়া পোস্ট। এদের মধ্যে এএসআই রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সোয়াত টিমের কমান্ডার উপস্থিত থাকাকালীন অন্য কারও অপারেশন পরিচালনার সুযোগ ছিল না। কারণ সোয়াত অত্যন্ত কঠোর চেইন অব কমান্ড মেনে চলা একটি ইউনিট। তিনি বলেছেন, ‘আশিক স্যার ছাড়াও ঘটনাস্থলে আরও সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই মিলে আলোচনা করে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করছিলেন এবং অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।’


জাহাঙ্গীরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘অপারেশন চলাকালীন তিনি বিষয়টি আমাদের বুঝতে দেননি। পরে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। তিনি চাননি, এতে টিমের মনোবল দুর্বল হয়ে পড়ুক।’

বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরা থাকলেও জাহাঙ্গীর আঘাতপ্রাপ্ত হন। রাশেদুল ইসলামই তাকে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন বলেও এশিয়া পোস্টকে জানান।


কী বলছেন জাহাঙ্গীর এবং আশিকুর?

ওই অভিযানে অংশ নেওয়া সিটিটিসির তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর, যার ওপর সকল দায় চাপিয়েছেন আশিকুর রহমান, তার সঙ্গেও কথা হয়েছে এশিয়া পোস্টের। তিনি এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আশিক স্যার কেন আমার নেতৃত্বে ওই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আমার বোধগম্য নয়।’


তিনি আরও বলেন, “স্যাররা প্রথমে হ্যান্ডমাইকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। ভেতর থেকে ‘মুরতাদ’ ও ‘তাগুত’ বলে আমাদের লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়। একপর্যায়ে শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারা অপারেশন শুরুর সিদ্ধান্ত নিলে আশিক স্যার আমাদের ভেতরে প্রবেশের নির্দেশ দেন। তিনটি দলে ভাগ হয়ে অপারেশন শুরু হয়। আমি একটি দলে ছিলাম। দ্বিতীয় তলায় গিয়ে পজিশন নেওয়ার পর দলকে ব্রিফ করার মুহূর্তে দরজার ছিদ্র দিয়ে পিস্তলের ব্যারেল ঢুকিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় জঙ্গিরা। একটি গুলি লাইফ ভেস্টের কর্নারে লেগে বাউন্স করে আমার ডান বুকে আঘাত করে। ফলে অপারেশনের শুরু থেকেই কার্যত আমি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ি।”


তিনি যোগ করেন, ‘পুলিশ সার্ভিসে সিনিয়র কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জুনিয়র কর্মকর্তার কমান্ডে অপারেশন পরিচালিত হওয়ার সুযোগ নেই।’


এ প্রসঙ্গে আশিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু সাব-জুডিশিয়াল ম্যাটার, এ নিয়ে আমি কথা বলতে চাচ্ছি না।’


আবদুল্লাহ আল ইমরান: কানাডায় কর্মরত অনুসন্ধানী সাংবাদিক