ত্রাণের আশায় রোহিঙ্গা হিসেবে নিবন্ধন বাংলাদেশিদের, এখন মিলছে না পাসপোর্ট

বায়োমেট্রিক ডাটাবেজে রোহিঙ্গা হিসেবে নিবন্ধন করেছেন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের অন্তত এক হাজার বাংলাদেশি। ত্রাণের আশায় তখন এভাবে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থায় (ইউএনএইচসিআর) নিজেদের নাম নিবন্ধন করেন তারা। সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং রোহিঙ্গাদের ডাটাবেজ একীভূত করায় গত জুলাই থেকে নতুন করে বিষয়টি সামনে আসছে। পাসপোর্ট তৈরি, ভোটার নিবন্ধন ও বিদেশযাত্রার মতো সরকারি সেবা নিতে গিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ছেন নিজেদের রোহিঙ্গা দাবি করে সুবিধা নেওয়া এসব ব্যক্তি।
তাদের একজন কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা দিনমজুর মোস্তাক মিয়া। তার পাঁচ সদস্যের পরিবার। ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা ঢল আসার সময় তিনি তিনটি রোহিঙ্গা পরিবারকে নিজের উঠানে আশ্রয় দেন। তখন রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের সময় নিজের নামও রোহিঙ্গা হিসেবে নথিভুক্ত করেন মোস্তাক। এরপর দীর্ঘ ৯ বছর ধরে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত রেশন গ্রহণ করেন।
সেই ত্রাণই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে মোস্তাক মিয়ার জন্য। চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষের দিকে পাসপোর্ট করতে গিয়ে জটিলতার মুখে পড়েন তার বড় ছেলে মিজানুর রহমান।
আঙুলের ছাপ দেওয়ার সময় মিজানের তথ্য রোহিঙ্গাদের নিবন্ধিত তথ্যভান্ডারে শনাক্ত হয়। যদিও জাতীয় পরিচয়পত্রে তিনি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিবন্ধিত। দুই ডাটাবেজে অসামঞ্জস্যতার কারণে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস তার আবেদন গ্রহণ না করে ফেরত পাঠায়।
মিজানুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘যখন রোহিঙ্গারা এসেছিল তখন আমার বয়স ছিল ১৪ বছর। পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ ক্যাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে বায়োমেট্রিক করেছিলাম। দুই বছর আগে এনআইডিও পেয়েছি। সে মোতাবেক পাসপোর্ট করতে গিয়েছি। কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে গেলে আমাকে ফিরিয়ে দেয়।’
শুধু মিজানুর রহমান নন, একই অবস্থা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী অন্তত এক হাজার বাংলাদেশির। অনেকে লোকলজ্জার কারণে মুখ খুলতে চান না। ইউএনএইচসিআরের ডাটাবেজ থেকে নাম বাতিল করতে তারা এখন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৯ বছর ধরে বাঙালিদের রোহিঙ্গা বনে যাওয়ার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি ছিল। তবে গত জুলাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেজ সংযুক্ত হওয়ার পর একে একে এসব ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। দ্বৈত তথ্যের কারণে পাসপোর্ট তৈরি, ভোটার নিবন্ধন, বিদেশযাত্রাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি নাগরিক প্রশাসনিক জটিলতায় পড়ছেন।
বিষয়টি নিয়ে এশিয়া পোস্টের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ইউএনএইচসিআরের পক্ষ থেকে সীমিত সংখ্যক অশরণার্থীকে ভুলবশত নিবন্ধন করার বিষয়টি স্বীকার করা হয়।
সংস্থাটি জানিয়েছে, শরণার্থী নন, এমন ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার যাদের নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত করছে যৌথ প্রক্রিয়ায়, তাদের শরণার্থী নিবন্ধন থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

যেভাবে রোহিঙ্গা সেজেছিলেন তারা
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা ঢলের পর ত্রাণসহায়তা পেতে অনেক বাংলাদেশি নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ইউএনএইচসিআরের বায়োমেট্রিক ডাটাবেজে রোহিঙ্গা হিসেবে নিবন্ধন করেন। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেন ক্যাম্পের মাঝি (রোহিঙ্গাদের স্থানীয় নেতা) এবং বায়োমেট্রিকের দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সুপারভাইজার। বিনিময়ে জনপ্রতি নেওয়া হয়েছিল এক থেকে দেড় হাজার টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুতুপালং ক্যাম্প ১-এর সাব ব্লকের এক মাঝি জানান, ওই এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিরা রোহিঙ্গাদের ডাটাবেজে নিবন্ধিত হতে প্রথমে মাঝিদের পরামর্শ নিতেন। এ জন্য মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকার গ্রামের নাম ও ঠিকানা জেনে নিতেন তারা। এমনকি বার্মিজ মুদ্রার নাম ও ভাষাও মোটামুটিভাবে আয়ত্ত করে নিতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক মাঝি বলেন, ‘এ কাজে সহযোগিতাস্বরূপ ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। আর ক্যাম্পের বায়োমেট্রিক সেন্টারে থাকা সুপারভাইজার ও সহকারীরা উৎকোচের বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের রোহিঙ্গা সাজতে সহায়তা করে।’
কুতুপালং লম্বাশিয়া এলাকার বাসিন্দা শহিদ উল্লাহ বলেন, ‘যেসব পরিবার নিবন্ধিত হয়েছিল, তাদের অধিকাংশই দরিদ্র। তারা রোহিঙ্গাদের কারণে জমি বা বাগান হারান। জীবিকা হারিয়ে সহায়তা পেতে ডাটাবেজে নাম তুলেছিল। তখন বুঝতে পারেনি, ত্রাণের জন্য নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হবে।’
নাম বাতিলের আবেদন
উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী ও থাইংখালী এলাকায় গত ২৯ ও ৩০ জুলাই এবং ১ আগস্ট বাংলাদেশি পরিবার, ক্যাম্পের মাঝি ও প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয় এশিয়া পোস্টের। তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এসব এলাকায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি নাগরিক রোহিঙ্গা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। এ ছাড়া টেকনাফের হ্নীলা, হোয়াইক্যং, নয়াপাড়া ও বাহারছড়ার শীলখালী এলাকায় বাংলাদেশি থেকে রোহিঙ্গা বনে যাওয়ার অনেক তথ্য মিলেছে।
কুতুপালং লম্বাশিয়া এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, এই ক্যাম্পের ৪৫০ থেকে ৫০০টি বাংলাদেশি পরিবারের মধ্যে ৭০ শতাংশ রোহিঙ্গাদের ডাটাবেজে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের একাধিক মাঝি জানান, কাঁটাতারের অভ্যন্তরে বসবাস করা বাঙালি জসিম উদ্দিনের পরিবারের চার সদস্য, জয়নাল উদ্দিনের পরিবারের পাঁচ সদস্য, মোহাম্মদ রফিকের পরিবারের পাঁচ সদস্য এবং ফরিদ আলমের পরিবারের পাঁচ সদস্য রোহিঙ্গা হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে রেশন কার্ড নিয়েছেন।
জানতে চাইলে ফরিদ আলম রেশন কার্ড নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। রোহিঙ্গা ঢলের পর কোনো সহায়তা পাননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশপাশের মানুষ আমাদের সঙ্গে দুশমনি করছে।’
মোস্তাক আহমদ (৪২) বলেন, ‘মাস তিনেক আগে আমার ছেলের পাসপোর্ট করেছি। তবে জমির খতিয়ানসহ অনেক কাগজপত্র দেখাতে হয়েছে।’ কোনো জটিলতায় পড়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার সব ঠিক আছে।’
ফরিদ আলম ও মোস্তাক আহমদ বিষয়টি অস্বীকার করলেও ক্যাম্পের হেড মাঝি আবদুর রশিদ উল্লেখিত পরিবারগুলো রোহিঙ্গাদের মতো ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তারা প্রতি মাসের শুরুতে রেশন পান। পূর্ণাঙ্গ তালিকা আমার হাতে আছে।’
রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘অনেকে ত্রাণের আশায় রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনে নাম তোলে। এখন জাতীয় পরিচয়পত্র ও রোহিঙ্গা তথ্যভান্ডার একীভূত হওয়ার পর পাসপোর্টসহ নানা সরকারি সেবা নিতে গিয়ে তারা সমস্যায় পড়ছেন। আমার ওয়ার্ডে ২০ থেকে ৩০টি পরিবারের এমন সমস্যা রয়েছে। অনেকের নাম বাদ দিতে আবেদনে সুপারিশ করেছি।’
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন থেকে ৫০ থেকে ৬০টি আবেদন জেলা প্রশাসন ও আরআরআরসি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে যারা পাসপোর্ট করতে গিয়ে আটকে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ইউএনএইচসিআরের ডাটাবেজ থেকে নাম প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘ত্রাণের লোভ একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এখন তাদের ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু পাসপোর্ট নয়, ভবিষ্যতে ভোটার নিবন্ধনসহ অন্যান্য নাগরিক সেবাও জটিল হয়ে যেতে পারে। অনেক তরুণ আছে, যারা ২০১৭ সালে শিশু ছিল। এখন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর পাসপোর্ট করতে গিয়ে জানতে পারছে, তারা রোহিঙ্গা হিসেবে নিবন্ধিত।’

ডাটাবেজ একীভূত হওয়ায় ধরা পড়ছে বেশি
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এত দিন রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেজ ইউএনএইচসিআরের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আরআরআরসি কেবল সেই তথ্য দেখার (রিড-অনলি) সুযোগ পেত। তবে পরে সরকার অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ডাটাবেজ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার তথ্য সংরক্ষণের জন্য নতুন সার্ভার তৈরি করে। চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ইউএনএইচসিআর ধাপে ধাপে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্য বাংলাদেশি সার্ভারে স্থানান্তর শুরু করে।
আরআরআরসি জানায়, নতুন এই ব্যবস্থায় রোহিঙ্গাদের আঙুলের ছাপের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল ডাটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। ফলে কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পরিচয়ে এনআইডি বা পাসপোর্ট করতে গেলে যেমন ধরা পড়ছেন, তেমনি বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে রোহিঙ্গা পরিচয়ে নিবন্ধিত হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যও শনাক্ত হচ্ছে।
কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বহু আগে থেকেই রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের তথ্যভান্ডার একীভূত করা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেও যেসব বাংলাদেশি পাসপোর্ট করতে চান তাদের আগে রোহিঙ্গাদের ডাটাবেজ থেকে নাম ও তথ্য মুছতে হবে। না হয় পাসপোর্ট করা যাবে না। ইতিমধ্যে অনেককে ফেরত পাঠিয়েছি।’
জমা পড়ছে একের পর এক আবেদন
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই পাসপোর্ট দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু কেউ যদি ত্রাণ পাওয়ার আশায় নিজেকে রোহিঙ্গা হিসেবে নিবন্ধিত করে থাকেন, সেটি বেআইনি। এ ধরনের এক হাজারের মতো আবেদন আমাদের কাছে এসেছে। আবেদনকারীদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘যেসব বাংলাদেশি পাসপোর্ট করতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন মূলত ওই ধরনের তথ্যগুলো বেশি পাচ্ছি। প্রথমে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করার পর সরকার বিষয়গুলো সামনে এনেছে। আমরা সুপারিশ করতে পারি, কিন্তু বাদ দেওয়া একটি গভীর ও জটিল সংকট।’ কতটি আবেদন জমা পড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।’

ভুলবশত নিবন্ধন, দাবি ইউএনএইচসিআরের
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বাংলাদেশের যোগাযোগ কর্মকর্তা শারি নিজমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘২০১৭ সালে স্বল্প সময়ের মধ্যে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সেই জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তথ্য বিনিময়-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় ওই তথ্য ইউএনএইচসিআরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার ও ইউএনএইচসিআরের যৌথ যাচাইকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শারি নিজমান বলেন, ‘রোহিঙ্গারা রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী। কয়েক দশক ধরে ধাপে ধাপে তাদের নাগরিক পরিচয়পত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়। ২০১৭ সালের সহিংসতার সময় অনেকে কোনো পরিচয়পত্র ছাড়াই প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবিক মানদণ্ড অনুযায়ী এমন নিবন্ধন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে, এমন কেউ নিবন্ধনের বাইরে না থাকেন বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে না পড়েন।’
তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএইচসিআর যৌথ যাচাইকরণ সাক্ষাৎকারসহ বিভিন্ন যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে শরণার্থী নন এমন কেউ নিবন্ধিত না হন। তবে এসব ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সীমিত সংখ্যক অশরণার্থী ব্যক্তি ভুলবশত নিবন্ধিত হয়েছেন। এমন ঘটনা শনাক্ত হলে তা পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য সরকার ও ইউএনএইচসিআরের একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে।’
কিছু বাংলাদেশি নাগরিক শরণার্থী নিবন্ধন থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইউএনএইচসিআর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। সরকার ও ইউএনএইচসিআর যৌথভাবে একটি প্রক্রিয়া চালু করেছে, যার মাধ্যমে আবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ যাদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত করে, তাদের শরণার্থী নিবন্ধন থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই কার্যক্রম চলমান। কক্সবাজারে আরআরআরসি কার্যালয় ও ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এটি পরিচালিত হচ্ছে।’
.png)





