দাম কমেছে লেবু-শসা-বেগুনের

রমজানের এক সপ্তাহ পেরোতেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রোজাকে ঘিরে যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে লেবু, শসা, বেগুনসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম কমতে দেখা গেছে। বিশেষ করে লেবু ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার আগে অনেকেই একসঙ্গে দুই থেকে তিন সপ্তাহের বাজার করে রাখেন। এতে সে সময় চাহিদা বাড়ে, দামও বাড়ে। এখন সে চাপ নেই। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে ছুটি শুরু হওয়ায় ঢাকায় মানুষের উপস্থিতিও কমছে। ফলে চাহিদা কমে বাজারে দামও কিছুটা নেমেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হাতিরপুল, লালবাগ ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
রোজার আগের দিন যে লেবু ১০০ টাকা হালি বিক্রি হয়েছিল, এখন তা ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বড় আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা রোজার আগে ১৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পেঁয়াজের দামও কমেছে। বর্তমানে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এক সপ্তাহে এ পণ্যের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
চাহিদা কমে যাওয়ায় বেগুন, কাঁচামরিচসহ রোজা সংশ্লিষ্ট পণ্যের দামও কমেছে। বিক্রেতাদের দাবি, অন্যান্য প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে অন্তত ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
বর্তমানে শসা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বেগুনের দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় এ দুই পণ্যের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে।
বাজারে ক্রেতা কম থাকায় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আপাতত দাম স্থিতিশীল থাকতে পারে। রোজার শুরুতে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এখন সে দাম অনেকটাই কমেছে।
ফুলকপি, মুলা ও শিমের মতো সবজির চাহিদা কমে যাওয়ায় এসব পণ্যের দামও নেমেছে। বর্তমানে শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। মূলা, গাজর, পেঁপে, ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ কয়েক ধরনের সবজি একই দামে পাওয়া যাচ্ছে।
নিউমার্কেটের এক সবজি বিক্রেতা তারেক বলেন, সবজির চাহিদা অনেক কমেছে, তাই দামও কমছে। তিনি জানান, আরও এক সপ্তাহ পর দাম আরও কমতে পারে। কারণ অনেকেই ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। মেস ও হোস্টেলের ক্রেতাও কমছে।
এদিকে মুদি পণ্যের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে। ছোলা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, যা রোজার শুরুতে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ৫ টাকা কমে এখন ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেলের দামও লিটারে ৫ টাকা কমে ১৭০ টাকায় নেমেছে।
তবে চিনি ও কিছু নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়।
মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে কমেছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। সোনালি জাতের মুরগি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩২০ টাকা। গরুর মাংস কেজিতে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের মতোই রয়েছে। ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়।
মাছের বাজারে দেখা গেছে, পাঙাস কেজিতে ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, কই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং শিং ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা সজল মিয়া বলেন, এক কেজি পাঙাস ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে এ দুই মাছের দাম অন্য মাছের তুলনায় কম ছিল। এখন সেগুলোর দামও বেড়েছে। রুই বা কাতলা কিনতে হলে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা লাগে। তার ভাষায়, নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য এত দামে মাছ কেনা কঠিন।