তিন জেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গা, মুন্সীগঞ্জ ও ঝিনাইদহে বজ্রপাতে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ দুজনের মৃতু হয়। তারা হলেন জীবননগর উপজেলার ঘোষনগর গ্রামের রেজাউল হোসেনের ছেলে রাসেল এবং দর্শনা পারকৃষ্ণপুর গ্রামের আজিমের ছেলে আলিমুল আজিম। আজিম দর্শনার এমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
রাসেলের পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে রাসেল বাড়ির পাশের জমিতে তামাকের খড়ি গোছানোর কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জীবননগর থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, বজ্রপাতে রাসেলের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ছাড়া একই দিন দুপুরে দর্শনার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের আজিমের ছেলে আলিমুল আজিম বাবার জন্য ভাত নিয়ে গ্রামের মাঠে গেলে বজ্রপাতে তার মৃত্য হয়।
মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ীতে বৃহস্পতিবার দুপুরে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়। উপজেলার আড়িয়াল ইউনিয়নের ফজুসার গ্রামে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আক্রান্ত হন কৃষক রিজান ঢালী। স্বজনরা তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে দিঘিরপাড় ইউনিয়নের হাইয়ারপাড় এলাকায় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন ডা. নূরে আলম। তাকেও উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই দিনে দুজনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে ঝিনাইদহের মহেশপুরে বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বাতানগাছি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় এক কৃষক আহত হয়েছেন।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বাতানগাছি গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী রোজিনা খাতুন বাড়ির পাশেই কাজ করছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে একই সময়ে একই গ্রামের মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন কৃষক পিলু মিয়া (৫২)। বজ্রপাতে তিনিও গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, বজ্রপাতের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এলাকাবাসীকে খোলা মাঠে কাজ করার সময় বিশেষ করে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা, মুন্সীগঞ্জ ও ঝিনাইদহ সংবাদদাতা