logo

ইসির ‘তড়িঘড়ি’ গেজেট প্রকাশে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ হয়েছে

ইসির ‘তড়িঘড়ি’ গেজেট প্রকাশে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ হয়েছে

নির্বাচন কমিশন ‘তড়িঘড়ি’ করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করায় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুজন।

বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণে যারা অযোগ্য, তারা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে নির্বাচনি ফলাফলের সমীকরণ বদলে যায়। তখন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া নির্বাচনের সময় কারচুপি কিংবা নির্বাচন ফেয়ার হয়েছে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  

তিনি বলেন, যখন এ রকম প্রশ্ন ওঠে, তখন নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে। তদন্ত করে ফলাফল বাতিলও করতে পারে। আবার নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে তারা। এই নির্বাচনেও এই প্রশ্নগুলো উঠেছে, আপনারাও তুলেছেন আমরাও তুলেছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি। তারা তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করে দিয়েছে।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বদিউল আলম বলেন, গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন মুক্ত হয়ে যায়। তাদের আর কোনো কিছু করার নাই। এখন আদালতের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কিন্তু অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনেরই তদন্ত করা ‘উচিত ছিল’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেহেতু এই প্রশ্নগুলো উঠেছে যে তড়িঘড়ি করে... আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছিলাম যেন তদন্ত সাপেক্ষে এই ঋণখেলাপি বিলখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক এবং বিভিন্ন যেসব ক্ষেত্রে অযোগ্যতা আছে, সেগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারপর যেন এই গেজেট প্রকাশ করে।

তিনি বলেন, আমরা এক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হয়েছিল কি না এটা সার্টিফাই করতে। এটা গুরুত্বপূর্ণ।

সুজনের তথ্যে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জনের মধ্যে ১৪৭ জন ঋণগ্রহীতা। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ৫০ শতাংশ। তাদের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৩৬ জন। আর ১২৬ জনই বিএনপি থেকে নির্বাচিত।

সুজনের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচনে ঋণগ্রহীতার হার বেড়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২০৯ আসনে নিরঙ্কুশ জয় পায় বিএনপি। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী অনিয়মের অভিযোগ তুলে ৩২টি আসনে ভোট পুনর্নগণনার দাবি তোলে। এদিকে ভোটের ফল প্রকাশের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতেই গেজেট জারি করে নির্বাচন কমিশন। জামায়াতকে অভিযোগের বিষয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।