logo

সনি র‌্যাংগসের ৩ কর্মকর্তার ১৫ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

সনি র‌্যাংগসের ৩ কর্মকর্তার ১৫ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

অবৈধভাবে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে সনি র‌্যাংগসের তিন কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. আল আমিন রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদলতে এ আবেদন করেছেন। 

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিষেধাজ্ঞা চাওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন সনি র‍্যাংগস ইলেকট্রনিকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একরাম হোসেন, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিনাস হোসেন ও সাচিমি ওগাওয়ারা হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদন এশিয়া পোস্টের হাতে এসেছে।

আবেদনে বলা হয়েছে—সনি র‌্যাংগসের ৩ কর্মকর্তা ছাড়াও অন্যরা অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের গোপন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তিনজন ছাড়াও তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে দেশ-বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ তারা অন্যত্র হস্তান্তরের চেষ্টা করছে। এ জন্য তাদের সম্পদ হস্তান্তর বন্ধ ও অপরাধমূলক কাজের আলামত রক্ষায় বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।

দুদকের সূত্র বলছে, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এসব ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন আলামত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের  নামে দেশে ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের উৎস, লেনদেনের প্রকৃতি ও অর্থ পাচারের সম্ভাব্য যোগসূত্র যাচাইয়ের জন্য কমিশনের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। 

তাদের বিরুদ্ধে দুদকে যে অভিযোগ জমা পড়েছে সেখানে বলা হয়েছে, পতিত হাসিনা সরকারের সময়ে বিভিন্ন আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে ইলেকট্রনিক পণ্য ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করেছে প্রতিষ্ঠানটি। জাল-জালিয়াতি, ভ্যাট, ট্যাক্স ফাঁকিসহ নানা ধরনের আর্থিক অপরাধের অভিযোগ ‘র‌্যাংগস ইলেকট্রনিকস’-এর নামে রয়েছে।

এ ছাড়া সনি র‌্যাংগসের ভাইস চেয়ারম্যান আকতার হুসেনের স্ত্রী সাচিমি হুসেন জন্মসূত্রে জাপানের নাগরিক। জাপানে তিনি ‘সাচিমি ওগাওয়ারা’ নামে পরিচিত। মা জাপানি নাগরিক হওয়ার সুবাদে তার দুই ছেলে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর জে. একরাম হুসাইন এবং ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিনাস হুসাইন দুজনেরই জাপানি নাগরিকত্ব রয়েছে। জে. একরাম হুসাইন জাপানে ব্যবহার করেন ‘টোমোয়িকো ওগাওয়ারা’ নাম। বিনাস হুসাইন জাপানে ‘মিকো ওগাওয়ারা’ নাম ব্যবহার করেন। তারা তিনজনই জাপানের পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিক। জাপানি নাগরিক হিসেবে তারা সিঙ্গাপুরে বিপুল সম্পত্তি কিনেছেন। রয়েছে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব। সম্পদ ক্রয় করতে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। অর্থ পাচার করেছেন জাপানেও। সেখানেও বিপুল সম্পত্তি রয়েছে তাদের।

সনি র‌্যাংগসের এই কর্মকর্তারা দুবাই হয়ে হুন্ডির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে অর্থ সিঙ্গাপুরে অবস্থিত র‌্যাংগস ইলেকট্রনিকসের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘ট্রাস্ট মোটো প্রাইভেট লিমিটেডে’ পাঠানো হয়েছে। এই অর্থ পাচারের সঙ্গে সোনালী ও জনতা ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।