logo

বিএনপির ইশতেহার পূরণে ২১ মিশনে তিনটি করে পদ চায় মন্ত্রণালয়

বিএনপির ইশতেহার পূরণে ২১ মিশনে তিনটি করে পদ চায় মন্ত্রণালয়

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে লোকবল বাড়াতে চায় প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মিশনগুলোয় শ্রম কল্যাণ উইংয়ে চারজন করে লোকবল থাকলেও, সেখানে আরও তিনটি করে পদ সৃষ্টি করতে চায় মন্ত্রণালয়টি।

এ লক্ষ্যে আগামীকাল রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা আড়াইটায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশন প্রধানদের সঙ্গে অনলাইনে সভা করা হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার আহমেদ এতে সভাপতিত্ব করবেন।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কল্যাণ-১ শাখা থেকে অনলাইন সভায় অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে এক চিঠি দেওয়া হয়।

শাখার উপসচিব শওকাত আলীর সই করা ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬ বাস্তবায়ন অর্থ্যাত সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গুরুত্ব বিবেচনায় ২১টি হাইকমিশন/দূতাবাস/কনস্যুলেটে শ্রম কল্যাণ উইংয়ের অধীনে একজন করে আইন বিষয়ক কর্মকর্তা, আইন সহকারী (লোকাল), গাড়িচালক (লোকাল) পদ সৃজনের লক্ষ্যে এ মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সভাপতিত্বে … জুম প্ল্যাটফর্মে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল রোববার বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটায় এই অনলাইন সভার তারিখ ও সময় নির্ধারিত হয়েছে।’

চিঠির সূত্রে জানা যায়, সভায় অংশ নেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পররাষ্ট্রসচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ অনুবিভাগ) এবং বিদেশে থাকা ৩০টি মিশন প্রধান, ১৯টি মিশনের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের প্রথম সচিবসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে এই সভায় অংশ নিতে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও জানা গেছে, এই সভার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, মিশনগুলোতে বাংলাদেশ থেকে একজন করে আইনবিষয়ক কর্মকর্তা এবং নিজ নিজ মিশনে স্থানীয়ভাবে একজন করে আইন সহকারী এবং গাড়িচালকের পদ সৃষ্টি করার প্রক্রিয়া আলোচনা করা।

তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এমন উদ্যোগে রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং মিশনগুলোতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তারা বলছেন, বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে শ্রম কল্যাণ উইংয়ে ইতোমধ্যে চারজন করে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা হলেন ফার্স্ট সেক্রেটারি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, স্টেনোগ্রাফার বা ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, অনুবাদক বা ওয়েলফেয়ার অফিসার এবং গাড়িচালক (লোকাল)। এরপর সেখানে আরও তিনজনের পদ সৃষ্টি হলে মোট লোকবল দাঁড়াবে সাতজনে।

জানতে চাইলে নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একটি দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জোরপূর্বক মিশনগুলোতে এই শ্রম উইং করা হয়। তখনো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামতের তোয়াক্কা করা হয়নি। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো মূলত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারিত অংশ। সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে ক্যাবিনেট ডিভিশন, আইন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় হয়ে জাতীয় সংসদকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। দেশের পর আসে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর বিষয়। বিদেশি মিশনে কোনো পদ সৃষ্টি করতে হলে সেই পদের কর্মকর্তার ‘ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি’সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয় আছে। এগুলোর জন্য স্বাগতিক দেশের অনুমতি নিতে হয়।’

এই রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘বিদেশে দূতাবাসে একজন কূটনীতিক সব ধরনের কাজ করে—সেটা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রেস, প্রতিরক্ষা, শ্রম সবকিছু। একজন পেশাদার কূটনীতিককে সেভাবেই প্রশিক্ষিত করা হয়। সেখানে বাইরের কোনো কর্মকর্তার পদায়ন কতটুকু যুক্তিযুক্ত? পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি চাইলে কোনো উপজেলায় “লিয়াজোঁ কর্মকর্তা” রাখতে পারবে যে ওই উপজেলায় কখনো কোনো বিদেশি গেলে তার সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব থাকবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই লিয়াজোঁ কর্মকর্তার? এমনটা হবে? অনেক মিশন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আরও দু-একজন কর্মকর্তা দিয়ে চলে। সেখানে শুধু শ্রম উইংয়েই সাতজন কর্মকর্তা হবে। সরকারের অর্থ ব্যয় হবে এতে।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক ড. বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সকল পক্ষের মতামত এবং সম্মতি নিয়েই এমন পদ তৈরি করা উচিত। সেটি করা হয়েছে কি না অথবা তারা (প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়) এমনটা করবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়। তবে অতীতে এ ধরনের পদায়নে পেশাদারত্বের থেকে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ হয়েছে, যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মিশনে প্রেস সেক্রেটারি পদে পেশাদারত্ব বা দক্ষতার তুলনায় দলীয়করণ বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে মিশনের অনেক ক্ষতি হয় কারণ তারা কাজও পারে না; উল্টো ঝামেলা তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রেও যেন সমন্বয়ের মাধ্যমে সবার সঙ্গে আলোচনা করে পদায়ন করা হচ্ছে কি না, সেটা দেখতে হবে।’

এ ধরনের পদায়নের সঙ্গে আর্থিক বিষয় জড়িত কি না, এমন প্রসঙ্গে ড. ইমতিয়াজ বলেন, ‘অবশ্যই। এ জন্যই দেখতে হবে যে এ ধরনের পদ বা কর্মকর্তার প্রয়োজন আছে কি না, উদ্দেশ্য কী। (বিদেশি রাষ্ট্রগুলোতে) আমাদের ভাবমূর্তি এমনিতেই নেতিবাচক অবস্থায় আছে। সেটাকে তুলে আনতে হবে। ইতিবাচক ভাবমূর্ত ফিরিয়ে আনতে হলে পেশাদারিত্ব প্রয়োজন।’

তবে এ বিষয়ে শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কয়েক দফা চেষ্টা করা হলেও অনুষ্ঠিতব্য সভার সভাপতি প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার আহমেদের মুঠোফোন যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পরে যোগাযোগের কারণ উল্লেখ করে ওই নম্বরে খুদেবার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।