logo

নতুন বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সমর্থন চাই: তারেক রহমান

নতুন বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সমর্থন চাই: তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি, এখন দেশ গড়ার কাজে হাত দিতে হবে। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে হাত দিতে হবে। সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। প্রায় ২০ কোটি মানুষের এই দেশের যুবক ও তরুণদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। গত ১৫ বছরে শুধু মেগা প্রজেক্ট হতে দেখেছি। কিন্তু এসবে মেগা মেগা দুর্নীতি হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। সেজন্য আমরা জনগণের সমর্থন চাই।

নির্বাচনি প্রচারণার শেষে দিনে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় নিজের আসন ঢাকা-১৭ এর বনানী কামাল আতাতুর্ক মাঠে এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আর দুইদিন পরে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের বহু প্রত্যাশিত সেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের বহু মানুষ গত ১৬ বছরে হত্যার শিকার হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি, কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদেরকে বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে। দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আপনাদের সামনে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যে কর্মসূচি দিয়ে তা বাস্তবায়নে সক্ষম। বিএনপিকে আপনারা সুযোগ দিন। ইনশাআল্লাহ বিএনপি আপনাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে দেশ গঠন করবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।

তিনি বলেন, আমি শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার একটি কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, প্রত্যেকটি জায়গায় একটি কথাই বলি… দেশ যেহেতু আমাদের, কেউ বাইরে থেকে এসে এই দেশ গঠন করে দিয়ে যাবে না। এই দেশ আমাদেরকেই গড়ে তুলতে হবে। নিজের ঘর যেরকম নিজেকে সামাল দিয়ে রাখতে হয়, এই দেশকে আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। আমি ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের সকলের কাছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাই।

ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হিসেবে তারেক রহমান বলেন, এই এলাকার প্রার্থী ছিলেন খালেদা জিয়া। এবার আমি প্রার্থী। এই এলাকায় আমার বেড়ে ওঠা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সাল থেকে আমি এই এলাকাতেই বড় হয়েছি। আমার ভাইও এই এলাকাতেই বড় হয়েছেন। আমাদের সন্তানেরাও এই এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই এলাকায় সারা জীবন কাটিয়েছেন এবং এই এলাকা থেকেই উনি শেষ বিদায় নিয়েছেন। আজ এই এলাকার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে আমার এবং আমার পরিবারের একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছে.... একটি মানসিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, আরেকটি আধ্যাত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপির মতো একটি দলের কাছে শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা। আমরাও বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চেষ্টা করেছি পরিকল্পনা গ্রহণের।

বনানীর পথসভা শেষে বিএনপি চেয়ারম্যানের গাড়িবহর ধানমন্ডির পথে রওনা হয়েছে। সেখানে ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবির নির্বাচনি এলাকায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এরপর পর্যায়ক্রমে ঢাকা-৮ এর মির্জা আব্বাসের আসনে পীর জঙ্গি মাজার রোডে, ঢাকা-৯ এর হাবিবুর রশীদ হাবিবের বাসাবো তরুন সংঘ মাঠে, ঢাকা-৫ এর নবীউল্লাহ নবীর যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে, ঢাকা-৪ এর তানভীর আহমেদ রবিনের জুরাইন দয়াগঞ্জ রোডে, ঢাকা-৬ এর ইশরাক হোসেনের ধূপখোলা মাঠে ও ঢাকা-৭ এর ধানের শীষের প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদের লালবাগ বালুর মাঠের পথসভায় বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।

সারাদেশে নির্বাচনে প্রচারণা শেষে করে রোববার ঢাকা মহানগরে প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান। গতকাল (রোববার) তিনি ঢাকার সাতটি নির্বাচনি পথসভায় বক্তব্য রাখেন।