ঢাকায় সবচেয়ে বিপজ্জনক বিমানবন্দর সড়ক ও যাত্রাবাড়ী মোড়

সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকায় সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান বিমানবন্দর সড়ক ও যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মোড়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।
‘রোড সেফটি সিচুয়েশন ইন ঢাকা: অ্যান অ্যানালিসিস অব ফ্যাটাল ক্র্যাশ ডাটা ২০২২-২০২৩’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনে ঢাকার সবচেয়ে বিপজ্জনক মোড় ও সড়কগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি তৈরিতে সহায়তা করেছে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে ঢাকার সড়কে ৫২১টি মারাত্মক দুর্ঘটনায় ৫৪০ জন নিহত হন।
২৫০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ঘটা দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে ২২টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি স্থানে সর্বোচ্চ ১২ জন করে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একটি হলো ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও বিমানবন্দর-দক্ষিণখান সড়কের সংযোগস্থল, অন্যটি যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মোড়।
এর পরেই রয়েছে আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকা, যেখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিকুঞ্জ বাস স্টপ, কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড়, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের সার্ভিস রোড এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দনিয়া কলেজের সামনে সাতজন করে নিহত হয়েছেন।
মিরপুর-১ নম্বর মোড়, মহাখালী মোড় ও লেভেল ক্রসিং, গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট, শনির আখড়া এবং মাতুয়াইল বাস স্টপে ছয়জন করে মানুষ নিহত হয়েছেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
প্রতিবেদনে পাঁচটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতি কিলোমিটারে মৃত্যুর হারে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে মাতুয়াইল বাস স্টপ)। মাত্র ৪ দশমিক ২ কিলোমিটারের এই করিডোরে ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে প্রাণ গেছে প্রায় ১২ জনের।
মোট মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক (আব্দুল্লাহপুর বাস স্টপ থেকে আর্মি গলফ ক্লাব পর্যন্ত)। এই আট কিলোমিটারের মধ্যে ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ, প্রতি কিলোমিটারে গড়ে আটজনেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে।
মিরপুর ১০ থেকে দারুস সালাম পর্যন্ত সড়কে ১৫ জন, পুরোনো বিমানবন্দর সড়ক থেকে নতুন বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত ১৫ জন এবং অতীশ দীপঙ্কর সড়কে ১৯ জন নিহত হয়েছেন।
ঝুঁকিতে বাইক আরোহী ও পথচারীরা
প্রতিবেদনে উল্লিখিত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৪০ জনের মধ্যে ৫৬ শতাংশই পথচারী। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মৃত্যুর হার ২৪ শতাংশ।
রিকশাচালক ও আরোহীদের ক্ষেত্রে এই হার আট শতাংশ, সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ও চালক চার শতাংশ, চার চাকার গাড়ির যাত্রী চার শতাংশ এবং সাইকেল আরোহীদের ক্ষেত্রে দুই শতাংশ।
মোট প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ৯৪ শতাংশই পথচারীকে ধাক্কা দেওয়া, পেছন থেকে সংঘর্ষ (রিয়ার-অ্যান্ড) এবং মুখোমুখি সংঘর্ষ (হেড-অন); এই তিন ধরনের।
লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহতদের ৮১ শতাংশ পুরুষ এবং ১৯ শতাংশ নারী। বিশেষ করে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সি কর্মক্ষম পুরুষরা সবচেয়ে বেশি (৫৩ শতাংশ) দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
নারীদের ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। নিহত মোটরসাইকেল আরোহীদের ৭৮ শতাংশই ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সি পুরুষ।
বিপজ্জনক যানবাহন
ঢাকার সড়কে সবচেয়ে বিপজ্জনক যানবাহন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাস ও ট্রাক। পথচারী নিহত হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটে বাসের ধাক্কায়। ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ হয় ট্রাকের কারণে।
মোটরসাইকেল আরোহীদের মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ ঘটে ট্রাকসংক্রান্ত দুর্ঘটনায়। ২০ শতাংশের মৃত্যু হয় বাসসংক্রান্ত দুর্ঘটনায়।
প্রতিবেদনে একাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, এমন দুর্ঘটনায় ৫১ শতাংশ প্রাণহানির জন্য বাস এবং ৩৮ শতাংশের জন্য ট্রাককে দায়ী করা হয়েছে।
ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ঢাকার দ্রুত নগরায়ণ আমাদের যাতায়াত ব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে। এটি সুযোগের পাশাপাশি নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আমাদের শহরকে টেকসই ও জনবান্ধব করার জন্য সড়ক দুর্ঘটনা ও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানো অপরিহার্য। ডিএনসিসি সড়ক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। এই প্রতিবেদনটি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’
পথচারীদের মরণফাঁদ
পথচারীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হিসেবে সামনে এসেছে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মোড়। সেখানে কেবল পথচারীই নিহত হয়েছেন ১০ জন।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও বিমানবন্দর-দক্ষিণখান সড়কের সংযোগস্থল এবং মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারসংলগ্ন সার্ভিস রোড, এই দুটি স্থানে সাতজন করে পথচারী নিহত হয়েছেন।
শনির আখড়া বাস স্টপে ছয়জন এবং গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট ও নিকুঞ্জ বাস স্টপে পাঁচজন করে পথচারীর প্রাণহানি হয়।
মোটরসাইকেল চালকদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড়, যেখানে চারজন নিহত হয়েছেন। দনিয়া কলেজের সামনে, মহাখালী মোড় ও লেভেল ক্রসিং, খিলগাঁও স্টাফ কোয়ার্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে, রামপুরা-বনশ্রী রোডের ফরাজী হাসপাতালের পাশে এবং উত্তরা রবীন্দ্র সরণি মোড়ে তিনজন করে মোটরসাইকেল আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন।
৮২ ভাগ দুর্ঘটনায় চালক পলাতক
প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ৮২ শতাংশই ছিল হিট অ্যান্ড রান। অর্থাৎ প্রতি পাঁচটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার চারটিতে চালক পালিয়ে গেছেন। তাদের বেশিরভাগই বাস ও ট্রাকচালক।
ঢাকার ৫১ শতাংশ মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে ইন্টারসেকশন বা মোড়গুলোতে। দুই মোড়ের মধ্যবর্তী সোজা সড়কে ঘটে ৪০ শতাংশ দুর্ঘটনা। গোলচত্বর ও লেভেল ক্রসিং এলাকায় দুই শতাংশ করে দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে এন১ ও এন৩ জাতীয় মহাসড়ক দুটিকে ‘সবচেয়ে প্রাণঘাতী করিডোর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মো. সারওয়ার (বিপিএম-সেবা) বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একটি জননিরাপত্তা সংকটই নয়, পরিবার ও সমাজের ওপর এর গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা উন্নত করতে আইন প্রয়োগের ভূমিকা অপরিসীম। গতিসীমা লঙ্ঘন, বিপজ্জনক ড্রাইভিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ডিএমপি কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে চিহ্নিত ২২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আমরা নজরদারি আরও বাড়াব।’
গভীর রাতে সর্বোচ্চ ঝুঁকি
প্রতিবেদনের সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে রাত ১০টা থেকে রাত ২টার মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে রাস্তা ফাঁকা থাকায় অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি কম থাকাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মোট হিট অ্যান্ড রান দুর্ঘটনার ৫৭ শতাংশ ঘটে এই সময়ের মধ্যে।
পথচারী মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে দুর্ঘটনার হার সর্বনিম্ন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কর্মদিবসের তুলনায় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার হার অপেক্ষাকৃত বেশি। দুর্ঘটনার শিকার প্রায় ৮৮ শতাংশ ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিল ১০টি হাসপাতালে।
ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান যানবাহন ও সীমিত সড়ক সুরক্ষায় ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশলগত সমাধান অত্যন্ত জরুরি। ডিএনসিসি ইতিমধ্যে বনানীতে সেফার নেইবারহুড, মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ডে ইন্টারসেকশন এবং বনানী, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে সেফ স্কুল জোন তৈরি করেছে। খিলক্ষেত ও মালিবাগেও একই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এই প্রতিবেদন আমাদের ভবিষ্যতের প্রকৌশলগত কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণে সাহায্য করবে।’
প্রতিবেদনে তথ্যের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর), এজাহার, অ্যাকসিডেন্ট রিপোর্ট ফরম (এআরএফ), ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) এবং মাইক্রোকম্পিউটার অ্যাকসিডেন্ট অ্যানালাইসিস প্যাকেজ-৫ (এমএএপি৫)।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার তথ্য কম নথিভুক্ত হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। বিশেষ করে যানবাহন ও ভুক্তভোগী সম্পর্কিত তথ্যের ঘাটতি বিশ্লেষণে প্রভাব ফেলেছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘বিআইজিআরএস-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমাদের ট্রাফিক কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক মানের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। গতি নিয়ন্ত্রণ এবং বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পুলিশিং ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে আমরা ঢাকার দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে আরও সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি।’
যা বলছেন বিশেষজ্ঞ
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে পথচারীরা সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে। সারা পৃথিবীর মেগাসিটিগুলোতে পথচারীদের অবকাঠামো, তাদের হাঁটার সুযোগ করে দেওয়া এবং নিরাপত্তার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়। অথচ আমাদের দেশে উল্টো। আমরা কী করি? পথচারীদের জন্য রাস্তার কোনো ডিজাইনই করি না। অধিকাংশ রাস্তায় পথচারীদের অংশ নেই।’
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বড় বড় অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, কিন্তু সেই অবকাঠামোর নিচ দিয়ে কীভাবে পথচারীরা পারাপার হবে, তার কোনো ডিজাইন নাই। মেট্রোরেলের বড় বড় পিলার আমরা ফুটপাতে দিয়ে দিয়েছি, এ রকম অবকাঠামোর কারণে পথচারীদের হাঁটার জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় পথচারীদের হাঁটার জায়গা ছোট করে সিটি করপোরেশন গাড়ির জন্য রাস্তা বড় করছে।’
আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘সম্প্রতি সিটি করপোরেশন দাগ কেটে হকারদের সড়ক ও ফুটপাত দিয়ে দিচ্ছে। এটা যে কতটুকু অন্যায্য; এই পরিসংখ্যানগুলোই তার প্রমাণ। আমরা সড়ক-ফুটপাত যদি এভাবে দিয়ে দেই, তাহলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে। এ জন্য সামগ্রিকভাবে আমাদের সড়ক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন করা উচিত। আমরা চাইলেই পথচারীদের পারাপারের জন্য সুবিধা তৈরি করতে পারতাম, প্রতিটা রাস্তায় ফুটপাত নিশ্চিত করতে পারতাম। সেখানে কোনো ধরনের দখল থাকত না, বরং মানুষ নির্বিঘ্নে পারাপার হতে পারত। তাহলে অন্তত পথচারীদের এভাবে মারা যাওয়ার কথা ছিল না।’
গতি নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশিং ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টা আমাদের দেশে একেবারেই উপেক্ষিত। ঢাকার রাস্তায় গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলে রাতে যে এত দুর্ঘটনা হচ্ছে তা অনেক কমে যেত। রাতের বেলায় অনেক ট্রাক ঢাকার মধ্য দিয়ে বাইপাস করে। সেগুলোর গতি নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ নেই। এগুলোর গতি নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। একইসঙ্গে রাতের বেলায় পুলিশিং বাড়ানো দরকার, যার কোনোটিই নেই।’
আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘সিটি করপোরেশনকে অবশ্যই এই রিপোর্ট গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। কীভাবে দুর্ঘটনা কমানো যায়, তার জন্য ব্যবস্থাপনাগত ও অবকাঠামোগত যে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নেওয়া দরকার।’
প্রতিবেদনের মূল সুপারিশ
দুর্ঘটনা কমাতে প্রতিবেদনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- নিরবচ্ছিন্ন ও প্রশস্ত ফুটপাত, উঁচু পথচারী ক্রসিং (ফুটওভার ব্রিজ নয়) এবং শুধু পথচারীদের জন্য সড়ক বা গাড়িমুক্ত অঞ্চল তৈরি করা। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে গতিসীমা নির্ধারণ ও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা। স্কুল ও আবাসিক এলাকায় গতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।
এছাড়া গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ বাস স্টপ তৈরি করা। হিট অ্যান্ড রান রোধে আইন সংশোধন করে কঠোর শাস্তির বিধান করা এবং সিসি ক্যামেরার কাভারেজ বাড়ানো। মোড়গুলোর নকশায় পথচারীবান্ধব পরিবর্তন আনা। সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক পরিসংখ্যান সংরক্ষণে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
.png)





